সোমবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৫ ১৪২৬   ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে : নাসিম ব্যাংকের জঙ্গি অর্থায়ন নজরদারিতে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪০০ মেট্রিক টন মধু রফতানির অর্ডার পেয়েছে বাংলাদেশ : কৃষিমন্ত্রী নয় বছরে সাড়ে ৯৭ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী দেশে মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশনের মাত্রা ক্ষতিকর নয় : বিটিআরসি সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ২০ বছর পর আজ ঢাকায় আসছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদার প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন পাইনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উহান ফেরত শিক্ষার্থীরা নজরদারিতেই থাকবেন : আইইডিসিআর রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইন্দোনেশিয়ার সহায়তা চাইলেন ড. মোমেন ইউএনও’দের মাধ্যমে রাজাকারের তালিকা করা হবে : মোজাম্মেল হক মানবপাচারে অভিযুক্ত এমপির বিষয়ে দুদককে তদন্তের আহ্বান কাদেরের হত্যা মামলায় ৯ জনের যাবজ্জীবন বিশ্বকাপজয়ী ৬ ক্রিকেটারকে নিয়ে বিসিবি একাদশ ঘোষণা মশা মারার পর্যাপ্ত ঔষধ মজুত আছে : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী রহমত আলীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট রহমত আলী আর নেই নিঃস্বার্থভাবে জনগণের কাজ করুন, নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনা কে ভোট দিল কে দিল না তা বিবেচনা করে না আ. লীগ : প্রধানমন্ত্রী আ.লীগ উন্নয়নে বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী
১৩২

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় দণ্ডিতদের অবস্থান

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০১৯  

২০০৪ সালের একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ৫২ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক ও হত্যার দু’টি মামলা করা হয়। এদের মধ্যে এই মামলার বিচার চলাকালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলমের ফাঁসি অন্য মামলায় কার্যকর হয়। পরবর্তীতে গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে। বাকি ৪৯ আসামির মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর এবং আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ৩১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া তারেক রহমান এবং হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জনকে মামলার নথিতে পলাতক দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

তারেক রহমান: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন শাস্তি দেয়া হয়েছে।

লুৎফুজ্জামান বাবর: বিএনপি সরকারের সময় তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে অবস্থান করছেন।

আব্দুস সালাম পিন্টু: বিএনপি সরকারের সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী ছিলেন আব্দুস সালাম পিন্টু। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন তিনি। গ্রেনেড হামলা মামলায় তিনি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি। তবে যুদ্ধাপরাধ মামলায় তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়।

মুফতি হান্নান: উগ্র ইসলামপন্থী দল হরকাতুল জিহাদের নেতা ছিলেন মুফতি হান্নান। গ্রেনেড হামলা মামলার মূল আসামি তিনি। সিলেটে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার দায়ে ২০১৭ সালে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

তাজুল ইসলাম: বিএনপি সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই তিনি। গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন বলে জানা যায়।

হারিছ চৌধুরী: বিএনপি সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব ছিলেন তিনি। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন শাস্তি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত নয়। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশে আসা যাওয়া করছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন।

মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী: প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআই-এর প্রধান ছিলেন তিনি। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আব্দুর রহিম: তিনি ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা বা এনএসআই-এর সাবেক মহাপরিচালক। এ মামলার রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

লেফট্যান্টে কমান্ডার (অবসরপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম ডিউক: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা সম্পর্কে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে। এ মামলায় দীর্ঘ সময় তিনি জামিনে থাকলেও এখন তিনি কারাগারে রয়েছেন।

শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ: বিএনপির টিকিটে কুমিল্লা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়। মামলার অভিযোগপত্রে তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে। ধারণা করা হয়, তিনি সৌদি আরবে পলাতক আছেন।

মোরসালিন ও মুত্তাকিন: এই মামলার আসামি, ঘটনার ঠিক দু’বছর পর ভারতে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ ধরা পরে বর্তমানে দেশটির তিহার জেলে বন্দি আছে মোরসালিন ও মুত্তাকিন নামে দু’ভাই।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এ টি এম আমিন: বিএনপি সরকারের সময় তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআই-এর দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি ছিলেন। সে সরকারের মেয়াদ শেষ হলে তিনি আমেরিকায় চলে যান। মামলার কাগজপত্রে তাকেও পলাতক দেখানো হয়েছে।

লেফট্যান্টে কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম: সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।

এদিকে, দায়িত্বে অবহেলার কারণে পুলিশ প্রধান শহুদুল হক, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আশরাফুল হুদা ও অতিরিক্ত পুলিশ প্রধান খোদাবক্স চৌধুরীকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বর্তমানে তারা সবাই কারাগারে অবস্থান করছেন।

এছাড়া, সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান এবং এএসপি আব্দুর রশিদ বর্তমানে কারাগারে আছেন। এ তিনজন বিএনপি সরকারের সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন।

মামলার আরেক আসামি পরিবহন ব্যবসায়ী। হানিফ এন্টার প্রাইজের মালিক মোহাম্মদ হানিফের অবস্থান থাইল্যান্ডে। রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

পলাতক হরকাতুল জিহাদ নেতা জাহাঙ্গীর বদর সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এছাড়া হরকাতুল জিহাদ নেতা শফিকুর রহমান, আব্দুল হাই, দেলোয়ার হোসেন জোবায়ের ওরফে লিটন, খলিলুর রহমান ও ইকবাল এদের এখনো হদিস নাই।

পলাতক সব আসামিদের ইন্টারপোল ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

উল্লেখ্য, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০০৮ সালে ২২ জনকে আসামি করে প্রথম অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ২০১১ সালের আরো ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। পরের বছর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। মামলার ৪৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ২২৫ জন। সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন ২০ জন। আর আসামিদের মধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ১৩ জন।

এই বিভাগের আরো খবর