• সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ রজব ১৪৪৪

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
১-৭ মার্চ মোবাইলে কল করলেই শোনা যাবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিন: প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস রুখে দিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে পুলিশ সারদায় কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন বাংলাদেশ পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত রাজশাহী প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় রাজশাহীবাসী, ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল চাবিকাঠি ডিজিটাল সংযোগ সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আপনি কি আল্লাহর ফেরেস্তা, ফখরুলকে কাদেরের প্রশ্ন কাউকে সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কাস্টমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে একাত্তরে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমার ব্যর্থতা থাকলে খুঁজে বের করে দিন: প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন স্কাউট প্রশিক্ষণ পায়: প্রধানমন্ত্রী সংঘাত, সন্ত্রাস ও ক্ষমতা দখলকে পেছনে ফেলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র

এলডিসি গ্রাজুয়েশন

বাংলাদেশের সম্ভাবনা, সক্ষমতা দুই-ই আছে

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২২  

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশ পেয়ে উন্নয়নশীল দেশের তকমা পাওয়া বাংলাদেশের জন্য মর্যাদার ও অর্জনের। কথায় আছে, ‘মুকুট অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা বেশি কঠিন’। কিন্তু বাংলাদেশের বিগত সময়ের অর্জিত অর্থনৈতিক মাইলফলক ও সক্ষমতা জানান দেয়, অর্জিত সম্মান রক্ষার সব ধরনের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা - দুই-ই বাংলাদেশের আছে।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সুবিধা পেতে হলে পূরণ করতে হয় জাতিসংঘের দেয়া তিনটি মানদণ্ড। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙুরতা - এ তিনটি পূরণের মাধ্যমে একটি দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের অনুমোদন পেয়ে থাকে। স্বল্পোন্নত দেশের তকমা থেকে বের হয়ে আসতে হলে এ তিনটি সূচকের যেকোনো দুটি পূরণ করতে হয় বা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ করতে হয়।

জাতিসংঘের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসারে একটি দেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে আসতে চাইলে অর্থনৈতিক ভঙুরতা সূচকে ৩২ পয়েন্ট বা এর নিচে থাকতে হবে, মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ বা এর বেশি পয়েন্ট হতে হবে এবং মাথাপিছু আয় সূচকে ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার থাকতে হবে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা সিডিপির হিসাব মতে, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৮২৭ ডলার, মানবসম্পদ সূচক ৭৫ দশমিক ৩ ও অর্থনৈতিক ভঙুরতা ২৭ দশমিক ২ - যা উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার সব কটি যোগ্যতা পূরণ করে।

সিডিপি প্রতি তিন বছর পরপর এলডিসিগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন করে ও একটি দেশ মানদণ্ড পূরণ করলে তাকে তিন বছর পর্যবেক্ষণে রেখে এলডিসি উত্তরণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ৩টি মানদণ্ডই পূরণ করে ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম বৈঠকের ৪০তম প্ল্যানারি সভায় এলডিসি থেকে উত্তরণের অনুমোদন পেয়েছে। সে হিসাবে বাংলাদেশের ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে বের হয়ে আসার কথা থাকলেও করোনার কারণে জাতিসংঘ এ সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক বিকাশের এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতি হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস। এ পথ ধরে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ পরিণত হবে উচ্চ আয়ের দেশে।

তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) বিলুপ্তি। শুল্কমুক্ত এ বাণিজ্য সুবিধা হারালে বাংলাদেশ কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন হবে এ কথা অনস্বীকার্য। তবে এটা রাতারাতি হচ্ছে না। প্রথমত বাণিজ্য সুবিধাগুলো ধরে রাখতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি ও ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য যা যা করা দরকার তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কেবল এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ সামাল দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ৭টি উপকমিটির সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি কাজ করছে।

সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, ‘আমরা এখন বৈদেশিক অনুদানের ওপর অতটা নির্ভরশীল নই। নিজেদের সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী অসংখ্যবার পরিষ্কারভাবে বলেছেন, বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ হতে চায় না, মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়। এতকিছুর পরও কিছু সংস্থা টিনের চশমা পরে শেখানো বুলি আউড়ে যাচ্ছে।

