• শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ২ ১৪২৮

  • || ০৯ সফর ১৪৪৩

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
`লাশের নামে একটা বাক্সো সাজিয়ে-গুজিয়ে আনা হয়েছিল` টকশোতে কে কী বলল ওসব নিয়ে দেশ পরিচালনা করি না: প্রধানমন্ত্রী উপহারের ঘরে দুর্নীতি তদন্তে দুদককে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী জিয়াকে আসামি করতে চেয়েছিলাম: প্রধানমন্ত্রী এটা তো দুর্নীতির জন্য হয়নি, এটা কারা করল? ওজোন স্তর রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে ওজোন স্তর রক্ষায় সিএফসি গ্যাসনির্ভর যন্ত্রের ব্যবহার কমাতে হবে ১২ বছরের শিক্ষার্থীরা টিকার আওতায় আসছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে শোক প্রস্তাব নিতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী এই সংসদে একের পর এক সদস্য হারাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার রূপরেখা সাজানোর নির্দেশ শিক্ষা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করা অপরিহার্য: প্রধানমন্ত্রী আগেরবার সব ভালো কাজের জন্য মামলা খেয়েছিলাম: প্রধানমন্ত্রী উৎপাদন খরচ অনেক, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন: প্রধানমন্ত্রী আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে: প্রধানমন্ত্রী স্কুল ড্রেস নিয়ে শিক্ষার্থীদের চাপ না দিতে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ ‘মন্ত্রী-এমপির সন্তান পরিচয়ে নয়, সাংগঠনিক মূল্যায়নে মনোনয়ন’ কিছু লোক হাতুড়ি-শাবল দিয়ে আশ্রয়ণের ঘর ভেঙেছে

কিশোর কুমারের জানা-অজানা যত তথ্য

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২১  

ভারতের খ্যাতিমান গায়ক কিশোর কুমার। কোনো চর্চা ছাড়াই সুরেলা কণ্ঠের অধিকারী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ‘বিস্ময়’ শব্দটা যেন তারই সমার্থক। তার ৯২তম জন্মবার্ষিকীতে জেনে নেওয়া যাক এই কিংবদন্তির জীবনের কিছু জানা-অজানা তথ্য।

আইনজীবী কুঞ্জলাল গঙ্গোপাধ্যায় এবং তার স্ত্রী গৌরীদেবীর ছোট ছেলে ছিলেন কিশোর কুমার। ১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট জন্মের পর তার নাম ছিল আভাস কুমার। ব্রিটিশ ভারতের সেন্ট্রাল প্রভিন্সের (বর্তমান মধ্যপ্রদেশ)-এর খণ্ডোয়া অঞ্চলে জন্ম তার। সেখানে এক সম্পন্ন পরিবারের ব্যক্তিগত আইনজীবী হয়ে কর্মরত ছিলেন কুঞ্জলাল।


একাধারে গায়ক, অন্যধারে অভিনেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত কিশোর কুমার ব্যক্তিগত জীবনে ৪ বার বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তবে শোনা গেছে, ৪ বারের দাম্পত্য জীবনের পরেও ঠিক সুখী হতে পারেননি কিশোর কুমার।

১৯৫০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ভাইঝি রুমা গুহ ঠাকুরতার সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন কিশোর কুমার। রুমা নিজে একজন অভিনেত্রী, গায়িকা হওয়া ছাড়াও, একজন সক্রিয় সমাজকর্মী হিসেবেও কাজ করেছিলেন। সেই সঙ্গে কলকাতা ইয়ুথ কয়্যারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।

১৯৫২ সালে ছেলে অমিত কুমারের জন্মের পর কিশোর কুমার চেয়েছিলেন রুমা বাড়িতেই থাকুক এবং তাদের ছেলের দেখাশোনা করুক। যদিও রুমা গুহ ঠাকুরতা তার অর্জিত স্টারডমকে ছেড়ে দিতে চাননি। সেখান থেকেই কিশোর কুমার ও রুমা গুহ ঠাকুরতার মধ্যে মত বিরোধের সূত্রপাত হয়। বিয়ের ৮ বছর পর ১৯৫৮ সালে কিশোর ও রুমার বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়।

