• রোববার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৯

  • || ২৭ সফর ১৪৪৪

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারের সমুচিত জবাব দিন: প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ‘জাতিসংঘ অধিবেশনে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে’ জাতিসংঘে আজ বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু আজ বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস জলবায়ু ইস্যুতে ধনী দেশগুলোর অবদান ‘দুঃখজনক’: প্রধানমন্ত্রী আ.লীগ সব সময় জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসে: প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বিশ্বশান্তি ও মানবমুক্তির দিকদর্শন: আ.লীগ জাতিসংঘে ১৫ আগস্টের কথা স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা-নমপেন এফটিএ চুক্তিতে সম্মত দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল বাইডেনের অভ্যর্থনায় প্রধানমন্ত্রীর যোগদান রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন: প্রধানমন্ত্রী বাইডেনকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : জাতিসংঘের বলিষ্ঠ ভূমিকা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী চলমান বৈশ্বিক সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ জাতিসংঘে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর আলোকচিত্র প্রদর্শন সাফজয়ী ফুটবলার রূপনা চাকমার জন্য রাঙ্গামাটিতে ঘর নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা বিশ্বজুড়ে গভীরভাবে আঘাত করছে: প্রধানমন্ত্রী

সাত বছরে ৫০০ রিকশা চুরি করেন কামাল হোসেন

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২২  

মো. কামাল হোসেন কমল। ১৫ বছর আগে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে রিকশা চালানো শুরু করেন। একদিন তার রিকশাটি চুরি হয়ে যায়। এরপর নিজেই রিকশা চুরির চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। গত সাত বছরে একে একে পাঁচশোটির বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চুরি ও ছিনতাই করেছেন কামাল হোসেন। এতে গরিব ও নিরীহ রিকশাচালক ছাড়াও রিকশা মালিকদের অনেকে সর্বস্বান্ত হন।

রাজধানীর সবুজবাগ ও মুগদা থানা এলাকা থেকে ২৩টি চোরাই অটোরিকশা উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩। গ্রেফতাররা হলেন- চক্রের মূলহোতা মো. কামাল হোসেন কমল (৩৬), মো. সাজু (৩৫), মো. ফজলুল হক (৩০) ও মো. শাহিন সরদার (৬০)।

এসময় তাদের কাছ থেকে ব্যাটারিচালিত ২৩টি অটোরিকশা, ১৮টি অটোরিকশার চার্জার ব্যাটারি, চারটি মোবাইল ফোন ও চারটি মাস্টার চাবি উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, র‌্যাব-৩ এর আভিযানিক দল গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, রাজধানীর সবুজবাগ ও মুগদা থানাধীন এলাকায় বিভিন্ন গ্যারেজের ভেতর সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ও ছিনতাই করা বিভিন্ন রংয়ের ব্যাটারিচালিত চোরাই এবং ছিনতাই করা রিকশা মজুত করে পরে রং পরিবর্তন করে বিক্রি করে আসছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল বুধবার ভোরে রাজধানীর সবুজবাগ ও মুগদা থানাধীন এলাকায় বিভিন্ন গ্যারেজের ভেতরে অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ রিকশা চোরচক্রের মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, চক্রের মূলহোতা কামাল হোসেন। সে ১৫ বছর আগে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে রিকশা চালানো শুরু করে। একদিন তার রিকশাটি চুরি হয়ে যায়। তারপর রিকশার মালিক তার কাছে থেকে চুরি যাওয়া রিকশার মূল্য আদায় করে। সে ধার করে ওই চুরি যাওয়া রিকশার মূল্য মালিককে পরিশোধ করে।

এই ধারের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে সে চুরি যাওয়া রিকশা খুঁজতে থাকে। সেসময়ই অপরাধ জগতের সদস্যদের সঙ্গে তার পরিচয়। এরপর নিজেই রিকশা চুরিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি করে আসছে চক্রটি।

র‌্যাব বলছে , কামাল হোসেন প্রথমে নিজেই একা রিকশা চুরি করতো। সে নতুন রিকশায় উঠে রিকশাচালককে বিষাক্ত কোমল পানীয় খেতে দিয়ে চালককে অজ্ঞান করে রিকশা নিয়ে পালিয়ে যেতো। আবার কখনো রিকশাচালক কোমল পানীয় খেতে রাজি না হলে তার নাকের কাছে চেতনানাশক ভেজানো রুমালের ঘ্রাণ দিয়ে অজ্ঞান করে রিকশা চুরি করতো। এরপর কমল রিকশা চুরির জন্য একটি চক্র গড়ে তোলে।

একসময় এসব চুরি যাওয়া রিকশা শাহীন, আকবর, মনির এবং বাবলুর গ্যারেজে নিয়ে লুকিয়ে রাখতো। পরে রিকশার মালিককে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করতো। মুক্তিপণের টাকা বিকাশের মাধ্যমে আদায় করা হতো। এরপর একটি অজ্ঞাতস্থানে রিকশা রেখে রিকশার মালিককে রিকশা নিয়ে যেতে বলতো। এ কৌশলে রিকশা চুরি করার পর সে তার সহযোগীসহ একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়।

পরবর্তীসময়ে চুরির কৌশল পরিবর্তন করে কামাল। সে ও তার সহযোগীরা বেশি ভাড়ায় কোনো রিকশায় উঠে রিকশা চালককে নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রাস্তায় ফেলে রেখে রিকশা নিয়ে পালিয়ে যেতো। চুরি করা রিকশাগুলোর রং পাল্টে খোলা বাজারে বিক্রি করে দিতো। এসব রিকশা পাঁচ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো।

র‌্যাব আরও জানায়, কখনো রিকশার মোটর পার্টস খুলে আলাদা আলাদাভাবে বিক্রি করা হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে গাড়ি চুরি, চোরাই গাড়ি নিরাপদ হেফাজতে রাখা, চোরাই গাড়ি বিক্রি ইত্যাদি কাজে কামাল হোসেন বিভিন্ন সময় কৌশল পরিবর্তন করতো। গ্রেফতার এ চক্রের সবাই রিকশা চালনায় পারদর্শী।

গ্রেফতার কামালের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় সাতটি চুরির মামলা এবং ফজলুল হকের নামে একটি মাদক মামলা রয়েছে। গ্রেফতার শাহিনের মান্ডা খালপাড় এলাকায় রিকশা গ্যারেজ রয়েছে। সে ৩০ বছর ধরে এ রিকশা গ্যারেজ পরিচালনা করে আসছে। চোরচক্রের সঙ্গে তারও সাত বছর আগে পরিচয়। বেশি লাভের আশায় সে রিকশা চোরচক্রকে তার গ্যারেজ ব্যবহার করে চোরাই রিকশা বিক্রি ও নিরাপদ হেফাজতে রাখতে সহায়তা করতো। গাড়ি বিক্রির টাকা থেকে সে ১০ শতাংশ কমিশন নিতো।

গ্রেফতাররা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন গ্যারেজকে নিরাপদ স্থান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছিল। আসামিদের এরূপ কার্যকলাপের ফলে গরিব ও নিরীহ ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক ও মালিকদের অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের ফলে ভুক্তভোগীদের মনে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।