• রোববার   ২৬ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
পদ্মা সেতুর সফলতায় প্রধানমন্ত্রীকে কুয়েতের রাষ্ট্রদূতের অভিনন্দন নতুন প্রজন্মকে প্রস্তত হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী আমরা বিজয়ী জাতি, মাথা উঁচু করে চলবো: প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলের উন্নতির জন্য নিজের জীবন দেয়ার ওয়াদা- প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর ওপর হাজারো মানুষের ঢল ‘আছে শুধু ভালোবাসা, দিয়ে গেলাম তাই’ শিবচরের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ: পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন কংক্রিটের অবকাঠামো নয়, পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার: প্রধানমন্ত্রী এ সেতু স্পর্ধিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি: প্রধানমন্ত্রী ৪২টি পিলার বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার ভিত: প্রধানমন্ত্রী ‘সর্বনাশা’ থেকে ‘সর্বআশা’ পদ্মা পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু পদ্মার বুক চিরে বাংলাদেশের ‘সাহস’ পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেশের জন্য গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক দিন সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর মতো সব প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন কামনা করছি: রাষ্ট্রপতি দখিনা দুয়ার খুলছে আজ

হার্নিয়াকে যেভাবে হারাবেন

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২১ মে ২০২২  

হার্নিয়া হচ্ছে আশপাশের টিস্যু এবং পেশির দুর্বল স্থান ভেদ করে একটি অঙ্গ বা চর্বি টিস্যুর বাইরে বেরিয়ে আসা। এটি শুধু নারী-পুরুষ নয়, বাচ্চাদেরও হয়। স্থূলকায় ব্যক্তিদের এটি বেশি হতে দেখা যায়। হার্নিয়া একটি জটিল রোগ। এ রোগের প্রধান উপসর্গ ব্যথা। হার্নিয়া বড় হয়ে গেলে অস্ত্রোপচার করা লাগে। কিন্তু রোগীরা সহজে অস্ত্রোপচারে যেতে চান না। যার কারণে জটিলতা আরও বেড়ে যায়।   
হার্নিয়া কী

একটি বালতির মধ্যে ফুটো হয়ে গেলে যেমন পানি বাহিরে বেরিয়ে আসে, হার্নিয়াও তাই। আমাদের পেটের পেছনের দিকে থাকে হাড়, সামনে পেশি। তার ভেতরে থাকে অন্ত্র, নালি, চর্বি ইত্যাদি। কিন্তু পেটের মধ্যে কোথাও ফুটো হয়ে গেলে ভেতরের পদার্থগুলো বাহিরে বেরিয়ে আসতে চায়। আর একেই হার্নিয়া বলে।

যত ধরনের হার্নিয়া হতে পারে

১. ফিমোরাল হার্নিয়া।
২. হায়াটাল হার্নিয়া।
৩. আমব্লায়াকাল হার্নিয়া।
৪. ইঙ্গুয়াল হার্নিয়া।

হার্নিয়া খুবই জটিল একটা রোগ। এটি হলে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এমনকি ভুক্তভোগী ব্যথার কারণে শয্যাশায়ী পর্যন্ত হয়ে পড়েন। এ ক্ষেত্রে এই রোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। নইলে রোগ এত দ্রুত বেড়ে যায় যে পরবর্তী সময়ে ব্যথা সহ্য করা যায় না।

কোথায় হতে পারে প্রাইমারি হার্নিয়া
ভ্রূণ অবস্থায়ই ছেলেদের গোনাড অঙ্গ শরীরের বাইরে আসে। সেখানে দুর্বলতা সৃষ্টি হলে গ্রোইন হার্নিয়া হতে পারে। বয়স্ক পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার্নিয়া বেশি হয়। গ্রোইনের মতো নাভিও আর একটি ‘উইক স্পট’। স্থূলতার কারণে নাভিতেও হার্নিয়া হতে পারে।

বেশ কয়েকবার গর্ভবতী হলে নারীদের তলপেটের অংশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ব্যায়াম না করলে মেয়েদের তলপেট দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হতে পারে আম্বিলিক্যাল হার্নিয়া।
 
সেকেন্ডারি বা ইনসিশনাল হার্নিয়া
অস্ত্রোপচারের পরবর্তী সেলাইয়ের সঙ্গে স্বাভাবিক ক্ষতের পার্থক্য আছে। সেলাইয়ের ক্ষতের পেশিগুলোর শক্তি স্বাভাবিক ক্ষতের চেয়ে কম হয়। এ সময় যদি রোগী কাশেন বা অতর্কিত জোর দিয়ে ফেলেন, বেশি কাজকর্ম করেন, তবে ক্ষতে সংক্রমণ হতে পারে। তার থেকে বা কোনো কারণে সেলাই খুলে গেলে ইনসিশনাল হার্নিয়া হয়।

নারীদের সিজারিয়ান সেকশন বা হিস্টেরেক্টমির পর তলপেটে এই হার্নিয়া দেখা যায়। হয়তো রোগী কেশেছেন, বমি করেছেন বা ওবিস ছিলেন, তাই সমস্যাটি হয়েছে।

যেকোনো অস্ত্রোপচারের পরই এই হার্নিয়া হতে পারে। ক্যানসার রোগীর অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক দুর্বলতার জন্য ঘা না শুকালেও হার্নিয়া হয়। পেটে ফুটা বা সংক্রমণের জরুরিভিত্তিক অস্ত্রোপচারের পরও ঘা পেকে হার্নিয়া হতে পারে।

হার্নিয়ার পেছনে কোন কোন রোগ থাকে?

হার্নিয়ার পেছনে থাকতে পারে অনেক সমস্যা। এ ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার নানা সমস্যা থেকে শুরু করে ডায়েট, ধূমপান ইত্যাদি কারণ থেকে দেখা দিতে পারে এ সমস্যা। আসুন সে সম্পর্কে জানা যাক।

১. ওবেসিটি।
২. প্রেগন্যান্সি।
৩. পেটের পেশিতে বেশি চাপ পড়া।
৪. খুব কাশি।
৫. বেশি ওজন তোলা।
৬. নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্য।
৭. ধূমপান, বাজে খাদ্যাভ্যাস, অন্যান্য তামাকজাত পদার্থ ইত্যাদি।
 
রোগের লক্ষণ

কুঁচকিতে, নাভির কাছে বা পুরোনো অস্ত্রোপচারের ক্ষতের কাছে কোনো ফোলা ভাব থাকলে, সেখানে ব্যথা হলে হার্নিয়া হতে পারে। কাশির সঙ্গে ওই ব্যথা বাড়তে পারে। সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
 
আরোগ্যের রাস্তা

সাধারণত হার্নিয়ায় অস্ত্রোপচার করাতে হয়। তবে সব ক্ষেত্রে সার্জারির দরকার নেই। ৭০-৮০ বছরের পুরুষের গ্রোইন হার্নিয়া হলে অনেক সময়ই কোনো কষ্ট থাকে না। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক কিছু দিন তার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন। হয়তো কিছু করার দরকারই পড়ল না।
 
নাভির কাছে বা ইনসিশনাল হার্নিয়ায় এই ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি চলবে না। এই হার্নিয়া আস্তে আস্তে বাড়তে পারে। খাদ্যনালি বা চর্বি তো ওই হার্নিয়ার মধ্য দিয়ে বাইরে বের হয়ে এসেছে। তাই কখনো সেখানে রক্তসঞ্চালন আটকে গেলে গ্যাংগ্রিন হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আম্বিলিক্যাল ও ইনসিশনাল হার্নিয়ায় কিন্তু এই বিপদ আছে।
 
হার্নিয়া ফেলে রাখলে বড় হয়ে যেতে পারে। তখন রোগীর শ্বাসকষ্ট, পিঠে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য হবে। তা ছাড়া হার্নিয়া বড় হলে সার্জারিতে সাফল্য পাওয়াও মুশকিল। কোনো কোনো গ্রোইন হার্নিয়া ছাড়া সব হার্নিয়ায় সময়মতো সার্জারি (সুযোগ থাকলে ল্যাপারোস্কোপি) করানো উচিত। হার্নিয়া বাড়লে মাইক্রোসার্জারি না-ও চলতে পারে। তখন ওপেন সার্জারি করা হয়। কম্পোনেন্ট সেপারেশন টেকনিকের সাহায্যে কমপ্লেক্স হার্নিয়া সার্জারিও হয়।

না কেটে অস্ত্রোপচার করলে ৫-৭ দিনে এবং কাটতে হলে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। তবে আগে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রেই বড় হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার ব্যর্থ হতো। নতুন প্রযুক্তিতে কিন্তু হার্নিয়া ফিরে আসার ঘটনা ১০ শতাংশেরও কম।
 
শল্যচিকিৎসককে অবশ্যই জিজ্ঞেস করে নেবেন, হার্নিয়া অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে কোন জালি ব্যবহার করা উচিত। ছোট হার্নিয়া থেকে ক্যানসার হয় না। তবে আর একটা হার্নিয়া বা রেকারেন্ট হার্নিয়া হয়ে যেতে পারে। রোগীর সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে রেকারেন্ট হার্নিয়ার হার অনেকটাই কমানো গিয়েছে।

ওজন বশে থাকলে প্রাইমারি হার্নিয়াকে ঠেকিয়ে রাখা যায়। সদ্যোজাতেরও জন্মগত হার্নিয়া হতে পারে। তবে গত ১০ বছরে হার্নিয়া চিকিৎসা খুবই এগিয়ে গিয়েছে। রোগ থাকলে তার প্রতিকারও রয়েছে। তাই অকারণে ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মেনে চলুন কিছু বিষয়

১. বেশি ওজন তুলতে যাবেন না।
২. কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে কমানো যেতে পারে সে বিষয়টি লক্ষ রাখুন।
৩. ধূমপান বন্ধ করুন।
৪. বেশিক্ষণ গাড়ি চালাতে যাবেন না।
৫. মোটামুটি ছয় সপ্তাহ জিমে যাওয়া যাবে না।