• সোমবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৯

  • || ২৮ সফর ১৪৪৪

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারের সমুচিত জবাব দিন: প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ‘জাতিসংঘ অধিবেশনে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে’ জাতিসংঘে আজ বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু আজ বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস জলবায়ু ইস্যুতে ধনী দেশগুলোর অবদান ‘দুঃখজনক’: প্রধানমন্ত্রী আ.লীগ সব সময় জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসে: প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বিশ্বশান্তি ও মানবমুক্তির দিকদর্শন: আ.লীগ জাতিসংঘে ১৫ আগস্টের কথা স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা-নমপেন এফটিএ চুক্তিতে সম্মত দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল বাইডেনের অভ্যর্থনায় প্রধানমন্ত্রীর যোগদান রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন: প্রধানমন্ত্রী বাইডেনকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : জাতিসংঘের বলিষ্ঠ ভূমিকা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী চলমান বৈশ্বিক সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ জাতিসংঘে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর আলোকচিত্র প্রদর্শন সাফজয়ী ফুটবলার রূপনা চাকমার জন্য রাঙ্গামাটিতে ঘর নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা বিশ্বজুড়ে গভীরভাবে আঘাত করছে: প্রধানমন্ত্রী

আল্লাহকে খুশি করার পথ ‘তওবা’

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২  

‘আসতাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি’। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তার রহমতের কোলে ফিরা যাওয়ার পথ তওবা। তওবায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়। বেশি বেশি তওবায় আল্লাহ সবচেয়ে বেশি খুশি হন। দান করেন অসংখ্য নেয়ামত। তওবায় মহান আল্লাহ সীমাহীন খুশি হন। যে খুশির উপমা এসেছে হাদিসে। কী সেই হাদিস?
হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন, যার উট গভীর মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়ার পর আবার সে তা ফিরে পায়। (বুখারি ও মুসলিম)
হাদিসের অন্য বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন, যার খাবার পানীয় সামগ্রী নিয়ে সওয়ারি উটটি হঠাৎ গভীর মরুভূমিতে হারিয়ে গেলো। অনেক খোঁজাখুঁজির পর হতাশ হয়ে লোকটি একটি গাছের ছায়ায় শুয়ে পড়ল। এরূপ অবস্থায় হঠাৎ সে উটটিকে নিজের কাছে দাঁড়ানো দেখতে পেল। সে উটের লাগাম ধরে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বলতে লাগলো, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দাহ! আর আমি তোমার প্রভু! সে আনন্দে অতিশয্যেই এ ধরনের ভুল করে বসলো। (মুসলিম)

মানুষ অন্যায় করে যখন ভুল বুঝতে পারে তখনই আল্লাহর কাছে তওবা করে। ক্ষমা চায়। ওই মুহূর্তটি আল্লারহ কাছে খুবই খুশির মুহূর্ত। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তাঁর কাছে বেশি বেশি তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। যে তওবায় মিলে আল্লাহর নেয়ামত ও সন্তুষ্টি।

আল্লাহর নেয়ামত ও সন্তুষ্টি পেতে তওবা করুন এভাবে-
১. أَستَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
নিয়ম : প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ইসতেগফারটি ৩ বার পড়তেন।' (মিশকাত)

২. أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।‘
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।
নিয়ম : এ ইসতেগফারটি প্রতিদিন ৭০/১০০ বার পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তওবাহ ও ইসতেগফার করতেন।' (বুখারি)

৩. رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণ : 'রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা (আংতাত) তাওয়্যাবুর রাহিম।'
অর্থ : 'হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তওবা কবুলকারী করুণাময়।'
নিয়ম : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন।' (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

৪. أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : 'আস্‌তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।'
অর্থ : 'আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তওবাহ করে) ফিরে আসি।'
নিয়ম : দিনের যে কোনো ইবাদত-বন্দেগি তথা ক্ষমা প্রার্থনার সময় এভাবে তওবাহ-ইসতেগফার করা। হাদিসে এসেছে- এভাবে তওবাহ-ইসতেগফার করলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়।' (আবু দাউদ, তিরমিজি, মিশকাত)

৫. সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহ্দিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগ্ফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।'
অর্থ : 'হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নেয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।'
নিয়ম : সকালে ও সন্ধ্যায় এ ইসতেগফার করা। ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর এ ইসতেগফার পড়তে ভুল না করা। কেননা হাদিসে এসেছে- যে ব্যক্তি এ ইসতেগফার সকালে পড়ে আর সন্ধ্যার আগে মারা যায় কিংবা সন্ধ্যায় পড়ে সকাল হওয়ার আগে মারা যায়, তবে সে জান্নাতে যাবে।' (বুখারি)

৬. رَبِّغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির, ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।’

৭. অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি প্রতিদিন ৭০ বার-এর অধিক আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তওবা করি-
اَسْتَغْفِرُ الله وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আসতাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি’

৮. বিশেষ করে ক্ষমা, রিজিকের সন্ধান ও বরকত পেতে এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়া-
رَبِّ اغْفِرْلِىْ ذُنُوْبِىْ وَافْتَحْ لِىْ أَبْوَابَ فَضْلِكَ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফিরলি জুনুবি, ওয়াফতাহলি আবওয়াবা ফাদলিকা’
অর্থ : ‘হে আমার রব! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দাও; আর আমার জন্য তোমার অনুগ্রহের দরজা খুলে দাও।’ (তিরমিজি)

৯. اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ : 'আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওয়ুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।'
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালো বাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

১০. اَسْتَغْفِرُوا اللهَ العَظِيْم اِنَّ اللهَ غَفُوْرُ الرَّحِيْم
উচ্চারণ : 'আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম।'
অর্থ : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।

আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুসলিমাকে তওবার করে ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ দান করুন। পরিপূর্ণ তওবা করে আল্লাহ পথে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন। তওবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।