কিশোর কুমার ও তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন রুমা গুহ ঠাকুরতার একমাত্র সন্তান অমিত কুমার। ১৯৫২ সালে জন্ম হয় অমিতের। অমিত কুমারও একজন প্রতিষ্ঠিত গায়ক।

অমিত কুমার অনেক হিন্দি সিনেমার জন্য প্লেব্যাক করেছেন এবং একাধিক বাংলা গানের অ্যালবামও বের করেছেন। আবার গান গাওয়ার পাশাপাশি অমিত কুমার অভিনয়ও করেছেন এবং আবার সঙ্গীত পরিচালনাও করেছেন। ১৯৮১ সালে 'লাভ স্টোরি' সিনেমার 'ইয়াদ আ রাহি হে' গানের জন্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডও পান অমিত কুমার।

জানা গেছে, রুমার গুহ ঠাকুরতার সঙ্গে বিচ্ছেদের আগেই মধুবালার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন কিশোর কুমার। ১৯৬০ সালে তিনি বিয়ে করেন মধুবালাকে। গঙ্গোপাধ্যায় পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। যদিও কিশোর কুমার এবং মধুবালার সেই দাম্পত্য সুখের হয়নি।

বিয়ের এক মাস পরেই গুরুতর অসুস্থ মধুবালা ফিরে যান তার নিজের বাংলোয়। চিকিৎসকরা জানান, মধুবালার হৃৎপিণ্ডে জন্মগত ছিদ্র রয়েছে, তিনি আর দুবছর বাঁচবেন। ১৯৬৯ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা যান মধুবালা। মধুবালার অভিযোগ, তার সঙ্গে শেষের দিকে যোগাযোগ রাখেননি কিশোর কুমার।

যোগিতা বালী ছিলেন কিশোর কুমারের তৃতীয়া স্ত্রী। মধুবালার মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পরে, যোগিতা বালীর প্রেমে পড়েন তিনি। যোগিতা বালী হলো শাম্মী কাপুরের প্রথমা স্ত্রী গীতা বালির ভাইঝি। ১৯৭৬ সালে যোগিতা বালীকে বিয়ে করেন কিশোর কুমার। তবে সেই বিয়ে স্থায়ী হয়েছিল মাত্র দু'বছর।

বিয়ের ঠিক পরপরই ‘খোয়াব’ ছবির শুটিংয়ে প্রথম আলাপ হয় মিঠুন-যোগিতা বালীর। মিঠুন চক্রবর্তীর প্রেমে পড়েই নাকি কিশোর কুমারের কাছ থেকে দূরে সরে আসেন যোগিতা। এর ফলে একসময় কিশোর কুমারের সঙ্গে মিঠুনের বিরোধ চরম পর্যায়ে চলে যায়। মিঠুনের জন্য গান গাইতে অস্বীকারও করেছিলেন কিশোর।

বিয়ের মাত্র ১১ মাসের মধ্যে প্রথম স্বামীকে হারান লীনা। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর কাজের সুবাদেই কিশোর কুমারের সঙ্গে আলাপ হয় দক্ষিণের অভিনেত্রী লীনা চন্দভরকরের। এরপর আস্তে আস্তে আলাপ গভীর হয়। তবে কিশোর কুমারের আগে তিনবার বিয়ে হওয়া এবং ২১ বছরের বড় হওয়ায় তার সঙ্গে বিয়েতে মত ছিল না লীনার পরিবারের।

পরিবারের সবার মতামত পাওয়ার পরেও বিয়েতে বিলম্ব হয়। কারণ, তখনও কিশোর কুমারের সঙ্গে তার তৃতীয় স্ত্রী যোগিতা বালির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়নি। যোগিতার সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদের পরে ১৯৮০ সালে কিশোর কুমার বিয়ে করেন লীনাকে।

লীনাকে বিয়ে করার দু’বছর পর জন্ম হয় তাদের সন্তান সুমিত কুমারের। ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর মৃত্যু হয় কিশোরের। তখন সুমিতের বয়স মাত্র ৫। জীবনের এই কঠিন পরীক্ষার সময় লীনার পাশে ছিলেন অমিত কুমার। তিনিই ছায়ার মতো আগলে রেখেছিলেন ভাই সুমিতকে।