বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

সেলিম গ্রেফতারের পর তারেকের অস্বাভাবিক আচরণ, জানালো তার পিএস

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ০১:০৪ এএম, ৩ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

 জাতীয়তাবাদী দলের ক্যাসিনো ব্যবসায়ীরা একের পর এক গ্রেফতার হওয়ার পর দল চরম অর্থ সংকটে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) লন্ডনে তারেক রহমানের খবরাখবর রাখেন এমন একজন গণমাধ্যমকর্মীর সাথে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব (পিএস) পারভেজ মল্লিক এ তথ্য জানান।

সূত্র বলছে, অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধান গ্রেফতার হবার পর দলের মূল চালিকাশক্তি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারেক রহমান। সেলিম গ্রেফতার হবার পর থেকেই তিনি লন্ডনে তার আশেপাশের নেতাকর্মীদের সাথে অস্বাভাবিক আচরণ করছেন।

এ প্রসঙ্গে লন্ডনে বসবাসরত বিএনপির এক নেতা জানান, অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধান গ্রেফতার হয়েছেন এমন খবর শোনার পর থেকেই আমাদের নেতা তারেক রহমানকে অনেকটা বিচলিত মনে হচ্ছে। আমরা তাকে বারবার সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছি। আসলে সরকার বিএনপিকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে চাইছে এমন চিন্তা থেকেই আমাদের নেতা উদ্বিগ্ন বলেই আমরা মনে করছি। দেশের নিরাপত্তাবাহিনী হঠাৎ জাতীয়তাবাদী দলের ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ধরা শুরু করেছে। আমরা মনে করি, জাতীয়তাবাদী দলের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে সরকার। আমরা বিশ্বাস করি ক্যাসিনো ব্যবসা বন্ধ করলেও বিএনপিকে সরকার নির্মূল করতে পারবে না।

সূত্র বলছে, অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধানের মাধ্যমে নিয়মিত বড় অঙ্কের টাকা পেতেন তারেক রহমান। সেলিম বিভিন্ন সময় হুন্ডির মাধ্যমে তারেক রহমানের কাছে লন্ডনে টাকা পৌঁছে দিতেন। সেলিম বর্তমানে কারাগারে থাকা ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিলেন। তার মাধ্যমেই অনলাইনের ক্যাসিনো থেকে অর্জিত টাকার একটি বড় অংশ তিনি লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে পাঠাতেন।

প্রসঙ্গত, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হাওয়া ভবনে অন্তত ৫টি ক্যাসিনো সরাসরি পরিচালনা করতেন তারেক রহমান নিজেই। তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে সারাদেশে অতি গোপনে পরিচালিত হতো কমপক্ষে ১২০টি ক্যাসিনো এমনটাই জানা গেছে সম্প্রতি আটক হওয়া জুয়া ব্যবসায়ীদের জবানবন্দিতে।