• বুধবার   ০৩ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭

  • || ১১ শাওয়াল ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ: তথ্যমন্ত্রী যেকোনো প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারব: প্রধানমন্ত্রী সময় যত কঠিনই হোক দুর্নীতি ঘটলেই আইনি ব্যবস্থা: দুদক চেয়ারম্যান জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর করোনা বিশ্ব বদলে দিলেও বিএনপিকে বদলাতে পারেনি: কাদের করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯১১ সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়াতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী সারা দেশকে লাল, সবুজ ও হলুদ জোনে ভাগ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৩৮১ জনের করোনা শনাক্ত পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চলছে: রেলমন্ত্রী দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৪৫ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ৪০ জন বাস ভাড়া যৌক্তিক সমন্বয়, প্রজ্ঞাপন আজই: ওবায়দুল কাদের এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবো না: প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে এসএসসির ফল প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ১২টার পরিবর্তে ১১টায় প্রকাশ হবে এসএসসির ফল করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৭৬৪ পদ্মাসেতুর সাড়ে ৪ কি.মি. দৃশ্যমান, বসল ৩০তম স্প্যান পদ্মা সেতুর ৩০তম স্প্যান বসছে আজ একদিনে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার শনাক্ত, মৃত্যু ২৩ জনের
১০৮

সফর মাসের বিশেষ নামায

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০১৯  

 

সফর মাসকে কেন্দ্র করে কুসংস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন আমল-ইবাদাতেরও আবিষ্কার হয়েছে, যার সাথে ইসলামের দূরতম সম্পর্কও নেই। যেমন সফর মাসের প্রথম রাতে বিশেষ পদ্ধতির নামায। বলা হয়, কেউ যদি সফর মাসের ১ম রাত্রিতে মাগরিবের পরে বা ইশার পরে চার রাকআত নামায পড়ে, অমুক অমুক সুরা বা আয়াত এতবার পাঠ করে তবে সে বিপদ থেকে রক্ষা পাবে, এত এত পুরস্কার পাবে ইত্যাদি। এগুলি সবই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা। বহুল প্রচলিত ‘বার চান্দের ফজিলত’ বইয়ে এ সংক্রান্ত অনেক ভিত্তিহীন কথাই বর্ণনা করা হয়েছে। আলিমদের উচিত এটি তাহকিক করে নতুন সংস্করণ বের করা। তা সম্ভব না হলে সাধারণ মানুষদের এসব বই পড়া থেকে বিরত রাখা। 

আখেরি চাহার শোম্বা 

‘আখেরি চাহার শোম্বা’ কথাটি ফার্সি। এর অর্থ হলো শেষ বুধবার। সাধারণ পরিভাষায় আখেরি চাহার শোম্বা বলে সফর মাসের শেষ বুধবারকে বোঝানো হয়ে থাকে। বলা হয় যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) যে অসুস্থতার মধ্যে রবিউল আওয়াল মাসের শুরুভাগে ইন্তিকাল করেন, সফর মাসের শেষ বুধবারে অর্থাৎ আখেরি চাহার শোম্বায় সে অসুস্থতা থেকে কিছুটা সুস্থতা বোধ করেছিলেন। তাই এ দিবসটিকে খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করা হয়। অথচ এ তথ্য বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়। এটা অবশ্য বর্ণিত হয়েছে যে, মৃত্যুর ক’দিন আগে তিনি গোসল করেছিলেন। আম্মাজান আয়িশা (রা.) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন আমার ঘরে প্রবেশ করলেন, তাঁর অসুস্থতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা আমার উপরে ৭ মশক পানি ঢালো, যেন আমি আরাম বোধ করে লোকদের নির্দেশনা দিতে পারি।’ তখন আমরা এভাবে তাঁর দেহে পানি ঢাললাম…। এরপর তিনি মানুষদের নিকট বেরিয়ে গিয়ে তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তাদেরকে ওয়ায-নসিহত করলেন।” [বুখারি, আসসাহিহ] 

এখানে স্পষ্ট যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর অসুস্থতার মধ্যেই অসুস্থতা ও জ্বরের প্রকোপ কমানোর জন্য এভাবে গোসল করেন, যেন কিছুটা আরাম বোধ করেন এবং মসজিদে গিয়ে সবাইকে প্রয়োজনীয় নসিহত করতে পারেন। এই গোসল করার ঘটনাটি কত তারিখে বা কী বারে ঘটেছিল তা হাদিসের কোন বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে ইমাম ইবনু হাজার আসকালানি (রহ.) বুখারি ও মুসলিমের অন্যান্য হাদিসের সাথে এই হাদিসের সমন্বয় করে উল্লেখ করেছেন যে, এই গোসলের ঘটনাটি ঘটেছিল ইন্তিকালের আগের বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ইন্তিকালের ৫ দিন আগে। ১২ই রবিউল আওয়াল ইন্তিকাল হলে, গোসলের ঘটনাটি ঘটেছিল ৮ই রবিউল আউয়াল। 

প্রথমত খানিকটা সুস্থতার ঘটনাটাই প্রমাণিত নয়, আর গোসলের ঘটনাটা সফর মাসে নয়, রবিউল আওয়াল মাসে। এখান থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত এ আখেরি চাহার শোম্বা ভিত্তিহীন একটি ব্যাপার। 

মূল ঘটনাটাই যেহেতু প্রমাণিত নয়, সুতরাং এর ফযিলত থাকাটাও সম্ভব নয়। এরপরও এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু ভিত্তিহীন বানোয়াট বর্ণনা পেশ করা হয়। যেমন বলা হয়, বুধবার অশুভ এবং যেকোনো মাসের শেষ বুধবার সবচেয়ে অশুভ দিন। আর সফর মাস যেহেতু অশুভ (জাহিলি আরবদের মিথ অনুযায়ী), সেহেতু সফর মাসের শেষ বুধবার বছরের সবচেয়ে অশুভ দিন এবং এই দিনে সবচেয়ে বেশি বালা-মুসিবত নাযিল হয়...।’ আরও বলা হয়, ‘সফর মাসে এক লাখ বিশ হাজার বিপদাপদ নাযিল হয় এবং সবচেয়ে বেশি আখেরি চাহার শোম্বা তথা সফর মাসের শেষ বুধবারে নাযিল হয়।’ 

উপরের কোনো একটি বর্ণনাও আমরা কোন সহিহ বা যয়িফ হাদিসেও পাইনি। আর ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়া অন্য কোন মুসলিম সমাজে ‘সফর মাসের শেষ বুধবার’ পালনের রেওয়াজও নেই। সাহাবা, তাবিয়িন, তাবি তাবিয়িন বা পরবর্তী যুগের অনুসরণীয় মুসলিমরা কখনোই এধরনের কোনো অনুষ্ঠান পালন করেননি। সুতরাং এত্থেকে বেঁচে থাকা একান্ত জরুরি। 

ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর