• বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৩ ১৪৩১

  • || ১০ মুহররম ১৪৪৬

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ২১ জুলাই স্পেন যাবেন প্রধানমন্ত্রী আমার বিশ্বাস শিক্ষার্থীরা আদালতে ন্যায়বিচারই পাবে: প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মার জন্য তাৎপর্যময় ও শোকের দিন আশুরার মর্মবাণী ধারণ করে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান মুসলিম সম্প্রদায়ের উচিত গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জাও করে না : প্রধানমন্ত্রী দুঃখ লাগছে, রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও বলে তারা রাজাকার শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ ‘চীন কিছু দেয়নি, ভারতের সঙ্গে গোলামি চুক্তি’ বলা মানসিক অসুস্থতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী : প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করুন চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নে পরিকল্পিত ও দক্ষ জনসংখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করতে চায় চীন: শি জিনপিং চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম যখন প্রতিবন্ধিত্বের কারণ

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০১৮  

সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের জন্য থাইরয়েড হরমোন অপরিহার্য। জন্মের সময় নবজাতকের মধ্যে এই হরমোনের স্বল্পতাজনিত সমস্যাকে জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়। উন্নত দেশের সমীক্ষায় দেখা গেছে, চার হাজার নবজাতকের মধ্যে অন্তত একজন থাইরয়েড হরমোনের তীব্র ঘাটতিসহ জন্ম নেয়। কম তীব্রতা অথবা আংশিক তীব্রতা নিয়ে জন্মানো শিশুর সংখ্যা এর চেয়ে বেশি।

আমাদের দেশে এখনো তেমন কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হয়, এ সংখ্যা উন্নত বিশ্বের প্রায় দ্বিগুণ। এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্মের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া না হলে শিশু শারীরিক অথবা মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যেতে পারে। আক্রান্ত শিশুর বেশির ভাগের আইকিউ ক্ষমতার মাত্রা ৮০-র নিচে থেকে যেতে দেখা যায়।

খুব সহজে ও সুলভে হাইপোথাইরয়েডিজম রোগটি নির্ণয় এবং এর ফলপ্রসূ চিকিৎসাও করা যায়। প্রায় সব উন্নত দেশেই স্ক্রিনিং পদ্ধতিতে নবজাতকের জন্মের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রোগটি নির্ণয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কারণ চিকিৎসার অভাবে একবার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হয়ে গেলে পরে চিকিৎসা দিলেও শিশু আর সুস্থ নাও হতে পারে। জন্মের চার সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসা দিলে এ রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

এ রোগে আক্রান্ত অনেক নবজাতকের মধ্যে লক্ষণের তেমন কোনো প্রকাশ ঘটে না বলে তিন মাস বয়স পর্যন্ত আক্রান্ত অনেক শিশুকেই স্বাভাবিক বলে ভুল হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো এত মৃদু থাকে যে সেগুলো সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। 

নবজাতকের যে সব লক্ষন দেখা যায় তা হলঃ
*খুব কম নড়াচড়া করা
*কান্নাকাটি কম করাবা কাঁদলে অনেকটা মিউ মিউ শব্দ হওয়া
* খাদ্য গ্রহণে আগ্রহ কম
*শরীরের বৃদ্ধিও খুব কম
*জন্ডিস হওয়া
*পায়খানা খুব কম হওয়া
* শরীর তুলতুলে বা খুব নরম হওয়া
*পেট খুব বেড়ে যাওয়া বা পাতিলের মতো হয়ে যাওয়া
*মাথার তালু নরম থাকা
*আনুপাতিক হারে বৃহদাকার জিহ্বা
*নাভি বেরিয়ে আসা (আমবিলিকাল হারনিয়া)
*শীতল খসখসে ও শুকনো ত্বক
*ফ্যাকাশে দেখানো,ইত্যাদি 

*শনাক্তকরণঃ 
জন্মগত বা নবজাতকের  হাইপোথাইরয়েডিজম শনাক্তকরণের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম স্ক্রিনিং বা শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সাধারণত নিম্নলিখিত পদক্ষেপ সন্নিবিষ্ট থাকে।

১।জন্মের ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে নবজাতককে শনাক্তকরণ পদ্ধতির আওতায় আনা হয়।

২। শিশুটিকে খুব যত সহকারে সুক্ষভাবে  এবং দক্ষতার সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, যাতে হাইপোথাইরয়েডিজমের যে কোন লক্ষণ থাকলে তা ধরা পড়ে যায়।

