বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সোনার বাংলা বির্নিমানে সকলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ০৮:০৮ পিএম, ৫ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার

বানারীপাড়া প্রতিনিধি:
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে তাঁর পাশে থেকে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বির্নিমাণে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রণী ভূমিকা পালণ করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন, বরিশাল-২ আসনের এমপি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহে আলম। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে শনিবার সকাল ১০টায় বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের দূর্ণীতি বিরোধী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। 

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে দুর্নীতি বিরোধী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এমপি শাহে আলম বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আপনারা ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে জাপিয়ে পড়ে ছিলেন। আপনারা দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে এনেছেন। অতীতের কোন বিষয় নিয়ে অপনাদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে কারও বিরুদ্ধে কোন ধরণের অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। সেখানে যরা তদন্তকারী কর্মকর্তা রয়েছেন, তারা এসে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে পারেন। 

এমপি শাহে আলম বলেন, এদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় যারা মুক্তিযোদ্ধাদের তিন বেলা খাবার ও কাপড়-চোপর দিয়ে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন, আমারা তাদেরকেও জানি। আর যারা আটঘর-কুড়িয়ানার পেয়ারা বাগান কেটে পাকবাহিনীর সাথে তাল মিলিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেছেন, তাদেরকেও আমরা চিনি। এক্ষেত্রে এমপি শাহে আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় যারা বানারীপাড়া উপজেলা ও পাশর্^বর্তী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম করে বোরকা পড়ে ডাকাতি করে বন্দর বাজার লুট ও ব্রাক্ষ্মনকাঠিসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী নির্যাতন এবং বিত্তবানদের বাড়ি থেকে মালামাল লুটপাট করে মুক্তিযোদ্ধাদের কলঙ্কিত করে অনেক ধন সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের তালিকা তৈরী করে অচিরেই বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ সময় সেখানে উপস্থিত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এমপিকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ডাকাতির সাথে জড়িত থাকা কলঙ্কিত মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ বাতিলের দাবী জানান।  

বিশেষ অতিথি বক্তৃতায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডের দায়ীত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ। তারা ইউএনও নির্দেশ না নিয়েই মুক্তিযুদ্ধকালিন সময় ডাকাতির অভিযোগে গনোপিটুনী খাওয়া কাজী হায়দার আলী তার ব্যক্তি স্বার্থ চরিত্রার্থ করার জন্য মুক্তিুযুদ্ধকালিন সময়ের বেজ কমান্ডার বেনী লাল দাস গুপ্ত বেনুকে সভাপতি দেখিয়ে ২০ জন মুক্তিযোদ্ধার নামে কিভাবে ২৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে মতবিনিময় সভার রেজুলেশন করলেন। এছাড়াও যিনি সব সময় এলাকাবাসির ও মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থেকে বিভিন্ন ভাবে সাহাজ্য সহযোগীতা করে আসছেন সেই সংস্কারপন্থি বিএনপি নেতা ও সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামালের বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে কিভাবে ভিত্তিহীন মন্তব্য করলেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকা মুক্তিুযুদ্ধকালিন বেজ কমান্ডার বেনী লাল দাস গুপ্ত বেনু ও সাবেক সহকারী কমান্ডার মীর সাইদুর রহমান শাহজাহান সহ একাধিক মুক্তিযোদ্ধা কাজী হায়দার আলীর ওই রেজুলেশন সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে উল্লেখ করেন এবং তারা এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক সহ দুই শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা উক্ত কাজী হায়দার আলীকে তিরস্কার করেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী কমান্ডার মীর সাইদুর রহমান শাহজাহান সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এছাড়াও আলোচক ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা, মুক্তিযুদ্ধকালীণ বেজ কমান্ডার বেনী লাল দাস গুপ্ত বেণু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার তরুনেন্দ্র নারায়ণ ঘোষ, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সরদার, মো. শাহ্ আলম, জগন্নাথ, মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহবায়ক ওয়াহেদুজ্জামান দুলাল, পৌর আ’লীগের সভাপতি সুব্রত লাল কুন্ডু, প্রেসক্লাব সভাপতি রাহাদ সুমন প্রমূখ।