আশার কথা হচ্ছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মিজ রেনজি টেরিংক বলেছিলেন, বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তীতেও বাংলাদেশকে দেয়া ইইউর বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

কেবল রফতানি সুবিধা নয়, মেধাস্বত্ব সুবিধার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ আরও ১৩ বছর সময় পাবে নিজেদের অবস্থান শক্তপোক্ত করতে। অর্থাৎ ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে আসলেও ২০৩৪ সাল অবধি মেধাস্বত্বের সুবিধা ভোগ করতে পারবে। একইভাবে ট্রিপস চুক্তির অধীনে ফার্মাসিটিক্যাল খাতে বাংলাদেশ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ক্রান্তিকালীন সুবিধা পাবে। এলডিসির একটি বড় সুবিধা জলবায়ু ফান্ড থেকে সাহায্য পাওয়া, যা উত্তরণের পর আর পাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এরইমধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে- যার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ থেকে ‘চ্যাম্পিয়নস অব আর্থ’ পুরস্কারও পেয়েছেন। এতে করে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের নিজেকে গুছিয়ে নিতে ও সক্ষমতা বাড়াতে এখনো সময় আছে।

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের করণীয় নিয়ে সময় সংবাদের সঙ্গে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হানের সঙ্গে। তিনি বলেন, এলডিসির সবচেয়ে বড় সুবিধা ভাবমূর্তি ও আত্মমর্যাদা। দেশের ভাবমূর্তি বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যাবে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অনেক কাজ করতে হবে এবং এখন থেকে শুরু করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর যা অর্জনের তা বাংলাদেশকে দক্ষতা দিয়ে অর্জন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে বাংলাদেশ একটি শক্ত অবস্থান পাবে। সেটিকে কাজে লাগাতে হবে। বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় ভারত-ভিয়েতনাম থেকে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। এখানে বাংলাদেশের কাজ করতে হবে। বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অন্যান্য বিষয়ের ওপরে জোর দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে।

এলডিসির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার দিক হচ্ছে বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়া। জিএসপি সুবিধা সামনে না থাকলেও এফটিএর (মুক্তবাণিজ্য চুক্তি) মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে নিজেদের জায়গা পাকাপোক্ত করে নিতে সক্ষম। বর্তমানে শুধু ভুটানের সঙ্গে এফটিএ চুক্তি থাকলেও, চলতি বছরের এপ্রিলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তারা আরও সাতটি দেশ ও দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে এফটিএ চুক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও মালয়শিয়ার সঙ্গে এফটিএ চুক্তির পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি ব্লুমবার্গে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশ হিসেবে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে। মূলত অগ্রসরমান নতুন অর্থনীতি, বিশ্ববাজারে ভোক্তা সন্তুষ্টি ও তরুণ জনশক্তি হবে বাংলাদেশের শক্তিশালী হাতিয়ার।

শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) বোস্টন কন্সালটিং ফার্মের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব র‍্যাকিংয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের অবস্থান নবম। বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনশক্তির গড় বয়স মাত্র ২৮ বছর। বাংলাদেশের যে যোগ্য জনশক্তি রয়েছে তা দিয়ে দেশটি তার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পআয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যবিত্তের দেশে স্থান করে নেয়। নিজেদের অর্থনীতির গতি ঠিক রাখতে পারলে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যবিত্তের দেশে পরিণত হবে।

বাংলাদেশের আগে মালদ্বীপ, বতসোয়ানা, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, সামোয়া ও কেইপ ভার্দে - এ পাঁচ দেশ এলডিসি থেকে বের হয়েছে। এলডিসি থেকে বের হওয়ার পরে প্রায় প্রতিটি দেশেই বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে। ২০৪১ সালকে সামনে রেখে উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্য ধরে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে বাংলাদেশকে এখন থেকে আর্থিক সাহায্যের মনোভাব থেকে বের হয়ে আর্থিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।