• সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৭ রজব ১৪৪৪

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
দেশের ব্যাপক উন্নয়ন বিবেচনায় নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলেই মানুষের উন্নতি হয়: প্রধানমন্ত্রী আমি জোর করে দেশে ফিরেছিলাম, আ.লীগ পালায় না: শেখ হাসিনা আজ ১১ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ১-৭ মার্চ মোবাইলে কল করলেই শোনা যাবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিন: প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস রুখে দিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে পুলিশ সারদায় কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন বাংলাদেশ পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত রাজশাহী প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় রাজশাহীবাসী, ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল চাবিকাঠি ডিজিটাল সংযোগ সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আপনি কি আল্লাহর ফেরেস্তা, ফখরুলকে কাদেরের প্রশ্ন কাউকে সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কাস্টমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে একাত্তরে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমার ব্যর্থতা থাকলে খুঁজে বের করে দিন: প্রধানমন্ত্রী

সর্বজনীন নয় নতুন নাম জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২২  

‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা’ নামটি থাকছে না। এর বিপরীতে নতুন নাম হবে ‘জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা’। শিরোনামে সর্বজনীনের জায়গায় জাতীয় শব্দটি প্রতিস্থাপন হচ্ছে। এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ শিরোনামে ‘দেশের সর্বস্তরের জনগণকে একটি টেকসই পেনশন কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে আনীত’ শব্দটি প্রতিস্থাপনসহ কয়েকটি সংশোধন আনা হয়েছে এ সংক্রান্ত বিলে। সম্প্রতি বিলটির অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে বিলটি পাশের জন্য উত্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট জাতীয় সংসদে সর্বজনীন পেনশন আইনের খসড়া বিল আকারে উত্থাপন করা হয়। এরপর সেটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে। সেখানেই বিলের শিরোনামসহ বেশ কিছু সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়। প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সব শ্রেণির মানুষকে পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বয়স্কদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা বিল আলোচনার শুরুতে অর্থ সচিব (সিনিয়র) ফাতিমা ইয়াসমিন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনের ইশতেহারে বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে একটি টেকসই এবং সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপদ অবকাঠামোর আওতায় বৃদ্ধকালীন সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য জাতীয়ভাবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের বাজেটে এর ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় একটি কৌশল প্রণয়ন করা হয়, যা বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কমিটির সদস্য মো. হারুন উর রশিদ বলেন, ‘সর্বজনীন পেনশন শিরোনামটি ভালো, কিন্তু আসলে ভালো না। যারা চাঁদা দেবে তারাই শুধু এর আওতায় আসতে পারবে। বিষয়টি সর্বজনীন হচ্ছে না। শুধু চাঁদাদাতারা এর সুবিধা ভোগ করবে। তিনি আরও বলেন, সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হলেও কোন পেশার লোকজন কর্তৃপক্ষের সদস্য হবেন তা আরও সুনির্দিষ্ট হওয়া দরকার। এ ছাড়া এ পেনশনের আওতায় সবাই সুবিধা পাবেন। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পেনশন পাচ্ছেন সে ব্যাপারে এ আইনে কোথাও উল্লেখ নেই। সেটি আসা দরকার ছিল। এছাড়া সর্বজনীন পেনশনের পরিচালনা পর্ষদ অনেক বড় হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাতজনের হওয়া উচিত। পাশাপাশি বিলে কাজের সুরক্ষার কথাটা আরও নিশ্চিত করতে হবে। তবে সর্বজনীন পেনশনের স্থানে জাতীয় পেনশন করার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এর প্রতিউত্তরে ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, সর্বজনীন বলে সবাইকে যুক্ত করা হয়েছে। কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। ১৮ থেকে ৫০ বছরের লোকজন এর আওতায় আসবে। তারা ৬০ বছর পূর্ণ হলে পেনশন পাবেন। তিনি আরও বলেন, পঞ্চাশোর্ধ্বরা এর আওতায় আসতে পারবেন। যদি তারা ১০ বছর চাঁদা দেন। আর সরকারি চাকরিজীবীদের এর আওতায় আনার বিষয়টি বিলে বিবেচনা করা হয়েছে। সরকার চাইলে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিতদের নিয়ে আসতে পারবে। অর্থাৎ আইনের মাধ্যমে সর্বজনীনতা রক্ষা করা হয়েছে। সর্বজনীন ও জাতীয় এর মধ্যে দ্বন্দ্ব নেই। পর্ষদ বড় এর উত্তর দিতে গিয়ে গভর্নর বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সদস্য ৫০ জনের বেশি। ফলে এটি একটা পর্ষদ, এটা একটু বড়ই হয়। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারকে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া নিম্নআয়ের লোকজনকে সরকার প্রণোদনা দিয়ে এখানে অন্তর্ভুক্ত করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. আবদুস শহীদ বলেন, সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষ গঠনের ধারা ৬(১) এ বলা হয়েছে- এখানে একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং চারজন সদস্য থাকবেন। এটা যদি রেগুলেটরি বডি হয় তাহলে সংবিধানের আর্টিক্যাল ৭ অনুযায়ী জনগণ দেশের মালিক। কিন্তু এখানে জনগণের প্রতিনিধি রাখা হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রানা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, বিলে দুটি তহবিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি পেনশন তহবিল অপরটি পেনশন কর্তৃপক্ষ তহবিল। এ ক্ষেত্রে ঋণ কোন তহবিলের জন্য নেওয়া হবে। এ ছাড়া পেনশন ফান্ড বিনিয়োগের জন্য কোনো অবকাঠামো আছে কি না। তিনি আরও বলেন, পেনশন ফান্ডের নিরাপত্তার পদ্ধতি কী সেটিও তুলে ধরতে হবে।

এ সময় ব্যাখ্যা দিয়ে গভর্নর বলেন, সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষ গঠনের ক্ষেত্রে বেজা ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) মতো মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। সরকার চাইলে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে টাকা ঋণ নিতে পারবে। এ তহবিল হবে পুরোপুরি কল্যাণমুখী। তিনি আরও বলেন, ঋণ নেওয়া হবে কর্তৃপক্ষের জন্য। পেনশন তহবিলের জন্য। তিনি আরও বলেন, এ বিলের ধারা ১১(২) এ বলা আছে, পেনশন তহবিলের অর্থ পরিচালনা পর্ষদ সরকারি সিকিউরিটি, কম ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য সিকিউরিটি ও লাভজনক অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত গাইড অনুমোদন এবং সময় সময় প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তহবিল ব্যবস্থাপনা করা হবে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র লেজিসলেটিভ ড্রাফটসম্যান এম এম ফজলুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত বিলে বাস্তবিক অর্থে চাঁদাদানকারীদের সর্বজনীন পেনশন প্রদানের ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিলে গঠিত তহবিল থেকে কোনো ব্যক্তিকে কোনো সাহায্য দেওয়ার বিধান নেই। সে হিসাবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ এখানে প্রযোজ্য নয়। প্রস্তাবের প্রথম অনুচ্ছেদ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। ওই বৈঠকে এর সঙ্গে একমত পোষণ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এটা উদ্দেশ্যের সঙ্গে মিল খাচ্ছে না। তাই প্রস্তাবের প্রথম অধ্যায় বাদ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।