বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
কমছে রাতের তাপমাত্রা, প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা এসআই আকরামসহ ১১ জন জেলহাজতে মানবতাবাদী নাট্যকার আর্থার মিলারের জন্ম মুখের কথায় চলে সাইদের ‘আশ্চর্য মোটরসাইকেল’ বরিশালে জাল-ইলিশসহ ২২জেলে আটক নীলনদের তীরে মিললো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ প্রাচীন কফিন পর্দা নামলো ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড এক্সপোর কুষ্টিয়ায় শুরু হলো তিনদিন ব্যাপী লালনমেলা বাংলাদেশই বিশ্বসেরা, প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৮ শতাংশ হাজার কোটি টাকার চেকের কপি প্রতারক চক্রের বাসায়! ৯ কর্মীকে তলব, একজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ইন্দোনেশিয়া থেকে সরাসরি পণ্য আমদানির সুযোগ চায় বাংলাদেশ পার্বত্য জেলায় সন্ত্রাস-মাদক নির্মূল করা হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাকেরগঞ্জে এনএসআই পরিচয়ে চাঁদাবাজি আটক-২ সাবেক সহকারী কর কমিশনারকে গ্রেপ্তার করল দুদক র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ পেলেই শাস্তি: আইনমন্ত্রী একাদশ সংসদের পঞ্চম অধিবেশন শুরু ৭ নভেম্বর যেখানে দুর্নীতি-টেন্ডারবাজি সেখানে অভিযান- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিতে বাকু যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
২৭০

২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০১৯  

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। একটি রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চাবিকাঠিও বটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে। আর এটিকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা। উন্নয়নকে গতিশীল ও স্থায়ী করতে সরকারও শিক্ষা খাতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষায় সম্পৃক্ততা বাড়ানো, মানোন্নয়ন, বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তি সংযোজন, অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্য দিয়ে যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর মাধ্যমে শতভাগ শিশুর স্কুলে গমন, ঝরে পড়া রোধ, সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত, প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল) ও এসএসসি (ভোকেশনাল) স্তরে প্রতিবছর ১ জানুয়ারি কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক তুলে দিচ্ছে। বৈষম্য দূরীকরণে উদ্দেশ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হচ্ছে ব্রেইল পদ্ধতির পাঠ্যপুস্তক। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, সাদরি, ত্রিপুরা ও গারো) শিক্ষার্থীদের নিজ মাতৃভাষায় তৈরি পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হচ্ছে। পরিমার্জিত পাঠ্যক্রমে তৈরি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সুনির্দিষ্ট সময়সূচিতে নেওয়া হচ্ছে পাবলিক পরীক্ষা। নির্ধারিত দিনের মধ্যে হচ্ছে ফল প্রকাশ। ২০১৩ সাল থেকে ষষ্ঠ-দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা (লাইফ বেজড এডুকেশন) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শিক্ষাবিদ আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, আসন্ন বছরগুলোতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকের উন্নতি চাই। এ জন্য পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যক্রমে মৌলিক পরিবর্তনের দরকার আছে। এনসিটিবিকে পুনর্গঠিত করতে হবে। বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা পেশামূলক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে। আর্থ-সামাজিক-রাষ্ট্রিক ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ডিজিটাল শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। 
জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম কার্যকর ও আনন্দদায়ক করতে নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩২ হাজার ৬৬৭টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টিচিং কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্টের জন্য পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি বিষয়ে নিয়মিত রুটিনের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাসের আয়োজন করা হচ্ছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজকে ইংরেজি, রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজকে গণিত এবং সিলেট টিচার্স ট্রেনিং কলেজকে বিজ্ঞান বিষয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতায় প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে রূপ দেওয়া হবে।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, মানসম্মত আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা লাভ করে জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি আয়ত্ত করে আমাদের নতুন প্রজন্ম যাতে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদে উন্নীত করে। এর জন্য দক্ষ শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই। দক্ষ শিক্ষক তৈরির জন্যও সরকারের উদ্যোগ থাকতে হবে।

দেশের উচ্চশিক্ষায় গুণগতমান নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্বমান পর্যায়ে উন্নীতকরণের জন্য সরকার অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠন করছে। উচ্চশিক্ষা গবেষণার মানোন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে ২ হাজার ৫৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। কলেজ শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের সঙ্গে পার্টনারশিপ চুক্তি হয়েছে। এরপরও দেশের উচ্চশিক্ষার মান কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছেনি। এর প্রতিফলন দেখা যায় পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সারাদেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। এর মধ্যে ১০ লাখ ৪৩ হাজার শিক্ষিত তরুণ-তরুণী, যারা উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস। অর্থাৎ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ।
এ শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে বলে মনে করেন ড. মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, এটাও চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক না কেন, আমাদের তা মোকাবিলা করতে হবে এবং সফল হতে হবে। আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিক্ষাই সর্বাধিক ফলপ্রসূ উপায়। নিরক্ষরতা দূরীকরণ থেকে শুরু করে সর্বাধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাদান সবই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্ব পেতে হবে।

দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মমুখী জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি অব ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল গঠন করেছে। সব পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পদ্ধতি উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শ্রমিকদের মানোন্নয়ন করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর