• সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ রজব ১৪৪৪

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
১-৭ মার্চ মোবাইলে কল করলেই শোনা যাবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিন: প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস রুখে দিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে পুলিশ সারদায় কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন বাংলাদেশ পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত রাজশাহী প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় রাজশাহীবাসী, ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল চাবিকাঠি ডিজিটাল সংযোগ সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আপনি কি আল্লাহর ফেরেস্তা, ফখরুলকে কাদেরের প্রশ্ন কাউকে সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কাস্টমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে একাত্তরে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমার ব্যর্থতা থাকলে খুঁজে বের করে দিন: প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন স্কাউট প্রশিক্ষণ পায়: প্রধানমন্ত্রী সংঘাত, সন্ত্রাস ও ক্ষমতা দখলকে পেছনে ফেলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র

কেউ দিতেন ব্যবসার টাকা, কেউ সংগ্রহ করতেন সদস্য

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০২২  

শামিন মাহফুজ ওরফে শামিন স্যার ওরফে মেন্ডিং মুরং। ছাত্রজীবনে ছিলেন মেধাবী। এসএসসি ও এইচএসসিতে বোর্ড স্ট্যান্ড করেছিলেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। উত্তীর্ণ হন প্রথম শ্রেণি পেয়ে। ২০০৩ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন। শিক্ষকতা করেন ২০১১ সাল পর্যন্ত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খুমি সম্প্রদায় নিয়ে পিএইচডি গবেষণায়ও নিযুক্ত হন। থাকা শুরু করেন পাহাড়ে। এসময় জড়িয়ে পড়েন জঙ্গি কার্যক্রমে। সংগ্রহ করতে থাকেন সদস্য। একপর্যায়ে নিজেই গড়ে তোলেন নতুন জঙ্গি সংগঠন। নাম দেন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’।

এই নতুন জঙ্গি সংগঠনে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও রাজধানীর গুলিস্তান থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতাররা হলেন শামিন মাহফুজের ভাতিজা সাকিব মাহমুদ (২৭)। অন্যরা হলেন মো. গোলাম সারোয়ার (২৫), মো. ফরহাদ হোসেন (২২), মো. মুরাদ হোসেন (২১) ও মো. ওয়াসিকুর রহমান ওরফে নাঈম (২৮)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন উগ্রবাদী বই ও লিফলেট, একটি রেজিস্টার এবং ব্যাগ।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানান, তারা জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার দাওয়াতি কার্যক্রম, হিজরত করা সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বাবধান, পার্বত্য অঞ্চলে প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহসহ অন্যান্য সাংগঠনিক কার্যক্রম করে আসছিলেন। তারা ২-৪ বছর আগে নিকটাত্মীয়, বন্ধু ও স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে উগ্রবাদে অনুপ্রাণিত হন।

যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানায় র‌্যাব। এর মধ্যে গোলাম সারোয়ার স্থানীয় একটি মাদরাসা থেকে ফাজিল শেষ করেন। এরপর তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি মিষ্টির দোকানে করতেন চাকরি। এর আগে জঙ্গিবাদের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন তার শ্বশুর নেয়ামত উল্লাহ। এই স্বশুরের মাধ্যমেই দুই বছর আগে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হন গোলাম সারোয়ার।

র‌্যাব জানায়, গোলাম সারোয়ার তথাকথিত হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া তরুণদের কুমিল্লার বিভিন্ন সেফ হাউজে রাখা ও পার্বত্য অঞ্চলে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে পাঠানোর কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

অন্যদিকে গ্রেফতার আরেক যুবক সাকিব মাহমুদ গাইবান্ধা থেকে মাধ্যমিক শেষ করেন। তিনি একটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিংয়ের কাজ করতেন। সাকিব জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার শুরা সদস্য, উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষণের তত্বাবধায়ক শামিন মাহফুজের আপন ভাতিজা। তিন বছর আগে এই সংগঠনে যোগ দেন সাকিব। গাইবান্ধা অঞ্চলে সংগঠনের দাওয়াতি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। সাকিব সংগঠনের একজন সশস্ত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য। তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে।

এদিকে গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে ফরহাদ হোসেন ও মুরাদ হোসেন তারা দুই ভাই। এর মধ্যে ফরহাদ স্থানীয় কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন। আর মুরাদ পড়াশোনা করেন মাধ্যমিক পর্যন্ত। এই দুই ভাই জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সদস্য এবং অর্থ ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিবের শ্যালক। তিন বছর আগে মোশারফ হোসেনের মাধ্যমে তারা এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হন।

এই দুই ভাই রাজধানীর গুলিস্তানে সংগঠনের অর্থ দিয়ে ‘ট্রাস্ট টেলিকম’ নামে একটি মোবাইল এক্সেসরিজের দোকান পরিচালনা করতেন। দোকানের লভ্যাংশ ব্যয় করতেন সংগঠনের কাজে। এছাড়া মুন্সিগঞ্জে তাদের একটি গরু-ছাগলের খামার রয়েছে। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে তাদের খামারে গিয়ে মিটিং করতেন।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে প্রশিক্ষণের জন্য খাবার, বস্ত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্য এবং বোমা তৈরির সামগ্রী সংগ্রহ করতেন ফরহাদ ও মুরাদ। এরপর এগুলো মগবাজারে ওয়াসিকুর রহমান নাঈমের কাছে পৌঁছে দিতেন। এই ওয়াসিকুরকেও গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ওয়াসিকুর রাজধানীর একটি মাদরাসা থেকে হিফজ শেষ করেন। দুই বছর আগে তিনিও জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। তিনি রাজধানীর মগবাজারে ‘ষোল আনা’ নামে একটি আতরের দোকান পরিচালনা করতেন। ব্যবসার লভ্যাংশ সংগঠনের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যয় করতেন।

আর গ্রেফতার নাঈম সংগঠনের দাওয়াতি কার্যক্রম ও পার্বত্য অঞ্চলে প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ফরহাদ ও মুরাদের থেকে বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে নাঈমের আতরের দোকানে পৌঁছে দিতেন।