• শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

  • || ১৩ শা'বান ১৪৪৫

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের আহ্বান সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ২১ বছর সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনি: শেখ হাসিনা হঠাৎ টাকার মালিক হওয়ারা মনে করে ইংরেজিতে কথা বললেই স্মার্টনেস ভাষা আন্দোলন দমাতে বঙ্গবন্ধুকে কারান্তরীণ রাখা হয় : সজীব ওয়াজেদ ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধিকার পেয়েছে অশিক্ষার অন্ধকারে কেউ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী একুশ মাথা নত না করতে শেখায়: প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মিউনিখ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে নিমন্ত্রণ বাংলাদেশের গুরুত্ব বুঝায় গুণীজনদের সম্মাননা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি একুশে পদকপ্রাপ্তদের অনুসরণ করে তরুণরা সোনার বাংলা বিনির্মাণ করবে আজ একুশে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী মিউনিখ সফর শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী বরই খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যু, কারণ অনুসন্ধান করবে আইইডিসিআর দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দিন: প্রধানমন্ত্রী গাজায় যা ঘটছে তা গণহত্যা: শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

পেঁয়াজের দামে আগুন, কেজি ২৪০

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর ২০২৩  

ফের অস্থির পেঁয়াজের বাজার। ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। রাতের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়ে কেজি প্রতি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৪০ টাকায়। আর কেজিতে ৯০ টাকা বেড়ে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। কেউ কেউ ২২০ টাকাও দাম হাঁকছেন।  

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সূত্রাপুর, ধূপখোলা মাঠ বাজার, শ্যামবাজার, রায়সাহেব বাজার, নয়াবাজারসহ কয়েকটি বাজারে ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারত। নিজেদের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড বা বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক মহাপরিচালকের কার্যালয় গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকবে। এই নির্দেশনা গতকাল শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল থেকেই রাজধানীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। কেজিপ্রতি ১২০ টাকা বেড়ে পেঁয়াজের দাম গিয়ে উঠেছে ২৪০ টাকা। আর ১০৫-১১০ টাকা কেজি দরের ভারতীয় পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতাদের এখন দিতে হচ্ছে ২০০ টাকা।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। এজন্য পাইকাররা দেশি পেঁয়াজ ছাড়ছেই না। শ্যামবাজারেও ভোরে যে দাম ছিল, সকাল ৯টায় তা মণপ্রতি ৮০০-১০০০ টাকা বেড়ে গেছে। বিকেল নাগাদ বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তারা।

সূত্রাপুর বাজারের খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বলরাম সাহা বাংলানিউজকে বলেন, গত কয়েক দিন ধরেই বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তি। পাইকারি বাজারে আমাদের কেনাই বেশি পড়ছে। যে কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাবে পড়েছে। ভোরে শ্যামবাজার থেকে বহু কষ্টে এলসির (ভারতীয়) দুই মণ পেঁয়াজ এনেছি। আমি পাইকারিতে কিনেছি ৭ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে। আনতে খরচ পড়ছে ৪০০-৪৫০ টাকা। এখন ২০০ টাকা কেজি না বেচলে তো লস।

পাইকারি ব্যবসায়ী স্মৃতি বাণিজ্যালয়ের ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, শ্যামবাজারে পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজের মণ এখন ৮ হাজার ৮০০ টাকা। যা প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ে ২২০ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজের মণ ৭ হাজার ৬০০ টাকা। আর প্রতিকেজির দাম পড়ে ১৯০ টাকা। মূলত ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণায় এ দাম বেড়েছে। গতকাল সকালেও আমরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাইকারিতে ১১০ টাকা বিক্রি করেছি। আজকে সকালে সেটা ২২০ টাকা বিক্রি করছি৷ তবে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে সম্পূর্ণরূপে উঠলে কমতে পারে দাম। আর ফেব্রুয়ারিতে নতুন পেঁয়াজের চাষ শুরু হলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে।

এ বিষয়ে শ্যামবাজারের মেসার্স রাজিব বাণিজ্য ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী প্রদেশ পোদ্দার বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমছে৷ ফলে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছে দাম। কিন্তু উৎপাদন স্বাভাবিক থাকার পরও হঠাৎ কেন পেঁয়াজের বাজারে এই অস্থিরতা! জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, ভারত সরকারের বেঁধে দেওয়া রপ্তানি মূল্য ৮০০ মার্কিন ডলার মূল্যেই বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত ছিল। কিন্তু ইতোমধ্যেই ভারত সরকার আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছে। তাদের এমন সিদ্ধান্তের কারণে দেশের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  

সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের দাবি জানান তিনি।

সূত্রাপুরে বাজার করতে আসা হারুন শেখ বলেন, বাজারে দেশি পেঁয়াজ ২৪০ টাকা কেজির নিচে নেই। আর ভারতের পেঁয়াজ ২০০ টাকা কেজি। দুদিন আগেও দেশি পেঁয়াজ কিনলাম ১২০ টাকা করে। রাতের মধ্যেই বেড়ে গেল ১২০ টাকা। এটা কেমন কথা দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৫০ টাকা চাওয়া হয়েছে। এভাবে হলে আমরা কীভাবে চলবো!

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ড. গোলাম রহমান বলেন, ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামে নিদারুণ কষ্টে পরিবার নিয়ে সময় কাটছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের। বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নিতে অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে কিনা–সেটি খুঁজে বের করতে বাজার তদারকির বিকল্প নেই। দুর্ভাগ্য, এখনও মাঠ পর্যায়ে কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

এবিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের বিষয়টি নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। চলতি মাসে বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ উঠলে দাম কমবে। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতেই নতুন পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘কারসাজি চক্র’ সব সময়ই সুযোগ খোঁজে পণ্যের দাম বাড়ানোর। তবে আমরা বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি বন্ধে অভিযান জোরদার করব।

বিরূপ আবহাওয়ায় ফলন ভালো না হওয়ায় ভারত নিজেদের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ২৯ অক্টোবর প্রতি টন পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৮০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দেয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। তবে কোনো দেশের সরকারের অনুরোধে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রপ্তানির সুযোগ দিতে পারবে বলে দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেডের (ডিজিএফটি) আদেশে জানানো হয়েছে।  

এছাড়া, এরই মধ্যে যারা পেঁয়াজ আমদানির এলসি চালু করেছেন, তাদের মধ্যে যারা আদেশ জারির আগেই পণ্য জাহাজিকরণ শুরু করেছেন, তারা এর আওতামুক্ত থাকবেন। এছাড়া শিপিং বিল দপ্তরে জমা দিলে এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজ বন্দরে ভিড়লে বন্দর কর্তৃপক্ষ এ ধরনের চালান অনুমোদন করতে পারবে।  

বর্তমানে ভারতের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ রুপির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু রপ্তানি বন্ধের সংবাদে বাংলাদেশে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকায় উঠে গেছে। যা একদিন আগেও যথাক্রমে দেশি পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, আর আমদানিকৃত পেঁয়াজ ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।  

গত কিছুদিন ধরেই দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের খুচরা দর সর্বোচ্চ ৬৫ টাকায় নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু এ দরে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা যায়নি। পরে সরকার পেঁয়াজ আমদানি উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এরপরও পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসেনি।