• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৩ রজব ১৪৪৪

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
অন্যের কাছে আমরা হাত পাতবো না: প্রধানমন্ত্রী এখন কেউ আর কুঁড়েঘরে বাস করে না: প্রধানমন্ত্রী এখন আর হাওয়া ভবনে ‘পাওয়া’ দিতে হয় না- প্রধানমন্ত্রী ইংল্যান্ড বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে দেড়শ শতাংশ, মনে রাখতে হবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী ক্রয়মূল্য দিলে সবক্ষেত্রে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব লাইব্রেরিতে পড়াশোনার পরিবেশ তৈরিতে মনোযোগী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়: রাষ্ট্রপতি সবাইকে আইনানুযায়ী রাজস্ব প্রদানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির রাজস্ব আদায় বাড়াতে আরও উদ্যমী হোন, এনবিআরকে প্রধানমন্ত্রী সমৃদ্ধ রাজস্ব ভাণ্ডার গড়ে তোলার ওপর প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার মার্চে কাতার যাবেন প্রধানমন্ত্রী, সেপ্টেম্বরে ভারত সফরের সম্ভাবনা অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি কেউ রুখতে পারবে না জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে আসিনি: প্রধানমন্ত্রী সবাইকে হিসাব করে চলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কৃষি উন্নয়নের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া শিক্ষায় বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী জনস্বাস্থ্য নিশ্চিতে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের বিকল্প নেই জনগণকে বিশ্বাস করি, তারা যদি চায় আমরা থাকবো: প্রধানমন্ত্রী

কীর্তনখোলা নদী প্লাস্টিকজাতীয় বর্জ্যে ভাগারখানায় পরিণত হয়েছে - ব্যাহত হচ্ছে ড্রেজিং কাজ

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৩  

বরিশাল প্রতিনিধি: কীর্তনখোলা নদীর নাব্যতা ফেরাতে চলছে ড্রেজিং বা খনন কাজ। কিন্তু প্রতি বারো মিনিট পরপর আটকে যাচ্ছে ড্রেজার এবং ঘন্টা সময় ধরে পলিথিন ও প্লাস্টিকজাতীয় বর্জ্য অপসারণ করতে হচ্ছে ড্রেজারের লস্করদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে কাজের অগ্রগতি।

লঞ্চ-স্টিমার ও নৌযানসহ নগরীর ড্রেন থেকে নির্গত পলিথিন ও প্লাস্টিকজাতীয় বর্জ্যে অনেকটাই ভাগারখানায় পরিণত হয়েছে কীর্তনখোলা নদী। আর এতে করে লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি হুমকিতে পড়ছে নদীর জীববৈচিত্র্য। বিশেষজ্ঞদের মতে এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই কীর্তনখোলা নদীতে আর কোনো মাছের অস্তিত্ব থাকবে না। একই সাথে পানি দূষণের কারণে বিপর্যস্ত হবে নগরীর পরিবেশও।

নগরীর বিভিন্ন ড্রেন ও লঞ্চ থেকে পলিথিন-প্লাস্টিকের বর্জ্য ফেলা বন্ধ না হলে নদী ড্রেজিং করা দুরুহ হয়ে পড়বে। এতে কীর্তনখোলা নাব্যতা হারাবে বলে আশঙ্কার কথা জানান বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান।

প্রকৌশলী মিজানুর বলেন, “কিন্তু নদীর তলদেশে জমা হওয়া পলিথিন ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্যের কারণে খনন কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।প্লাস্টিকের কারণে একটু পর পর খননযন্ত্র আটকে যায়। খনন যন্ত্র পরিস্কার করে আবারও কাজ শুরু করতে হয়। এ কারণে খনন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।”

নগরীর বিভিন্ন ড্রেন থেকে কীর্তনখোলা নদীতে বর্জ্য বের হওয়া বন্ধ করার জন্য সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও সুয়ারেজ প্লান্ট ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে কীর্তনখোলা নদীতে খনন কাজ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন এই প্রকৌশলী।

