• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯

  • || ১৭ মুহররম ১৪৪৪

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
জাতির পিতার মৃত্যু নেই শোক দিবসে বঙ্গভবনে বিশেষ দোয়ার আয়োজন রাষ্ট্রপতির টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যার নির্দেশ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত মানবাধিকার কমিশনকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির ৪০০তম ওয়ানডে খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তা: বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অবদান রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বঙ্গমাতার মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে পীরগঞ্জে তাণ্ডবের মামলায় ৫১ আসামির আত্মসমর্পণ বঙ্গমাতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর সারথি ছিলেন আমার মা: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গমাতা কঠিন দিনগুলোতে ছিলেন দৃঢ় ও অবিচল: রাষ্ট্রপতি ফজিলাতুন নেছা মুজিব দৃঢ়চেতা-বলিষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ বাংলাদেশে সহায়তা অব্যাহত রাখবে চীন: ওয়াং ই চীনে ৯৯ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি শেখ কামাল ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী: প্রধানমন্ত্রী শেখ কামাল ছিলেন ক্রীড়া ও সংস্কৃতিমনা সুকুমার মনোবৃত্তির মানুষ

পদ্মা সেতুর কারনে বরিশালে কৃষির সমৃদ্ধি পুনরুদ্ধার হবে

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২২  

বরিশাল প্রতিনিধি: পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে পুরো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থায় সমৃদ্ধি আসবে। বিশেষ করে কৃষিখাতে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আসবে এই অঞ্চলে। কৃষকদের নিয়ে কাজ করা সরকারি প্রতিষ্ঠন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, কোনো শস্য চাষের আগ্রহ হারানোর মূল কারণ কৃষকের সঠিক বাজার না পাওয়া। অথচ মোঘল আমল থেকে বরিশালকে বলা হতো বাংলার শস্য ভাণ্ডার। মাটির উর্বরতা আর অনুকূল পরিবেশের কারণে এই অঞ্চলের শস্যের কদর ছিল দেশ পেরিয়ে দেশের বাইরেও।

দিনে দিনে সেই ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলে বরিশাল। এর কারণে কৃষকের অনাগ্রহ সৃষ্টি হওয়া, উৎপাদিত পণ্যের বাজার না থাকা। ঐতিহ্য হারানোর সেই গ্লানি এবার মুছে ফেলার সুযোগ এনে দিয়েছে পদ্মা সেতু। যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া কৃষির সমৃদ্ধি পুনরুদ্ধার হবে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান নাহিদা সুলতানা  বলেন, দেশের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে পদ্মা সেতু। এতে পূর্বে যেখানে পণ্য পরিবহনে ৭ থেকে ১৫ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগতো এখন অতটা সময় খরচ হবে না। আশা করা হচ্ছে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টার মধ্যে কৃষিজাত পণ্য ঢাকায় পৌঁছাবে। চার ঘণ্টায় একটি সবজি বা শস্যে পচন শুরু হয় না। যে কারণে স্বল্প সময়ে ক্রেতার কাছে পৌঁছাবে পণ্য। কৃষক লোকসানের মুখে পড়বে না।

শুধু অর্থনীতি বিশ্লেষকরা নন, কৃষকরাও মনে করেন কৃষির সুদিন ফেরাবে এই সেতু। বাকেরগঞ্জের কৃষক নূরে আলম বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে দ্রুত ঢাকা যেতে পারব এটাই বড় লাভ। ধান, জমি, ফসলের দাম বাড়বে বলে মনে করি।

চরমোনাই ইউনিয়নের পান চাষি সুনীল শীল বলেন, এমনও দিন গেছে পাইকারের অভাবে বরজে পান বুড়ো হয়েছে। এখন পাইকার না আসলে নিজে গিয়ে কারওয়ান বাজার বিক্রি করে দিয়ে আসব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের খামারবাড়ি বরিশালের উপ-পরিচালক হারুন উর রশিদ বলেন, এই সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে যে সম্প্রসারণ সৃষ্টি হবে তা অভাবনীয়। কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, শ্রমঘন পরিবেশের সৃষ্টি হবে, কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়বে। আগে ক্রেতা সংকটে যেসব শস্য উৎপাদন হতো না অথচ বাজারে উচ্চমূল্যে তার চাহিদা ছিল, সেগুলো আবাদ হবে। কৃষকের রক্ত চুষে কেউ খেতে পারবে না কারণ দালাল, ফরিয়া, ব্যাপারীদের এখন আর প্রয়োজন হবে না। কৃষক তার ক্ষেত থেকে শস্য উত্তোলন করে সরাসরি ঢাকায় নিয়ে যেতে পারবেন। সেখানে তিনি তাজা শস্য সরবারহ করে ভালো দাম পাবেন। ওই কৃষক ভোরে ঢাকায় গিয়ে তার পণ্য বিক্রি করে আবার রাতে এসে বাড়িতে ঘুমাতে পারবেন।

তিনি বলেন, যেহেতু দক্ষিণাঞ্চলের মাটি খুবই উর্বর। এখানে সব ধরনের শস্য উৎপাদিত হয়। পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।

সনাক সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা বলেন, এই অঞ্চলের তরমুজ, পেয়ারা, আমড়া, মালটা, সবজি বিক্রির জন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর অপেক্ষায় থাকতে হবে না। পচনের ভয়ে তরমুজ এখন আর অল্প দামে বেচতে হবে না। দিনে ক্ষেত থেকে যা তুলবেন তা নিয়ে কৃষক সরাসরি দেশের বড় বড় বাজারে চলে যেতে পারবেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিবিপ্লব সূচিত হবে। বাংলার শস্য ভাণ্ডার বরিশাল বিভাগ তার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চ মূল্যের শস্য যেমন তরমুজ নিয়ে শঙ্কা কেটে গেল চাষিদের। দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও অনাবাদি জমি থাকবে না। আগে আমাদের ফসলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হলেও অনেকগুলো পূরণ হতো না। এখন সেই সুযোগ নেই। সেতু চালু হওয়ার আগেই ড্রাগনের বাগান হয়েছে এই অঞ্চলে। উন্নয়নের প্রধান শর্ত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। আমাদের সমস্যা ছিল ফেরিঘাটে শস্য পচে যেত। এখন ফেরিও নেই। দক্ষিণাঞ্চল তার শস্য ভাণ্ডার ফিরে পেতে কোনো বাধা রইল না।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, বহু কাঙ্ক্ষিত এই সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষ দেশের সকল-প্রান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলো। যার ফলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবনমানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পদ্মা সেতুর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। এই অঞ্চলের জনগণ পরিকল্পিত জনসম্পদে রূপান্তরিত হবে। কর্মসংস্থান ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আবদান রাখবে। যা এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানকে উন্নতির দিকে ধাবিত করবে। আগামীতে দক্ষিণাঞ্চল হবে অন্যতম বাণিজ্যিক ও শিল্পনগরী।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরে এ দেশটি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামীতে এভাবেই এগিয়ে যাবে আরও বহুদূর। আমাদের মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধুকন্যাই হচ্ছেন আমাদের একমাত্র ভরসার স্থল।