বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৬ ১৪২৬   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সহায়তায় সেইফ হোমে যাচ্ছে সুমি (ভিডিও)

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ১১:৪২ এএম, ৪ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

রূপসী বাংলা ওভারসিজের মাধ্যমে এ বছরের ৩০ মে সৌদি আরবে যান সুমি আক্তার। ভালো কাজের আশায় আরব দেশটিতে পাড়ি জমান কম বসয়ী এ নারী। সম্প্রতি সুমি ফেসবুক লাইভে আসেন। এ সময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার ওপর চলা পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তাকে দেশে ফেরানোর জন্য আকুতি জানান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ওই ভিডিও ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে সুমি নির্যাতনের নানা বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমি মনে হয় বাঁচব না।’ এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে তিনি বেঁচে আছেন।

এসব দৃষ্টি পড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। সংবাদমাধ্যমের খবরে বিষয়টি জানতে পারেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি সুমিকে উদ্ধারে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের রবিবার (৩ নভেম্বর) নির্দেশনা দেন।

এরই প্রেক্ষিতে সৌদি রাষ্ট্রদূতের কর্মকর্তারা নির্যাতনের শিকার সুমির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সুমিকে উদ্ধার করে সেইফ হোমে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

রবিবার (৩ নভেম্বর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে সুমি তার পরিবারকে জানান, দালালরা তাকে বিদেশে ভালো কাজের জন্য পাঠায়নি। বরং তারা তাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। দেশটিতে যাওয়ার ৭-৮ দিন পরই তার ওপর যৌন হয়রানি ও নানা নির্যাতন শুরু হয়। তাকে মাঝে মধ্যেই মারধর করা হতো।

প্রতিমন্ত্রীর এপিএস সিরাজুল ইসলাম জানান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দেশে থাকা সুমির পরিবারকে দুঃশিন্তা মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সুমির গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা সদর থানায়। তারা বাবা রফিকুল ইসলাম। তার স্বামী নুরুল ইসলাম। আশুলিয়ার চারাবাগের নুরুলের সঙ্গে দুই বছর আগে তার বিয়ে হয়।

নুরুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী সৌদিতে বড় বিপদে পড়েছে। সুমিকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে মারধর করা হয়েছে। এজন্য আমি থানায় মামলা করেছি। আমি আমার স্ত্রীকে দেশের মাটিতে দেখতে চাই।