সরেজমিনে বুধবার বরিশাল নৌ-বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে পলিথিন, প্লাস্টিকের বিভিন্ন ব্যাগ, ছেড়া জালসহ বহুবিধ ময়লা আবর্জনার স্তুপে ড্রেজার সুরমার ড্রেজিং মেশিন আটকে যাওয়ার দৃশ্য। নৌকা নিয়ে তিন-চার জন শ্রমিক কাচি দিয়ে কেটে কেটে সেই মেশিন পরিষ্কার করে নৌকা বোঝাই হলে ময়লাগুলো নিয়ে ফেলছেন সদর উপজেলার চরকাউয়ায় তৈরি বিআইডব্লিউটিএ এর নিজস্ব ভাগারখানায়।

ড্রেজারের চীফ মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম জানালেন, প্রতি বারো মিনিট পরপর মেশিন থামিয়ে এভাবেই পরিষ্কার করতে হচ্ছে। ঘন্টার বেশি সময় লাগছে এই মেশিন থেকে এসব আবর্জনা পরিষ্কার করতে। এতে করে তিনদিনের কাজ ১২ দিনেও শেষ হচ্ছে না। রফিক আরো জানান, বেশিরভাগ ময়লাই পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিভিন্ন বস্তু। এগুলো পচনশীল না হওয়ার কারণে নদীর ভিতরে জটপাকানো অবস্থায় পড়ে থাকে, এরসাথে পলিযুক্ত হয়ে আস্তরণ তৈরি করছে। নগরীর খালগুলো থেকেই বেশিরভাগ বর্জ্য এসে নদীতে পড়ছে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, বরিশাল নগরী কে ঘিরে ২২ টি খাল ছিলো। এর মধ্যে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সাতটি খাল পুনঃ খনন জরুরী। নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাও এই সাতটি খাল ও নদীর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে নগরীর সব বর্জ্য এসে নদীতে পরছে। আর এই প্লাস্টিক ও পলিথিন নগরবাসীর অসচেতনতার ফল বলে মনে করছেন বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, গত ৪ ডিসেম্বর থেকে কীর্তনখোলা নদীতে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য খনন কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু নদীতে এতোবেশী পলিথিন ও প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য যে তা অপসারণ করা খুবই কষ্টকর। আর এ জন্য নগরবাসী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের অসচেতনতাকেই দায়ী করেন তিনি।

তিনি বলেন, লঞ্চগুলো থেকেও যে নদীতে একেবারে কোনো বর্জ্য ফেলা হয় না একথা বলবোনা। তবে প্রতিটি লঞ্চেই বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব ময়লা ফেলার ডাম্প রাখা আছে। যাত্রীরা সেই ডাম্পে যেন ময়লা আবর্জনা ফেলে তা তদারকি করা হয়। তারপরও তা যথেষ্ট নয়। একইভাবে নগরীর ময়লা আবর্জনা নিয়ে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের সুদূর প্রসারী চিন্তা থাকা জরুরী।

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, ময়লা আবর্জনা জমে কীভাবে ড্রেজিং মেশিন আটকে যাচ্ছে এ দৃশ্য নগরবাসী ও নগরের খাল-নদী ও পরিবেশ নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের দেখা উচিত। পবা বা এ জাতীয় সংগঠনের বরিশালের নেতৃবৃন্দ এসে যদি স্বচক্ষে অবস্থা দেখেন তাহলে সমস্যার ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারবেন ও নগরবাসীর সামনে তা তুলে ধরতে পারবেন।

এ্যডভেঞ্চার ৯ লঞ্চের মাষ্টার আলমাস দেওয়ান বলেন, শীতের সময়ে এমনিতেই সব নদীতে নাব্যতা কম থাকে। নদী শাসনের এটাই উপযুক্ত সময়। কিন্তু এটা পরিকল্পিত হওয়া উচিত। প্রতিবছর এই ড্রেজিং হয়। মাস দুয়েক ঠিক থাকে, তারপর আবারও একই অবস্থা। এর স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত। প্রতিবার ড্রেজিং এ কত টাকার ক্ষতি হয় ভাবা উচিত।
 
কীর্তনখোলা নদীর এই বিপর্যস্ত অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, নগরীর সাতটি খাল পুনঃখনন ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা সুসংহত করতে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও তা সম্পন্ন করতে পারিনি। আমি আশাবাদী পরিস্থিতির বিবেচনায় কীর্তনখোলা নদী বাঁচাতে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সচেতন হবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দিতেও আমি প্রস্তুত রয়েছি।