• বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৫ ১৪৩১

  • || ১১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
শেখ হাসিনার ভারত সফর: আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে ফিলিস্তিনসহ দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান আসুন ত্যাগের মহিমায় দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করি: প্রধানমন্ত্রী তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে কোরবানির পশু বেচাকেনা এবং ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তার নির্দেশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের কাছে ঋণ চেয়েছি গ্লোবাল ফান্ড, স্টপ টিবি পার্টনারশিপ শেখ হাসিনাকে বিশ্বনেতৃবৃন্দের জোটে চায় শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিতে সকল খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত করতে হবে শিশুশ্রম নিরসনে প্রত্যেককে আরো সচেতন হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়িদের প্রতি নিয়ম নীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান বিনামূল্যে সরকারি বাড়ি গৃহহীনদের আত্মমর্যাদা এনে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জিসিএ লোকাল অ্যাডাপটেশন চ্যাম্পিয়নস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ আশ্রয়ণের ঘর মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি তৈরি করে দেব : প্রধানমন্ত্রী নতুন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাচ্ছে সাড়ে ১৮ হাজার পরিবার শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সোনিয়া গান্ধী মোদীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেখ হাসিনা-মোদি বৈঠকে দু’দেশের সম্পর্ক আগামীতে আরো দৃঢ় হবে

বছর শেষে আসছে রূপপুরের বিদ্যুৎ

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৪  

দেশের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লাইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা গেলে চলতি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। আর প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে ২০২৫ সালে। সব ঠিক থাকলে বাণিজ্যিকভাবে দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে যাবে ২০২৬ সালে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা এসব তথ্য দিয়ে জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুতিমূলক সব কাজ এখন চূড়ান্ত ধাপে এগিয়ে চলছে। রাশিয়ার অর্থায়নে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ তত্ত্বাবধান করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট ২০২৪ সালে আর অপরটি ২০২৬ সালে উৎপাদনে আসবে।

গত বছর অক্টোবরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম বুঝে পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রকল্প চালুর পর পাঁচ থেকে ছয় বছর বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা কেন্দ্রটি পরিচালনা করবেন। পরে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্ব বুঝে নেবেন। প্রকল্পের সঞ্চালন লাইনের দায়িত্বে থাকা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লি. (পিজিসিবি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন নিয়ে যে শঙ্কা ছিল সেটিও কেটে যাচ্ছে। এই সঞ্চালন লাইনের স্থলভাগের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে সঞ্চালন লাইনের নদী পারাপারের কাজ এগিয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ। বাকি আছে নদীর ওপর টাওয়ার স্থাপনের কাজ। ডিসেম্বরের আগেই নদী পারাপারের কাজ শেষ করার জন্য এখন পুরোদমে চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে রূপপুর থেকে বগুড়া পর্যন্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিড লাইন পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এই লাইনে পিজিসিবি সফলভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করেছে। এর আগে রূপপুর-বাঘাবাড়ি লাইনের পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়।

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, আশা করছি, বছরের শেষ দিকে আমরা কেন্দ্রের ফুয়েল লোডিং শুরু করব। আর এর মধ্য দিয়েই রূপপুর প্রকল্পের মূল কার্যক্রম শুরু হবে। ফুয়েল লোডিং শেষে পরবর্তীতে পাওয়ার স্টার্ট আপসহ বেশ কিছু ধাপ আছে। এর মধ্যে সঞ্চালন লাইনের নির্মাণ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। পিজিসিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঞ্চালন লাইন তৈরির কাজ সাতটি প্যাকেজে চলছে। এর মধ্যে রূপপুর থেকে বাঘাবাড়ি পর্যন্ত ৬৫ দশমিক ৩১ কিমি. ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণকাজের অগ্রগতি শতভাগ। আমিনবাজার থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ৫১ কিমি. নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৯০ শতাংশের বেশি। রূপপুর থেকে ঢাকা (আমিনবাজার-কালিয়াকৈর) ১৪৭ কিমি. নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জ পর্যন্ত ১৪৪ কিমি.-এর অগ্রগতি ৭০ শতাংশের মতো। ধামরাই পর্যন্ত ১৪৫ কিমি.-এর অগ্রগতি ৬০ শতাংশের কিছু বেশি। বগুড়া পর্যন্ত ১০২ কিমি.-এর অগ্রগতি ৬০ শতাংশের মতো এবং ৯টি বে-এক্সটেনশন নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৩০ শতাংশের ওপর। সব মিলিয়ে স্থলভাগের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে স্থলভাগের সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হলেও রিভার ক্রসিংয়ের কাজের অগ্রগতি অনেকটা পিছিয়ে আছে। এ প্যাকেজে যমুনা ও পদ্মা নদীতে ৪০০ ও ২৩০ কেভির ১৬ কিমি. সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে যমুনা নদীর ওপর সাত কিমি. লাইন নির্মাণ করা হবে। আর পদ্মা নদীতে হবে দুই কিমি. লাইন। প্রথম ইউনিটের জন্য পদ্মা নদীতে রিভার ক্রসিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে ২৬ শতাংশ।

সম্প্রতি পিজিসিবির ব্যবস্থাপনার পরিচালক এ কে এম গাউছ মহীউদ্দিন বলেন, রূপপুরের সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ সময়মতো শেষ করার জন্য প্রতিদিন কেন্দ্রটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। রূপপুর কর্তৃপক্ষের টার্গেট চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট উৎপাদনে নিয়ে যাওয়ার। আমরা আশা করছি এ সময়ের মধ্যে আমরাও লক্ষ্য পূরণ করতে পারব।

আমাদের মোট চারটি টাওয়ার। বর্তমানে দুটি টাওয়ারে কাজ চলছে। নদীর মধ্যে যে দুটি টাওয়ার, তার হ্যামার এরই মধ্যে চলে এসেছে। আর দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আমাদের যমুনা রিভার ক্রসিং হবে। সেখানে আমাদের কাজ চলছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের সঞ্চালন লাইনের কাজের অগ্রগতি ২৬ শতাংশ আর দ্বিতীয় ইউনিটের কাজের অগ্রগতি ২২ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা বিশাল চ্যালেঞ্জের কাজ। এই কাজ করতে গিয়ে অনেকে মামলা করে। তখন কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতিদিনই এই কাজে আমাদের বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

জানা যায়, প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য তিনটি লাইন লাগবে। প্রথমটি হচ্ছে ২৩০ কেভি বাঘাবাড়ি থেকে রূপপুর। এটি ২০২২ সালে শেষ হয়েছে। এরপর রূপপুর থেকে বগুড়া ২০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ শেষ। আর গোপালগঞ্জ থেকে রূপপুরের সিঙ্গেল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ বাকি আছে। এটি ১০৫ কিমি.। ওভারল্যান্ডের কাজ বেশির ভাগই শেষ। এখন তিনটি টাওয়ারের কাজ চলমান আছে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে ওভারল্যান্ড অংশের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন বাকি থাকবে রিভার ক্রসিংয়ের কাজ।