• শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ২ ১৪২৮

  • || ০৮ সফর ১৪৪৩

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
`লাশের নামে একটা বাক্সো সাজিয়ে-গুজিয়ে আনা হয়েছিল` টকশোতে কে কী বলল ওসব নিয়ে দেশ পরিচালনা করি না: প্রধানমন্ত্রী উপহারের ঘরে দুর্নীতি তদন্তে দুদককে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী জিয়াকে আসামি করতে চেয়েছিলাম: প্রধানমন্ত্রী এটা তো দুর্নীতির জন্য হয়নি, এটা কারা করল? ওজোন স্তর রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে ওজোন স্তর রক্ষায় সিএফসি গ্যাসনির্ভর যন্ত্রের ব্যবহার কমাতে হবে ১২ বছরের শিক্ষার্থীরা টিকার আওতায় আসছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে শোক প্রস্তাব নিতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী এই সংসদে একের পর এক সদস্য হারাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার রূপরেখা সাজানোর নির্দেশ শিক্ষা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করা অপরিহার্য: প্রধানমন্ত্রী আগেরবার সব ভালো কাজের জন্য মামলা খেয়েছিলাম: প্রধানমন্ত্রী উৎপাদন খরচ অনেক, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন: প্রধানমন্ত্রী আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে: প্রধানমন্ত্রী স্কুল ড্রেস নিয়ে শিক্ষার্থীদের চাপ না দিতে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ ‘মন্ত্রী-এমপির সন্তান পরিচয়ে নয়, সাংগঠনিক মূল্যায়নে মনোনয়ন’ কিছু লোক হাতুড়ি-শাবল দিয়ে আশ্রয়ণের ঘর ভেঙেছে

ফিজিওথেরাপি কি, কেনো প্রয়োজন?

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ফিজিও (শারীরিক) ও থেরাপি (চিকিৎসা)- এ দুইটি শব্দ থেকে এসেছে ফিজিওথেরাপি শব্দটি। এটি একটি স্বতন্ত্র চিকিৎসাব্যবস্থা, যেখানে শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। শুধু ওষুধ সব রোগের পরিপূর্ণ সুস্থতা দিতে পারে না। বিশেষ করে বিভিন্ন মেকানিক্যাল সমস্যা থেকে যে সব রোগের সৃষ্টি হয়, তার পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভের উপায় ফিজিওথেরাপি।

ফিজিওথেরাপি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অন্যতম এবং অপরিহার্য শাখা। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক স্বাধীনভাবে রোগীর বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা (প্রধানত বাত-ব্যথা, আঘাত জনিত ব্যথা, প্যারালাইসিস ,সড়ক দুর্ঘটনা, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, বিকলাঙ্গতা, পক্ষাঘাত ও বড় কোনো অস্ত্রোপচারের পর রোগীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাসহ বিভিন্ন ধরনের বাত,মাথা,ঘাড়,কাঁধ,পিঠ,কোমর ও হাঁটুর ব্যথা এবং স্পোর্টস ইনজুরিতে পরিপূর্ন চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন ফর ফিজিক্যাল থেরাপি (ডব্লিউসিপিটি)-এর মতে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক প্রফেশনাল ডিগ্রিধারীরাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্ট এবং স্বাধীনভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারেন।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি
একজন ফিজিওথেরাপিষ্ট রোগীর রোগ বর্ণনা, ফিজিক্যাল টেষ্ট, ফিজিওথেরাপিউটিক স্পেশাল টেষ্ট, প্রয়োজন সাপেক্ষে বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল টেষ্ট এবং প্যাথলজিক্যাল টেষ্ট এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয় বা ডায়াগ্‌নোসিস করে থাকেন। অত:পর রোগীর সমস্যাঅনুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা অথবা ট্রিটমেন্ট প্লান করেন এবং সেই অনুযায়ী নিন্মোক্ত পদ্ধতিতে ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান করে থাকেন।
-ম্যানুয়াল থেরাপি
-ম্যানিপুলেটিভ থেরাপি
-মোবিলাইজেশন
-মুভমেন্ট উইথ মোবিলাইজেশন
-থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ
-ইনফিলট্রেশন বা জয়েণ্ট ইনজেকশন
-পশ্চারাল এডুকেশন
-আরগোনমিক্যাল কনসালটেন্সী
-হাইড্রোথেরাপি
-ইলেকট্রোথেরাপি বা অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে চিকিৎসা (যেমন: TENS, IRR, Traction ইত্যাদি)। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাতে মেশিনের ব্যবহার খুবই নগন্য।তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ড্রাগ্‌স বা ঔষধও ব্যবহার করতে হয়।

ফিজিওথেরাপির সূচনা
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নতুন কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি নয়। প্রাচীন গ্রিসে হিপোক্রেটিস ম্যাসাজ ও ম্যানুয়াল থেরাপির মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার সূচনা করেছিলেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ সালে হেক্টর ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার একটি শাখা ব্যবহার করতেন, যাকে বর্তমানে হাইড্রোথেরাপি বলা হয়। তথ্য-উপাত্ত অনুসারে ১৮৯৪ সালে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার বর্তমান ধারা অর্থাৎ ম্যানুয়াল থেরাপি, ম্যানিপুলেটিভ থেরাপি, এক্সারসাইজ থেরাপি, হাইড্রোথেরাপি, ইলেকট্রোথেরাপি প্রভৃতি প্রবর্তন করা হয়। নিউজিল্যান্ডে ১৯১৩ এবং আমেরিকায় ১৯১৪ সালে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু হয়।

বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৭৩ সালে আরআইএইচডি (বর্তমানে নিটোর) ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের (এমবিবিএস ও বিডিএস একই অনুষদের অধিভুক্ত) অধীন স্নাতক ডিগ্রি চালু করা হয়। বর্তমানে নিটোর, সিআরপি, পিপলস ইউনিভার্সিটি, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট কলেজ অব হেলথ সায়েন্সসহ ৭টি ইনস্টিটিউটে ফিজিওথেরাপি গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালু রয়েছে।

কোথায় চিকিৎসা নিবেন?
বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এর মধ্যে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পায় না এবং অপচিকিৎসার শিকার হন। আমাদের দেশে এই চিকিৎসাসেবাটি বিভিন্ন মহলের অপপ্রচার (ব্যায়াম ও স্যাক) ও অপব্যবহারের (কোয়ালিফাইড ফিজিওথেরাপিস্ট ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসক কর্তৃক ফিজিওথেরাপি পরামর্শ দেওয়া) কারণে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও পরামর্শ নেওয়ার জন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের কাছে যাবেন । কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালে বা ক্লিনিকে ভর্তি থেকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে হয়। সেক্ষেত্রে রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করে।

তবে আশার ব্যাপার হলো- মানুষ এখন অনেক সচেতন হচ্ছে, তাই তারা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও পরামর্শ নেওয়ার জন্য একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের খোঁজ করে তার তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিতে চান।