রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
ফাদার রিগনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিকেলে যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অখ্যাত মায়োর্কার মাঠে রিয়ালের প্রথম হার টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত শ্রমিকের স্বার্থে কাজ করছে সরকার: শ্রম প্রতিমন্ত্রী যুবলীগ থেকে বহিষ্কার কাউন্সিলর রাজীব টেকনাফে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ রোহিঙ্গা আটক রাজীবের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান পরিচালনা করছে র‌্যাব অস্ত্র ও মাদকসহ রাজীবকে আটক করেছে র‌্যাব কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিব গ্রেফতার আসছে ‘জলের গান’র অ্যালবাম, থাকছে বারী সিদ্দিকীর গান বছর শেষ হলেই বাতিল হচ্ছে ২ হাজার রুপির নোট ঢাকায় আসছেন নিউইয়র্ক সিটির ৫ সিনেটর বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত দাইয়ুস জান্নাতে যাবে না ড্রাগনের রক্ত বয়ে চলেছে যে গাছ! বালিশকাণ্ডের মতো কলঙ্কজনক কাজ যেন না হয় :পরিকল্পনামন্ত্রী দলে অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দেওয়া হবে না: নাসিম দোয়া পাওয়ার জন্য রাজনীতি করি : শামীম ওসমান আর্থিক সংকটে দুদিন বন্ধ জাতিসংঘ
২২

সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

প্রধানমমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাই, জনগণের সেবার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

আজ রোববার রাজশাহীর সারদায় ৩৬তম বিসিএস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা অব্যহত রাখতে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক বিরোধী অভিযান অব্যহত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে ৪৯ হাজার পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পুলিশদের মান উন্নয়নে সকল সুযোগ সুবিধা চালু করা হয়েছে। বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ভাতা চালু করা হয়েছে। নতুন পুলিশ সদস্যদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমি আশা করি আপনাদের প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রূপক-২০২১' এবং 'রূপকল্প-২০৪১' বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সােনার বাংলা বিনির্মাণে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট থাকবেন।

স্বাধীনতা সংগ্রামে পুলিশের গৌরবােজ্জ্বল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশ পুলিশকে স্বাধীনতা পদক ২০১১' এ ভূষিত করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, পুলিশের নবীন কর্মকর্তারাও তাদের পূর্বসূরীদের ন্যায় দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব ও অসীম সাহসিকতার।

সঙ্গে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবেন। ১৯৭২ সালের ৯ মে বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম প্রশিক্ষণ সমাপণী কুচকাওয়াজ এ সারদায় অনুষ্ঠিত হয়। সেই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু তার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে সর্বদাই এ দেশের পুলিশকে জনগণের পুলিশ হিসেবে গড়ে তােলার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, অপরাধের ধরণ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। গতানুগতিক অপরাধের পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম, মানিলন্ডারিং, মানবপাচার ইত্যাদি বৈশ্বিক অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের মত অশুভ সামাজিক ব্যাধি। সমাজ থেকে এসব অপকর্ম নির্মূলে এবং সমসাময়িক সব চ্যালেঞ্জ মােকাবিলায় সবাইকে সবসময় সচেষ্ট থাকতে হবে। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের অব্যাহত সাফল্য শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এদেশের মাটিতে কোনভাবেই জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না।

এ সময় প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভিন্ন সময় স্বার্থান্বেষী মহল যেভাবে গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তার ব্যাপারে সব সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব গুজব রটনাকারীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার বিগত ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর এদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনমানুষের জীবনযাত্রার মানােন্নয়ন সেবা প্রাপ্তি সহজতর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বৈদেশিক নীতি ও সম্পর্ক, গ্রামীণ ও নগর অবকাঠামাে, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক নিরাপত্তা-প্রতিটি সেক্টরেই আজ কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশেও আমাদের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। যােগাযােগ খাতে আমাদের যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

এছাড়া মেট্রোরেল এবং নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ইতােমধ্যেই জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঘােষণা করেছে বলেও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সুসজ্জিত খােলা জিপে চড়ে বর্ণাঢ্য প্যারেড পরিদর্শন এবং সহকারী পুলিশ সুপারদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।

প্যারেড কমান্ডার শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার শাহিন আক্তার ও সহকারী প্যারেড কমান্ডার রবিউল ইসলাম খানের নেতৃত্বে এক এক করে মোট ৮টি কন্টিনজেন্ট প্যারেড অংশগ্রহণ করে। ৮টি কন্টিনজেন্ট থাকা মোট ১১৭জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মার্চপাস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানান। এরপর পতাকাবাহী দল, পুলিশ একাডেমির বিশেষ অশ্বারোহী দল ও সর্বশেষ বাদক দল একে একে মার্চপাস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম ও অভিবাদন জানান।

পরে একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৩৬তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপণী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে ট্রফি বিতরণ করেন। পরে তিনি নবীন এই পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারগণ হলেন- ‘বেস্ট শ্যুটার’ খায়রুল কবির, 'বেস্ট ফিল্ড পারফমার’ আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, ‘বেস্ট হর্সম্যানশিপ’ সালাহউদ্দিন, ‘বেস্ট একাডেমিক' সাইফুল ইসলাম খান এবং বেস্ট প্রবেশনার সালাহ্ উদ্দিন। প্যারেডে ১৭ জন নারী অফিসারসহ ১১৭ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর সারদায় পৌঁছান। সকাল সাড়ে ১০টায় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে সারদায় থাকা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। পরে বেলা ১১টায়  মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী এবং ৩৬তম বিসিএস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপণী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী একাডেমি চত্বরে একটি আম গাছের চারা রােপণ করেন। তিনি শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারগণের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে এ দিন দুপুরেই প্রধানমন্ত্রী আবার রাজশাহীর সারদা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল মো. নজিবুর রহমান, সরকারের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা, বিদেশি কূটনীতিকরা, অতিরিক্ত আইজিপিরা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, মুক্তিযােদ্ধা, রাজশাহী শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর