সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৭ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

বাংলাদেশের নতুন কোচ মাইক হেসন!

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ০৬:৩৩ এএম, ৮ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপেও কোচ হিসেবেই থাকার কথা ছিল তাঁর। নিজ দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিও ছিল এই বিশ্ব আসর পর্যন্তই। কিন্তু এর বছরখানেক আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ‘চাপমুক্ত’ হয়ে পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য পদত্যাগ করেছিলেন মাইক হেসন। তবে এক বছরের বিরতির পরই আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই হেড কোচ। মাত্র ২২ বছর বয়সেই কোচিংকে পেশা বানিয়ে নেওয়া এই নিউজিল্যান্ডার এবার হতে চান সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিম-তামিম ইকবালদের কোচ। তাঁকে পেতে মরিয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)।

তবে স্টিভ রোডসের উত্তরসূরি হিসেবে তাঁকে চূড়ান্ত করার আগে সাক্ষাত্কার দেওয়ার জন্য হেসনকে ঢাকায়ও ডেকেছে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসন। সেটি দিতেই আগামীকাল রাজধানীতে আসছেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম এই কোচ। এর আগে গতকাল ঢাকায় আসা দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কোচ রাসেল ডমিঙ্গোরও সাক্ষাত্কার নিয়েছে বিসিবি। এই প্রোটিয়ার প্রেজেন্টেশনকে ‘সন্তোষজনক’ আখ্যা দিলেও মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস জানিয়ে রেখেছেন, জাতীয় দলের হেড কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ বিন্দুতে পৌঁছাতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে, ‘যেটি মাননীয় সভাপতি (নাজমুল হাসান) আগেও বলেছেন, আমরা ১০-১২ দিনের মধ্যে সব কিছু শেষ করতে চাই। আমরা চেষ্টা করব ঈদের আগেই হেড কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করার। যদি তা না হয়, তাহলে ঈদের পরেও চলবে।’

হেড কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, ঈদের আগেই অর্থাৎ ৯ আগস্ট বিসিবি সভাপতি ও পরিচালকদের সঙ্গে হেসনের আলোচনার পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো। জালাল যদিও জানিয়েছেন যে ডমিঙ্গো এবং হেসনের সঙ্গে বিসিবির করা সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন আরেকজনও। সাক্ষাত্কারের জন্য তাঁকেও ডাকার কথা বলা হয়েছে। তবে ওই সূত্র জানিয়েছে, আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে থাকা অবস্থায়ই ঢাকায় আসছেন হেসন। সাক্ষাত্কার দেওয়ার পরপরই আসতে পারে চূড়ান্ত ঘোষণাও। যেমনটি হয়েছিল স্টিভ রোডসের ক্ষেত্রেও।

এটিও জানা গেছে যে সাক্ষাত্কার দিলেও নানা কারণে বিসিবির জাতীয় দল ভাবনায় ডমিঙ্গো নেই। তাঁকে বরং অন্য কাজে লাগাতেই বেশি উৎসাহী তারা। অবশ্য হেসনকে নিয়েও কিছু ‘যদি-কিন্তু’ আছে। নিউজিল্যান্ডকে ২০১৫-র বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলা কোচ গত বছর জুনে নিজ দেশের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর যোগ দিয়েছিলেন আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবে। দুই বছরের সেই চুক্তির বছর পেরিয়েছে মাত্র। এই অবস্থায় তাঁকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জন্য ‘উইন্ডো’ কিছুতেই দিতে চাইবে না বিসিবি। সাকিব-মুশফিকদের পূর্ণকালীন কোচ হিসেবেই তাঁকে চায় বাংলাদেশ। এটি নিয়ে ‘গো’ না ধরলে ২০২০-র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে রোডসের শূন্যস্থান হেসনকে দিয়ে ভরানোরই জোর সম্ভাবনা। যে সম্ভাবনার পালে হাওয়া দিচ্ছে তাঁর অধীনে খেলা ৫৯ টি-টোয়েন্টির মধ্যে কিউইদের শতকরা ৫০ শতাংশের (৩০ জয়, ২৪ হার) বেশি সাফল্যও। সেই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী কোচের টেস্ট এবং ওয়ানডে সাফল্য তো আছেই!