শনিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৯ ১৪২৬   ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
সারা দেশে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত ইংরেজি উচ্চারণে বাংলা বলার সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর উন্নত দেশ গড়তে বেসরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুজিববর্ষে বিএনপিকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে: কাদের ভণ্ডপীরসহ ৯ জনের কারাদণ্ড প্রধানমন্ত্রী সব সময় শিক্ষাকে গুরুত্ব দেন: পরিকল্পনামন্ত্রী মুজিব বর্ষে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন করা হবে: শিল্প প্রতিমন্ত্রী আসন্ন সেচ মৌসুমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা নেই : বিদ্যুৎ বিভাগ একুশে পদক হাতে তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুক্রবার একুশে পদক মেধা ও মনন চর্চার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করবে : রাষ্ট্রপতি আজ একুশে পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী এনামুল বাছিরের পদোন্নতির আবেদন হাইকোর্টে খারিজ জাপানের সঙ্গে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সুস্থ যুব সমাজের বিকল্প নেই : প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ ডাকঘর সঞ্চয়ের সুদহার পুনর্বিবেচনা করা হবে : অর্থমন্ত্রী মুঠোফোন প্রতারক জিনের বাদশা গ্রেফতার করোনাভাইরাস নিয়ে গুজবে কান দিবেন না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগর তীরে উঁচু স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিএনপি জ্বালাও-পোড়াও না করলে দেশ আরো এগিয়ে যেত : তথ্যমন্ত্রী
৬৯

৭১’র বিতর্কিত ভূমিকার জন্য বিএনপির সাবেক হুইপ জামালের বিচার দাবী

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  


বানারীপাড়ায় স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বিএনপি দলীয় সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামালর বিরুদ্ধে প্রথম পাকহানাদার বাহিনী এনে পিস কমিটি গঠন করার অভিযোগ এনেছেন বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক বীর প্রতিক ও মুক্তিযুদ্ধকালীণ কমান্ডার আলহাজ্ব কাজী হায়দার আলী। তারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনীর সহয়তাকারী সকল যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার দাবী করেছেন। 
অবশ্য এ অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামাল। তিনি বলেন, আমি সব সময় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ছিলাম এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালিন সময় আমার পাশের বাড়ি (মুন্সি বাড়িতে) আওয়ামী লীগের তৎকালিন এমপি এনায়েত খান তার পরিবার বর্গ নিয়ে ও আমার বাড়িতে প্রাদেশিক প্রদেশের তৎকালিন সদস্য খিতিস মন্ডল, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মালেক খান, এলাকার মুক্তিযুদ্ধা, বরিশালসহ স্থানীয় সংখ্যা লঘুদের আশ্র-প্রশ্রয় দিয়ে সকলকে সাহায্য সহযোগীতা করেছি। জামাল বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় এলাকায় ডাকাতি ও বানারীপাড়া বন্দর বাজার সহ আটঘর-কুড়িয়ানা লুট করে ধরা পড়ে গনপিটুনী খেয়ে ছিলেন, আজ তারাই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযো এনে বিভিন্ন রকম হয়রানী করার চেষ্টা করছেন। 
এ বিষয়ে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডে মুক্তিযুদ্ধকালীণ বেজ কমান্ডার বেণী লাল দাস গুপ্তর (বেণু) সভাপতিত্বে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক বীর প্রতিক ও  মুক্তিযুদ্ধকালীণ কমান্ডার আলহাজ্ব কাজী হায়দার আলী। এ সময় বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক বীর প্রতিক ও মুক্তিযুদ্ধকালীণ কমান্ডার আলহাজ্ব কাজী হায়দার আলী সহ নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তৃতায় বলেন, ১৯৭১ সালে সৈয়দ শহীদুল হক জামাল সর্ব প্রথম এই বানারীপাড়ায় পাকহানাদার বাহিনী নিয়ে এসেছিলেন। এসময় তিনি বন্দর বাজারের হরিসভা মন্দিরে বসে তার চাচাতো বোন জামাতা চাখারের আলী মিয়াকে সভাপতি ও রায়েরহাট এলাকার আব্দুর রব হাফেজকে সম্পাদক করে উপজেলা পিস কমিটি গঠন করে ছিলেন। তিনি ঢাকার বাসা রেখে যুদ্ধের পুরো ৯ মাস বরিশালে অবস্থান করে পেছন থেকে পাকবাহিনীকে নেতৃত্ব দেন। একারণে পাকবাহিনী ও রাজাকাররা বানারীপাড়া বন্দর বাজারে অগ্নিসংযোগ, গাভা-নরেকাঠি ও তালাপ্রসাদ এলাকায় গণহত্যা, নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠীর) সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আটঘর-কুড়িয়ানার পেয়া বাগান কেটে ফেলা, লুটপাট, নারী ধর্ষণ ও হত্যাসহ অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় বলেও অভিযোগ আনেন। এ সময় বক্তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তদন্তপূর্বক বিচার দাবী করেন। এছাড়াও সভায় উপস্থিত অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারাও একই দাবী জানিয়ে সকল মুক্তিযোদ্ধাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
এদিকে বানারীপাড়ায় পাকবাহিনী নিয়ে আসার কথা অশি^কার করে ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামাল বলেন, সাবেক পাট প্রতিমন্ত্রী একে ফায়জুল হকই এদেশে পাক বাহিনীর নেত্রীত্ব দিয়ে ছিলেন। একারণে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়ে ছিলেন। জামাল বলেন, আজ যিনি মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে আমার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করছেন, সেই কাজী হায়দার আলীও ফায়জুল হকের সাথে ছিলেন এবং তার নেতৃত্বেই আটঘর-কুড়িয়ানার পেয়ারা বাগান কেটে ফেলা ও সংখ্যা লঘুদের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকারসহ টাকা-পয়সা লুট-পাট করা হয়। তখন এই কাজী হায়দার আলী বানারীপাড়া বন্দর বাজার লুটের অভিযোগে আটক হয়ে ছিলেন। তখন আমিই তাকে ছাড়িয়ে এনেছিলাম বলেও সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামাল জানান। জামাল বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কাজী হয়দার আলী প্রায় ৪০ বছর ধরে তার স্বান্বিধ্যে ছিলেন। তার এ অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করে কাজী হায়দার আলী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ স্বাধীনের জন্য যুদ্ধ করে ছিলাম। স্বাধীনতা বিরোধীরাই তাকে বিভিন্ন রকম মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নানা ভাবে হেয় পতিপন্ন করেছিলেন। আজও তারা তার বিরোধিতা করছেন। এর পরেও তিনি পাকবাহিনীর দোষরদের বিরুদ্ধে সব সময় সত্য কথা বলে যাবেন বলেও জানান।  
মুক্তিযোদ্ধাদের মতবিনীময় সভায় এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী কমান্ডার মীর সাইদুর রহমান শাহজাহান, বানারীপাড়া সদর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আইনুল হক, বাইশারী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জগন্নাথ, উদয়কাঠি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.শাহ আলম, চাখার ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.সুলতান হোসেন, সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.রফিকুল ইসলাম, সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.হাবিবুর রহমান ও ইলুহার ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাষ্টার আব্দুস সালাম, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সরদার, ইসমাইল রাড়ী, আব্দুল জলিল প্রমুখ।  

এই বিভাগের আরো খবর