বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

ক্যাসিনোকাণ্ডে চট্টগ্রামে সম্রাটের অনুসারীরা ‘পালাচ্ছেন’

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ০৫:১১ পিএম, ৪ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার

রাজধানী ঢাকার ক্যাসিনো কাণ্ডের পর বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সম্রাটের অনুসারী যুবলীগ নেতারা গা ঢাকা দিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন আগেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন, বাকিরাও পালানোর চেষ্টা করছেন। টেন্ডারবাজি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি সরকারি জায়গা দখলে বড় ধরণের ভূমিকা রেখে আসছিলো যুবলীগের এ অংশটি। তবে যুবলীগের এসব অপকর্মের দায় কোনোভাবেই সংগঠনের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক এড়াতে পারেন না বলে মনে করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

দু’বছরর বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামে রেলওয়ে টেন্ডারে একক আধিপত্য বিস্তার করে ছিল যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর। অবশ্য আগে ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনের সাথে এ টেন্ডারবাজি নিয়ে চরম বিরোধ ছিলো বাবরের। এনিয়ে সিআরবি এলাকায় জোড়া খুনের ঘটনাও ঘটে। যে মামলায় দু'জনই চার্জশিটভুক্ত আসামি। শেষ পর্যন্ত অলিখিত সমঝোতায় লিমন সরে গেলে বাবরের একক আধিপত্য কায়েম হয়। শুধু রেলওয়ের টেন্ডার নয়, সরকারি অন্যান্য টেন্ডার বাণিজ্যে আধিপত্য ছিল যুবলীগ নেতা বাবরের।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য জামশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, অটোমেটিকলি যুবলীগের চেয়ারম্যানের উপর দায়িত্বটা বর্তায়। উনার আওতাধীন সংগঠনের কি অবস্থা এটা তার দায়িত্ব। কিভাবে , কে বা কারা যুবলীগের সুনাম খারাপ করছে এটা উনাকেই দায়িত্ব নিতে হবে। 

গত ১২ বছরের বেশি সময় ধরে নগর যুবলীগ রয়েছে সম্মেলন বিহীন। এর মধ্যে ৬ বছর আগে গঠন করা আহবায়ক কমিটি এখনো কাজ করে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকার সম্রাটের অনুসারীরাই চট্টগ্রামে যুবলীগ পরিচয়ে ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করেছিলো বলে অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরের আহবায়ক যুবলীগ মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, সংগঠনের সুবিধা পাচ্ছে সেই সুবিধা ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এটার ব্যবস্থা আমরা নিতে পারিনা। 

নগরীতে যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের টেন্ডারবাজি, সরকারি জায়গা দখল এবং চাঁদাবাজির কারণে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদেরও। কিন্তু সংগঠনের প্রধান হিসাবে ওমর ফারুক এই দায় এড়াতে পারেন না বলে মত আওয়ামী লীগ নেতাদের।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম বলেন, যুবলীগ হলেই সে অপকর্ম করতে পারবে, তার জন্য ছাড় পাবে এমন না। আমাদের আদর্শিক চেতনার সংগঠন এটা কয়েকজনের জন্য ধ্বংস হবে এটা হতে দেওয়া যায় না।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় চট্টগ্রামের যুবলীগ কার্যত ৩টি অংশে বিভক্ত। মূলত চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের অনুসারী হিসেবেই পরিচিত ছিলো তারা। নগরীতে কিশোর গ্যাংগুলোকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।