• বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৩ ১৪৩১

  • || ১০ মুহররম ১৪৪৬

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ২১ জুলাই স্পেন যাবেন প্রধানমন্ত্রী আমার বিশ্বাস শিক্ষার্থীরা আদালতে ন্যায়বিচারই পাবে: প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মার জন্য তাৎপর্যময় ও শোকের দিন আশুরার মর্মবাণী ধারণ করে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান মুসলিম সম্প্রদায়ের উচিত গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জাও করে না : প্রধানমন্ত্রী দুঃখ লাগছে, রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও বলে তারা রাজাকার শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ ‘চীন কিছু দেয়নি, ভারতের সঙ্গে গোলামি চুক্তি’ বলা মানসিক অসুস্থতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী : প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করুন চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নে পরিকল্পিত ও দক্ষ জনসংখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করতে চায় চীন: শি জিনপিং চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর : পাওয়ার চেয়ে দেওয়ার পাল্লা ভারী

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৪  

১৯৪৯ সাল ২৩ জুন থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে প্লাটিনাম জয়ন্তীতে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। পূর্ব পাকিস্তানে গড়ে ওঠা সেই অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান আজ স্বাধীন বাংলাদেশে ক্ষমতার আসনে বসে রাজত্ব করছে। তার মধ্যে কেটে গেছে পঁচাত্তর বছর। পালাবদল হয়েছে নেতৃত্বের। পরিবর্তন হয়েছে নামেরও। ৭৫ বছরে রাজনৈতিক দলটি স্বাধীন বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে অনেক কিছু। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। শুধু তাই নয়, যুদ্ধ পরবর্তীতে রাষ্ট্রগঠন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ বড় বড় মেগা প্রকল্প দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পঁচাত্তর বছর ধরে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য বিভিন্ন সংগ্রাম ও আন্দোলন কিংবা উন্নয়নের জন্য লড়লেও শেষমেশ কী পেল? এত কিছু দেওয়ার পর দলটি কতটুকু শক্তিশালী হলো? আওয়ামী লীগ যে আদর্শে গঠিত হয়েছিল, সেই দল বর্তমানে কতটা সেই আদর্শে রয়েছে? কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত কতটুকু গোছাতে পারল? দেশের মানুষের মনে কতটা জায়গা করে নিয়েছে, সেসবও ভাবনার বিষয়। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে ৭৫ বছর টিকে থাকাকেও বড় অর্জন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ধর্মব্যবসা প্রতিরোধ করে নিপীড়িত বাঙালি জাতির ন্যায্য অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ। এরপর খুব দ্রুত দেশের প্রতিটি প্রান্তে ঘুরে ঘুরে এই দলকে গণমানুষের দলে পরিণত করেন তেজস্বী আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশকে একই স্পন্দনে অনুভব করতে শুরু করে বাংলার মানুষ। ফলে বাঙালির জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের দীর্ঘ পথযাত্রার প্রতিটি আন্দোলন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সমর্থ হয় এ দল। যার পরিণতি আসে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার হাত ধরে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য ধাপে ধাপে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালে উগ্রবাদীরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর সদ্য স্বাধীন দেশের অগ্রযাত্রা থমকে যায়। কিন্তু মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনাকারী এই দলটি আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এই আশঙ্কা থেকে কারাবন্দি করার পর হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর সহচর চার জাতীয় নেতাকে। দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ এবং নির্যাতন শুরু করে স্বৈরাচার ও উগ্রবাদীরা। কিন্তু আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলকে আবারো সংগঠিত করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে পতন ঘটান স্বৈরাচারের। উগ্রবাদীদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন তিনি। তার হাত ধরে নৈরাজ্য ও শোষণ থেকে মানুষকে থেকে মুক্ত করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জানতে চাইলে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী রিট মামলা করার জন্য ঢাকায় আসেন। তখন এই দেশের নেতাকর্মীরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে দেখা করেন। তখন তিনি বলেছিলেন যে মুসলিম লীগের সঙ্গে আপস করে তোমরা থাকতে পারবে না। দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন হবে না। তোমাদের আলাদা দল করতে হবে। আমি পশ্চিমবঙ্গে কাজ শুরু করেছি। তোমরা আলাদা দল করো। উনি তখন নাম সিলেক্ট করলেন, ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’। তার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা শুরু হয়। মওলানা ভাসানীকে কনভেনার করে একটি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হয়। সেই কমিটির মাধ্যমে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন কে এম দাস লাইনে রোজ গার্ডেন বাড়িতে একটি সভা হয়। সেই সভায় শেরে বাংলা একে ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেখানেই দল গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়। তখনই প্রাথমিকভাবে দল গঠন করা হয়। মওলানা ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাহেব সাধারণ সম্পাদক এবং তখন বঙ্গবন্ধু কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে একমাত্র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়।”

পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘কোথাও হল বা জায়গা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত হুমায়ুন সাহেবের রোজ গার্ডেনের বাড়িতে সম্মেলনের কাজ শুরু হয়েছিল। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকসহ তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা সেদিন রোজ গার্ডেনে উপস্থিত ছিলেন।’

বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘‘সকলেই একমত হয়ে নতুন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গঠন করলেন; তার নাম দেওয়া হলো ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। আমি মনে করেছিলাম, পাকিস্তান হয়ে গেছে। সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের দরকার নাই। একটা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হবে, যার একটা সুষ্ঠু ম্যানিফেস্টো থাকবে।”

