শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

আবারও পাঁজরের হাড় না কেটে ৫ হাজার টাকায় হার্টের অপারেশন

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ০৮:১২ পিএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

 

আবারও বুকের হাড় না কেটে হৃদযন্ত্রের সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকা। এর আগে ২৫ আগস্ট প্রথমবার দেশের কোনো সরকারি হাসপাতালে এ অস্ত্রোপচার হয়।


 
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিভিডি) চিকিৎসক আশরাফুল হক সিয়ামের নেতৃত্বে দ্বিতীয় এ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) ডা. আশরাফুল হক সিয়াম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মৌলভীবাজারের ৪০ বছরের মো. মতিন হার্টের দুটি ব্লক নিয়ে গত ২৫ আগস্ট আমাদের সার্জারি ইউনিট-০৯ এ ভর্তি হন। আমরা ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে মিনিমাল ইনভ্যাসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি অপারেশন করে দুটি গ্রাফট দিই অফ পাম্প বেটিং হার্টে। সফলভাবে অপারেশনের পর তৃতীয় দিনের মধ্যেই তিনি বাড়ি ফিরে যাওয়ার মতো সুস্থ হয়ে ওঠেন।

২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় এ অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়। প্রায় ৪ ঘণ্টা চলা এ অস্ত্রোপচারে ডা. সিয়ামের দলে ছিলেন ডা. আসিফ, ডা. রুমু, ডা. শাহরিয়ার, ডা. ওয়াহিদা, ডা. মনজুর, ডা. মইনুল ও ডা. আহসানারা। পারফিউশানে ছিলেন ডা. রুবাইয়াত। এনেস্থেশিয়ায় ছিলেন ডা. আজাদ ও ডা. রাজু।

এর আগে এ অপারেশন পদ্ধতি সম্পর্কে ডা. আশরাফুল হক সিয়াম বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে বলা হয় মিনিমাল ইনভ্যাসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি (এমআইসিএস)। এই পদ্ধতিতে বুক না কেটে ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করা হয়।

এ চিকিৎসা পদ্ধতির ঝুঁকি সম্পর্কে ডা. সিয়াম বলেন, হৃদরোগের যেকোনো অপারেশনেই ঝুঁকি থাকে। কিন্তু প্রচলিত অস্ত্রোপচার পদ্ধতি থেকে এমআইসিএস পদ্ধতিতে তুলনামূলক ঝুঁকি কম। কারণ এতে রক্তক্ষরণ কম হয়, অন্য সংক্রমণের আশঙ্কাও কম থাকে। পাশাপাশি এ পদ্ধতিতে রোগী দ্রুতই সুস্থ হয়ে অস্ত্রোপচারের পরদিনই বাড়ি ফিরতে পারেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের কিছু উন্নত দেশে অল্পসংখ্যক হাসপাতালে এ পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার হয়। বাংলাদেশের নামি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এখনো এ পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা হয় না। তবে কিছু হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে হলেও সরকারি হাসপাতালে প্রথম আমরাই এ পদ্ধতিতে অস্ত্রোপাচার করছি। এটি আমাদের বিশাল সফলতা।