• রোববার   ২৬ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
পদ্মা সেতুর সফলতায় প্রধানমন্ত্রীকে কুয়েতের রাষ্ট্রদূতের অভিনন্দন নতুন প্রজন্মকে প্রস্তত হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী আমরা বিজয়ী জাতি, মাথা উঁচু করে চলবো: প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলের উন্নতির জন্য নিজের জীবন দেয়ার ওয়াদা- প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর ওপর হাজারো মানুষের ঢল ‘আছে শুধু ভালোবাসা, দিয়ে গেলাম তাই’ শিবচরের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ: পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন কংক্রিটের অবকাঠামো নয়, পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার: প্রধানমন্ত্রী এ সেতু স্পর্ধিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি: প্রধানমন্ত্রী ৪২টি পিলার বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার ভিত: প্রধানমন্ত্রী ‘সর্বনাশা’ থেকে ‘সর্বআশা’ পদ্মা পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু পদ্মার বুক চিরে বাংলাদেশের ‘সাহস’ পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেশের জন্য গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক দিন সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর মতো সব প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন কামনা করছি: রাষ্ট্রপতি দখিনা দুয়ার খুলছে আজ

কক্সবাজার থেকে ঢাকায় এসে ছিনতাই করতো রেদোয়ান

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২২  

রমজান, ঈদ, পহেলা বৈশাখ, পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার থেকে চুরি-ছিনতাই করতে রাজধানীতে আসতো মো. রেদোয়ান। রাজধানীর মিরপুরের একটি চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে রেদোয়ানসহ বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করে মিরপুর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে রেদোয়ানকে বাসাবো কেন্দ্রীয় মসজিদ মাঠ এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে জানতে পারেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

গত ৮ এপ্রিল মিরপুরের হাজী রোডের একটি বাসা থেকে তিনটি মোবাইল ও একটি এইচপি ল্যাপটপ চুরি হয়। ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১২ এপ্রিল মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মিরপুর গোয়েন্দা বিভাগের আওতাধীন হওয়ায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে মিরপুর গোয়েন্দা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিম। এক পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় রেদোয়ানকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দু’টি চোরাই ল্যাপটপ এবং ১২টি মোবাইল ফোন। যার মধ্যে ওই বাসা থেকে চুরি হওয়া একটি এইচপি ল্যাপটপ এবং একটি মোবাইল ফোন ছিল।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ছিনতাই ও চুরির সঙ্গে জড়িত থাকা এই চক্রের সদস্যরা সব সময় রাজধানীতে অবস্থান করে না। বিভিন্ন উৎসব ও জনসমাগমের বিষয় পরিলক্ষিত হলে, সে সময়টিকে তারা বেছে নেয়। ঈদকে কেন্দ্র করে চুরি-ছিনতাই করতে কক্সবাজার থেকে বাসে করে ঢাকায় চলে আসতো তারা। তাদের মূলত টার্গেট থাকে দামি ফোন এবং ল্যাপটপ। চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের পর মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ যদি কারও মাধ্যমে বিক্রি করতে না পারতো, তাহলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতো তারা। এবার ঈদে তারা যা হাতিয়ে নেয়, তা নিয়ে কক্সবাজার ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়ে চক্রের অন্যতম হোতা রেদোয়ান।

অভিযান সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, চুরি ও ছিনতাইয়ের পর  টাকা-পয়সা শেষ হয়ে গেলে  আবারও রাজধানীতে এসে এ ধরনের অপতৎপরতা চালাতো তারা। বেশ কয়েক বছর ধরে চক্রটি এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত। এই চক্রের সদস্যরা মূলত বাসাবাড়িতে চুরির পাশাপাশি যানজটে আটকে থাকা সাধারণ জনগণের মোবাইল নিয়ে দৌড় দেয়। বাসাবাড়ি বা রাজপথ দুই জায়গাতেই তাদের পদচারণা। চক্রের সদস্যরা ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী। ১০ থেকে ১২ জনের একটি গ্রুপ রয়েছে তাদের।

গ্রেফতারকৃত রেদোয়ান গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, যখনই সে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখনই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজধানীতে চলে আসে। পরে চুরি-ছিনতাই করে। বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে। পরিচিতদের মাধ্যমে মেস ভাড়া নেই এবং সেখানে অবস্থান করে। এক মেসে বেশি সময় অবস্থান করে না। ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে বিজ্ঞাপন দিয়েও এসব চোরাই মোবাইল ও ল্যাপটপ বিক্রি করতো তারা। রেদোয়ান মোবাইল ছিনতাই এবং চুরি করতো। তবে সে সিনিয়র হওয়ায় এগুলো বিক্রির দায়িত্ব ছিল তার ওপর। দুই বছর ধরে সে এ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলেও এবারই প্রথম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে পাকড়াও হলো।

জিজ্ঞাসাবাদে রেদোয়ান আরও জানায়, ফেসবুকের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিলে দুপুরের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যেত চোরাই কিংবা ছিনতাই করা মোবাইল বা ল্যাপটপ। ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা দামের ফোন তারা বিক্রি করতো ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায়। ফজরের নামাজের টাইমে কিংবা দারোয়ানের গতিবিধি লক্ষ করে সময়-সুযোগ বুঝে ভবনে ঢুকে যেত। ভবনের বাসার দরজা খোলা পেলে ঢুকে মোবাইল ও ল্যাপটপ জাতীয় কিছু থাকলে তা নিয়ে চম্পট দিতো। এছাড়া পার্ক করা কোনও গাড়ির দরজা খোলা থাকলে গাড়িতে থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতি কিংবা জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যেত। তারা সব সময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, যখনই সামনে কিছু আসে, তখনই তা চুরি করে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি মিরপুর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার সালাউদ্দিন খান নাদিম বলেন, ‘এ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এক একটি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের পর সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিক্রি করে দিতো। কোনও ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আগেই তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনগুলো ক্রেতাদের হাতে চলে যেত। এছাড়া যখন কোনও ব্যক্তি কম দামে কোনও মোবাইল পাচ্ছে, তখন তারা অন্যান্য বিষয় চিন্তা না করে এসব মোবাইল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। পরে এসব চোরাই মোবাইল কিনে অনেকেই নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। চোরাই মোবাইল কেনার অপরাধে আইনের আওতায় আসছেন তারাও।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলবো, যারাই কম দামে মোবাইল বা ল্যাপটপ কিনবেন, কেনার আগে বিক্রেতার একটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ক্যাশমেমো রয়েছে কিনা, এসব তথ্য সংগ্রহে রাখবেন। এসব বিষয় থাকলে পরে কোনও ধরনের আইনি ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে না।’