১৯৫২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরের বছর ঢাকার ‘মুকুল’ প্রেক্ষাগৃহে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিব। আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে যাত্রা শুরু করলেও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নাম হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নাম নেয় দলটি।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজনৈতিক সংগ্রাম, যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিজয়সহ বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ’৫০ এর দশকেই আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। তবে প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আব্দুল হামিদ খান ভাসানী রাজনৈতিক মতভিন্নতার জন্য ১৯৫৭ সালে দল ছেড়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বসহ ৪২ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ।

শুরুর দিকে দলটির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি,  এক ব্যক্তির এক ভোট, গণতন্ত্র, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় পদ্ধতির সরকার, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং তৎকালীন পাকিস্তানের দু’ অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফত পার্টির সঙ্গে মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে আওয়ামী মুসলিম লীগ। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য অন্যান্য দলকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করতে আওয়ামী মুসলিম লীগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ওই বছরের মার্চের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন পায়। এর মধ্যে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ পেয়েছিল ১৪৩টি আসন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘসময় এই দলটি সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন করে জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করে। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা দেন বঙ্গবন্ধু, যাকে বাঙালির মুক্তির সনদ নামে অভিহিত করা হয়। ছয় দফার ভিত্তিতেই ’৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে।

পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ শুরু করলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। কারাবন্দি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশের। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা এবং ৩ নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে চার জাতীয় নেতাকে হত্যার পর সামরিক শাসনের নির্যাতন আর নিপীড়নের মধ্যে পড়ে ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি। নেতাদের মধ্যেও দেখা দেয় বিভেদ। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দলীয় সভাপতি হিসেবে দেশে ফিরে কয়েকভাগে বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেন, আন্দোলন শুরু করেন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। পাঁচ বছর শাসনের পর ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। দেশে রাজনৈতিক সংকটের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে পুনরায় সরকার গঠন করে। তারপর ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৮ সালে একাদশ ও ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতাসীন হয়। ১৯৮১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর কন্যা দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে একটি কথা বারবার বলে থাকেন, ‘কী পেলাম, কী পেলাম না সে চিন্তা নয়। মানুষকে কতটুকু দিতে পারলাম, কতটুকু মানুষের জন্য করতে পারলাম, মানুষের কল্যাণে কতটুকু কাজ করলাম, সেটাই হবে রাজনীতিবিদের চিন্তা-ভাবনা। আওয়ামী লীগ নিতে আসেনি, মানুষকে দিতে এসেছে। মানুষের জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা করা আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার।’

আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর প্রসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দেশের যা কিছু মহৎ অর্জন, তা কেবল আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে। গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পেরিয়ে এসেছে এ দল। সব বাধা-বিঘ্ন উপেক্ষা করেই প্রতিষ্ঠা করেছে গণমানুষের অধিকার। দেশের যা কিছু মহৎ অর্জন, তা কেবল আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে।’

স্বাধীনতার আগে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান ও ৭০’র নির্বাচন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব, বিজয় ও রাষ্ট্রগঠনে যেমন অবদান রয়েছে আওয়ামী লীগের, ঠিক তেমনি স্বাধীনতার পর দেশে উন্নয়নে কাজ করেছে। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় রয়েছে দেশে বৃহৎ রাজনৈতিক দলটি। গত ১৫ বছরে দেশের প্রতিটি সেক্টরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করেছে। আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বে ‘রোল মডেল’ হয়েছে। এসময়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৪১.৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮.৬ শতাংশ এবং অতি দারিদ্র্যের হার ৫.৭ শতাংশে নেমেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল চালু, কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল, পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রেল সার্ভিস, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে পরপর চার মেয়াদে ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থাকার ফলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই বেশিরভাগ মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির সিনিয়র নেতারা।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাত্রিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা করা হয়। হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে আবার পাকিস্তানের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের অর্জন-প্রাপ্তি সব কিছু ধ্বংস করে দিয়ে চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আসে। এ দেশকে আবার সাম্প্রদায়িক শক্তিতে পরিণত করা হয়। এমন একটা পরিস্থিতিতে আমরা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করার মধ্য দিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে নিয়ে আসি। তিনি এসে সংগঠনের হাল ধরেন। তার নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসি।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় আসেন তখন মানুষ পায়। তিনি যখন ক্ষমতায় থাকেন না তখন মানুষ পায় না। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে এ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তার ওপর ১৯ বার হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। আমি মনে করি বাঙালির যা কিছু অর্জন এবং প্রাপ্তি একমাত্র দল হিসেবে আওয়ামী লীগ, নেতা হিসেবে শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি।

৭৫ বছরে আওয়ামী লীগ অনেক কিছু দিলেও দল কী পেল– এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলছেন, যে দল ৭৫ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বারবার সরকার গঠন করে, সেই দলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, আবেগ সবসময় কাজ করে। মানুষের ভালোবাসা না থাকলে এত বছর টিকে থাকা যায় না। আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়েছে। আর শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের মহাসাগরে নিয়ে গেছে। একের পর এক উন্নয়ন করেছেন। মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করে গত ১৫ বছর ক্ষমতা রয়েছেন। মানুষের এত ভালোবাসা যে দল পায় তার আর কী প্রয়োজন?

তারা আরও জানান, সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী। প্রতি তিন বছর পর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নতুন নেতৃত্ব আসে। আর তৃণমূলে আওয়ামী লীগের ইউনিটগুলো সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। প্রতিটি ইউনিটের সচল নেতৃত্ব রয়েছে। আওয়ামী লীগের জেলা, মহানগর, উপজেলা, ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড পর্যায়ে শুধু নয়, এ সংগঠনের প্রায় হাফ ডজনের বেশি সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন গড়ে উঠেছে। প্রতিটি সংগঠনের আবার জেলা, মহানগর, উপজেলা, ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে।