শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি : প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে সংযমের সঙ্গে চলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর সাথে যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি দলের সাক্ষাত অবৈধ জুয়ার আড্ডা বা ক্যাসিনো চলতে দেওয়া হবে না: ডিএমপি কমিশনার পটুয়াখালীতে ধর্ষণ মামলার বাদীকে পেটানো প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার-৪ শাহজালালে বিমানের জরুরি অবতরণ শুক্রবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ফকিরাপুলের ক্যাসিনো থেকে আটক ১৪২ জনের জেল রাজধানীর তিনটি ক্যাসিনোতে র‌্যাবের অভিযান জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ রিয়াদের ফিফটিতে টাইগাররা ১৭৬ রানের লক্ষ্য দিলো জিম্বাবুয়েকে টস হেরে ব্যাটিং এ বাংলাদেশ রিফাত হত্যা : পলাতক ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রোহিঙ্গা সংকট : ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ আমাদের কাজই হচ্ছে জনগণকে সেবা দেয়া : প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন বাংলাদেশের পক্ষে: মোমেন আজ গাজীপুর যাবেন প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ দূষণ: ৪ প্রতিষ্ঠানকে কোটি টাকা জরিমানা স্বর্ণজয়ী রোমান সানার মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী আরো দু’টি বোয়িং বিমান কেনার ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী
১৩

সমাপনীতে চাপ কমাতে পরিবর্তন আসছে জিপিএ ৫-এ

প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রত্যেক সরকার কাজ করে। বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের উন্নয়নে নানমুখী কাজ করে যাচ্ছে। দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৬ হাজার। প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের বিশাল এ পরিবারের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আমার সংবাদের সাথে একান্ত সাক্ষাতে কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়ন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে জড়িত শিক্ষকদের পাঠদানে নতুন কৌশল, অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে মিটিং করেছি। এখন থেকে গ্র্যাজুয়েশন ছাড়া কোনো শিক্ষক নিয়োগ হবে না। ছেলে-মেয়ে উভয়কে ডিগ্রি পাস করতে হবে।

তিনি বলেন, আগের অনেক শিক্ষক এসএসসি ও এইচএসসি পাসের আছে আবার মাস্টার্সেরও আছে। এই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এক জায়গায় আনার জন্য কাজ চলছে।

নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, চলতি মাসেই শিক্ষক নিয়োগ রেজাল্ট প্রকাশ করা হবে। তারপর নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যাবে। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও নতুন করে ৬১ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি হবে এবং সারা দেশে নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রাক-প্রাথমিক বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন অভিভাবক তার সন্তানকে ভর্তি করে দিয়ে মনে করে তার সন্তানের অনেক বয়স হয়ে গেছে। আবার অনেকেই ৩-৪ বছর বয়সে তাদের সন্তানকে কেজি, কিন্ডার গার্টেন স্কুলে ভর্তি করে দিয়ে তাদের দেখাদেখি অনেক বাবা-মা ওই স্কুলের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। আমাদের মন্ত্রণালয় প্রাক-প্রাথমিক চালু করেছে। বর্তমানে আবাসন সমস্যার কারণে অল্প জায়গায় প্রাক-প্রাথমিক চালু হয়েছে।

আবাসন সমস্যার সমাধান হলে সারা দেশেই চালু হয়ে যাবে। এর জন্য আমরা শিক্ষকও নিয়োগ দেবো। প্রাক-প্রাথমিক দুবছর করা হবে। এখানে শিশু শিক্ষার্থীরা এসে যেনো খেলারছলে শিক্ষা নিতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

জাতীয় স্কুল মিলনীতি পাস হওয়ায় এখন এ বিষয়ে কাজ চলছে। আমরা সারা দেশের শিক্ষার্থীদের দুপুরে লাঞ্চের ব্যবস্থা করবো। পাইলোটিং হিসেবে বেশকিছু জেলায় দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে। কোথাও রান্না করা খাবার আবার কোথাও বিস্কুট দেয়া হচ্ছে।

এছাড়াও প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য আনতে চাল, ডাল, তেল, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন মৌসুমি তাজা সবজি, ফল এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ডিম দিয়ে খাবার রান্না করা হবে। অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পরামর্শ করে খাবারের মেনু ঠিক করা হবে।

আমরা খাবারে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছি। যেমন— রান্না করা খাবারের পাশাপাশি কলা, রুটি এবং ডিমও দেবো। এতে খাবারের মধ্যে একঘেয়েমি থাকবে না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে স্কুলমিল কার্যক্রম চালু হলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া অনেকাংশে কমে আসবে।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা বিষয়ে মো. জাকির হোসেন বলেন, এই পরীক্ষা বন্ধের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নাই। পরীক্ষা থাকবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবাই তো লেখাপড়া করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে।

ওই সকল শিক্ষার্থীকে পিইসি পরীক্ষার মাধ্যমে একটা ধারণা থাকে। কীভাবে বড় পরীক্ষাগুলোয় অংশগ্রহণ করতে হয়। তবে এসব ক্ষুদে শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া নিয়ে অভিভাবকরা অস্থির হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, বাচ্চাদের অতিরিক্ত চাপ দিয়ে থাকেন।

বাচ্চাদের কোচিং, অতিরিক্ত চাপ বন্ধ করতে একটা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি। যেমন— এ প্লাস, এ গ্রেড বাদ দিয়ে আমরা অন্যকিছু নিয়ে চিন্তা করছি। যাতে শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর থেকে এ বোঝা নামানো যায়। শুধু স্কুলের পড়াশোনার মধ্য দিয়ে একটা নম্বর বেধে দেওয়া হবে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

স্কুলের অবকাঠামো বিষয়ে বলেন, আমাদের এতোবড় শিক্ষা পরিবারের নিজস্ব কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর নাই। স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে কাজ করতে হয়। ফলে একটু-আধটু সমস্যা হচ্ছে। চেষ্টা করছি নিজস্বভাবে এ ভবনগুলো তদারকি করা যায় তার ব্যবস্থা করতে।

প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আন্তরিক। এছাড়াও শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য এবং তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে কাজ করার কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনেক চিন্তা-ভাবনা করেন।

তিনি সবার কথা শুনেন, উপলব্ধি করেন। আমাদের যেটুকু সমস্যা আছে তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এই বিভাগের আরো খবর