• বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ৫ ১৪২৮

  • || ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
ভয়-লোভের ঊর্ধ্বে থাকুন, ডিসিদের প্রধানমন্ত্রী ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ২৪ দফা নির্দেশনা ‘শহিদ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ভিক্ষা করবে আমি দেখতে চাই না’ ওমিক্রনে মৃত্যু বাড়ছে, সচেতন থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সেবা নিতে এসে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন: প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ইসির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব আওয়ামী লীগের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির ইসি গঠনে আইনের খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিসভায় জঙ্গিবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিকেলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আ’লীগের সংলাপ নৌকায় ভোট দিয়েই রংপুর মঙ্গামুক্ত: প্রধানমন্ত্রী আর যেন কখনও মঙ্গা দেখা না দেয়: প্রধানমন্ত্রী রংপুর এখন উদ্বৃত্ত খাদ্যের অঞ্চল: প্রধানমন্ত্রী রংপুর বিভাগীয় সদর দফতর কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা কম হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গবেষণা লব্ধ জ্ঞানকে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে’ টিউলিপ নাম হওয়ায় নেদারল্যান্ডস থেকে কম্পিউটার নেয়নি খালেদা জিয়া ওমিক্রন দ্রুত ছড়াচ্ছে, সর্তক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

আজ মেহেরপুর মুক্ত দিবস

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০২১  

আজ ৬ ডিসেম্বর, মেহেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী খ্যাত মেহেরপুর পাক হানাদার মুক্ত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলায় একে একে ভেঙ্গে পড়ে পাক হানাদারদের শক্তিশালী সামরিক বলয়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে ৫ ডিসেম্বর রাত থেকে পাক বাহিনী গোপনে মেহেরপুর ছেড়ে পালাতে থাকে। ৬ ডিসেম্বর সকালে মিত্র বাহিনী মেহেরপুর শহরে প্রবেশ করলে অবরুদ্ধ জনতা মিত্র বাহিনীর সঙ্গে জয়ের উল্লাসে যোগ দেয়।

মেহেরপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মহির উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণের পর মেহেরপুুর টার্গেটে পরিণত হয় হানাদার বাহিনীর। সে অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল দুপুরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে সড়ক পথে মেহেরপুর প্রবেশ করার সময় সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামে নির্মম গণহত্যা চালায়। ফলে এ অঞ্চলের প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যতঃ ভেঙ্গে পড়ে। ভীত সন্ত্রস্থ জনসাধারণ ঘর-বাড়ি ভিটেমাটি ত্যাগ করে এ জেলা থেকে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের পশ্চিম বাংলায় আশ্রয় গ্রহণ করে। ভারতের হৃদয়পুর, বেতাই, শিকারপুর, করিমপুর, কাচুলিয়া, বিহার সহ বেশকয়েটি জায়গায় প্রশিক্ষণ শিবির খোলা হয়। ভারতীয় বাহিনীর তত্বাবধানে বাংলাদেশী যুব সমাজ গেরিলা ও যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে থাকে। প্রথম অবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমাণ অস্ত্র না পাওয়ায় তাদের মনোবল ভেঙ্গে পড়লেও দেশ স্বাধীনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে অনেকেই দেশে এসে ক্যাম্প লুট করে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে মেহেরপুর সরকারি কলেজ, ভকেশনাল এবং কবি নজরুল শিক্ষা মঞ্জিল সহ তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাক বাহীনি শক্তিশালী দূর্গ গড়ে তোলে।

এছাড়াও মেহেরপুর মহাজনপুরের পাশে চুয়াডাঙ্গার নাটুদা হাইস্কুলে পাক বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। এ ঘাঁটির সঙ্গে নুরপুর, মানিকনগর ও মেহেরপুর ক্যাম্পের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ হত। মে মাসের মাঝামঝি সময়ে গোটা মেহেরপুর জেলা পাকবাহিনী পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয়। জুন-জুলাই মাসের দিকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ শেষে গেরিলারা এসে সেতু কার্লভাট ধবংস এবং টেলিফোন সংযোগ বিছিন্ন করে মাইন পুতে রেখে পাক বাহিনীদের যোগাযোগ এবং খাদ্য সরবরাহে বিপদ সংকুল করে তোলে। আগষ্ট মাসের ২ ও ৩ তারিখে মানিকনগর ক্যাম্প উঠিয়ে মোনাখালিতে এবং কাথুলি ক্যাম্প উঠিয়ে গাংনীর ভাটপাড়াতে স্থাপন করতে বাধ্য হয় পাকবাহিনী।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পাকসেনারা রাজাকারদের সহায়তায় সাধারণ মানুষ সহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর নির্মম অত্যাচার নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালাতে থাকে। পাকসেনারা আমঝুপি, ওয়াপদা মোড়, পিরোজপুর, বুড়িপোতা, গোভীপুর, শালিকা, রাজাপুর, কাজিপুর, তেরাইল, জোড়পুকুরিয়া, বাগোয়ান-রতনপুর, ভাটপাড়া কুঠি, সাহেবনগর, কোলা, হিন্দা ও বাড়িবাঁকা সহ বিভিন্ন গ্রামে নৃশংস গণহত্যা চালায়। যেখানেই গণহত্যা সেখানেই বধ্যভূমি রয়েছে। মেহেরপুরে অন্তত ১৫টি বধ্যভূমি সন্ধান পাওয়া গেছে। তার মধ্যে মেহেরপুর সরকারি কলেজের উত্তরের খোলা মাঠ, কালাচাঁদপুর ঘাট, তাহের ক্লিনিেিকর পূর্বদিক, ও ভাটপাড়া কুঠি অন্যতম বধ্যভূমি। মুক্তিযুদ্ধ চলা কালিন খলিশাকুন্ডি, গোয়ালগ্রাম, সাহেবনগর, কাজিপুর সহ অন্তঃত ৫০ টি স্থানে পাকবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ হয়। পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে ১৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হলেও মুক্তিবাহীনির প্রতিরোধের মুখে  ক্রমশঃ কোনঠাসা হয়ে পড়ে পাকবাহিনী।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদানকারী আনসার সদস্য মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, চুড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে ৫ ডিসেম্বর কড়াইগাছি, রাইপুর-শিমুলতলা, কুঞ্জনগর, ঝোড়পাড়া, সহড়াবাড়িয়া, বুড়িপোতা, মুজিবনগর দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমনে পিছু হটে কুষ্টিয়া রওনা হওয়ার পথে শুকুরকান্দির নিকট মুক্তিযোদ্ধারা পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করলে বেশ কজন পাকসেনা নিহত হয়। চর্তুদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিকল্পিত হামলায় ভাটপাড়া ক্যাম্পের পাকসেনারাও পালিয়ে যায়। ৬ ডিসেম্বর সকালে ব্রিগেডিয়ার জৈল সিংয়ের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর বিশাল বহর মেহেরপুর শহরে প্রবেশ করে। তার পূর্বেই পাকবাহিনীরা লেজ গুটিয়ে চুয়াডাঙ্গা হয়ে কুষ্টিয়া পালিয়ে যায়। মেহেরপর হয় হানাদার মুক্ত। আমরা উল্লাস করতে করতে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে শহরে প্রবেশ করি। ৬ ডিসেম্বর মেহেরপুর মুক্ত হওয়ায় দিনটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহীকতায় দিনটি পালনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল আলোচনাসভা, র‌্যালি  সহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।