রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩ ১৪২৬   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

বরিশালে তিন যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ০৬:১৪ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বরিশাল নগরীতে তিন যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে মারা যান তারা। মৃতরা হলেন- নগরীর হাটখোলা এলাকার জ্যোতি প্রকাশ রায়ের ছেলে সিদ্ধার্থ রায় মিঠুন (২৬), নরেশ কর্মকারের ছেলে বিকাশ কর্মকার (৩০) এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের গণপাড়া এলাকার পরিমল দাসের ছেলে রতন চন্দ্র দাস (২৭)।

মৃতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অসুস্থাবস্থায় রতন চন্দ্র দাসকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে নেয়া হলে রাত পৌনে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শেবাচিম হাপসাতাল থেকে রতন দাসের মৃত্যুর কারণ লেখা হয়েছে অতিরিক্ত বমির কারণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার (রতন) মৃত্যু হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম জাকির বিন আলম বলেন, রতন চন্দ্র দাসের মৃত্যুর কারণ হিসেবে যেহেতু হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ লেখা হয়েছে সে কারণে তার মরদেহ বুধবার রাতেই দাহ করা হয়েছে। 

রতনের পারিবারিক সূত্রও দাবি করেছে, বুধবার সন্ধ্যায় রতন বমি করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে এক/দেড় ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর সে মারা যায়। 

এদিকে নগরীর হাটখোলা এলাকার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ রায় মিঠুন ও বিকাশ কর্মকার পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। হাটখোলা এলাকার বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিজয়া দশমীর রাতে মিঠুন ও বিকাশসহ কয়েক বন্ধু মিলে মদপান করে। বুধবার সকাল থেকে মিঠুন ও বিকাশ অসুস্থ বোধ করলে তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়। 

মিঠুনের কাকাতো ভাই অভিক রায় জানান, বুধবার সারাদিন মিঠুন বাসায় ছিল। প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা ছিল তার। চিকিৎসকের কাছেও গিয়েছিল। অভিক জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যাথা অনুভব করায় সিদ্ধার্থ রায়কে শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। শেবাচিম হাসপাতাল থেকে দেওয়া সিদ্ধার্থের মুত্যুসনদে উল্লেখ্য করা হয়েছে, 'অ্যালকোহলিক ইনটকসিকেশন' বা বিষাক্ত মদ্যপানজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। 

এদিকে বিকাশ কর্মকারকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শেবাচিম হাসপাতালে নেয়া হলে ১২টায় তার মৃত্যু হয়। বিকাশের কাকা রতন কর্মকার জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বিকাশ বুকের ব্যথা এবং বমি করতে করতে অসুস্থ হলে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে নেয়া হয়। বেলা ১২টায় তার মৃত্যু হয়। তবে শেবাচিম হাসপাতাল থেকে দেওয়া বিকাশের মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়েছে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

বরিশাল নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল থেকে দেয়া মৃত্যুসনদে সিদ্ধার্থ রায় মিঠুনের মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়েছে অতিরিক্ত মদ্যপান। তবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বিকাশের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতালের সনদে বলা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়রা জানিয়েছেন বিকাশের মৃত্যুর কারণও অতিরিক্ত মদ্যপান। তাই সিদ্ধার্থ ও বিকাশের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।