এরপর শিশুটি ল্যাবরেটরি টেস্ট করা হয়। একটু বেশি বয়সী শিশু হলে তার বুদ্ধিমত্তা (আইকিউ)-র পরীক্ষা করা হয়।

*জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম এর কারণঃ 

জিনগত ত্রুটি ছাড়া সবচেয়ে বড় কারণ হলো খাদ্যে আয়োডিনের ঘাটতিজনিত এলাকায় বসবাস করা। এর সঙ্গে যদি পরিবেশগত অন্য কোন কারণ যোগ হয় তাহলে সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। থাইরয়েডের হরমোন তৈরিতে ব্যর্থতা, গ্রন্থির অস্বাভাবিকতা ইত্যাদিও থাকে। মাকে যদি গর্ভকালীন সময়ে রেডিওএক্টিভ আয়োডিন থেরাপি দেয়া হয়, তাহলে গর্ভস্থ শিশু থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।এছাড়া থাইরয়েড-গ্রন্থির সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি, গঠনগত ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা, জেনেটিক ত্রুটির ফলে থাইরয়েডের থাইরক্সিন হরমোনের সংশ্লেষণজনিত ত্রুটি, ভ্রূণ অবস্থায় কোনো কীটনাশক বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসা, অল্পসংখ্যক ক্ষেত্রে হরমোন-উত্তেজক উপাদানের (টিএসএইচ) স্বল্পতা ছাড়া অন্য কোনো কারণেও এ রোগ দেখা দিতে পারে।

এ রোগটি শনাক্ত করণ প্রক্রিয়া খুব সহজ। রক্তের নমুনা ও গলার আল্ট্রাসনোগ্রাম করেই নিশ্চিতভাবে নবজাতকের হাইপোথাইরয়েডিজম শনাক্ত করা যায়। উন্নত বিশ্বের প্রায় সকল নবজাতকেরই হাইপোথাইরয়েডিজম আছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু কম উন্নত (বাংলাদেশসহ) দেশগুলোতে অধিকাংশ নবজাতকের ক্ষেত্রে শনাক্তকরণের পরীক্ষাগুলো করা হয় না।

*চিকিৎসাঃ 
যে সব নবজাতকের হাইপোথাইরয়েডিজম ধরা পড়বে তাদের লেভোথাইরক্সিনদিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এটি মূলত থাইরক্সিন হরমোন এর অভাব পুরনের জন্য মুখে খাওয়ার ট্যাবলেট । পরবর্তীতে থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতা দেখে লেভোথাইরক্সিনের মাত্রা ঠিক করা হয়। জিনগত, গ্রন্থির ত্রুটি বা থাইরয়েড গ্রন্থির অনুপস্থিতির কারণে এ রোগ হয়ে থাকে : তা হলে রোগীটিকে আজীবন এবং বেশি মাত্রায় এ ওষুধটি সেবন করতে হয়। আর অন্য কারণগুলোতে কারও কারও ক্ষেত্রে কোন এক সময় ওষুধ বন্ধ করার মতো পরিস্থিতিও হতে পারে।তবে এ বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে ওষুধ সেবন করা যাবে না, অবশ্যই হরমোনজনিত রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনু্যায়ী ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে। 

দুঃখের বিষয়, সহজে ও সুলভে রোগটি নির্ণয় এবং এর চিকিৎসা থাকলেও শুধু অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে আমাদের দেশের অনেক শিশুকেই প্রতিবন্ধী হিসেবে অভিশপ্ত জীবন বরণ করে নিতে হচ্ছে।

উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত নবজাতকদের শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়নি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন নবজাতকদের মধ্যে জন্মগত হাইপোথাইরয়েড রোগ শনাক্তকরণ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন পরমাণু চিকিৎসাকেন্দ্রে এ রোগে আক্রান্ত নবজাতকদের শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদান কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।বরিশালে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজে পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রে এ চিকিৎসা প্রদান করে থাকে 

কিন্তু উচ্চ জন্মহারের এ দেশে শুধু পরমাণু শক্তি কমিশনের পক্ষে সব নবজাতককে এ প্রকল্পের আওতায় আনা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথা সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসার আহবান করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো এক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই প্রতিবন্ধিত্বের অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত রাখার প্রচেষ্টা অনেকাংশেই সফল হয়ে উঠতে পারে।