• বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৫ ১৪২৭

  • || ১২ সফর ১৪৪২

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
রিফাত হত্যা: মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ পাঁচদিনের রিমান্ডে জেএমআই চেয়ারম্যান করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৬, শনাক্ত ১৪৮৮ অস্ত্র মামলায় সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই দূরদর্শী নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন এমসি কলেজে ধর্ষণের ঘটনায় কাউকে ছাড় নয়: কাদের করোনায় আরও ২৮ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৫৪০ মেহেরপুরে ‘আল্লাহর দল’র সক্রিয় সদস্য আটক করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৬৬ করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৮, শনাক্ত ১৫৫৭ মসজিদে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ ধর্ষণ মামলায় ভিপি নুর গ্রেফতার আইসিটি মামলায় আলাউদ্দিন জিহাদী এক দিনের রিমান্ডে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪০, শনাক্ত ১৭০৫ গাড়িচালক মালেক ১৪ দিনের রিমান্ডে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৬, শনাক্ত ১৫৪৪ গভীর সমুদ্র থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৭ ব্যাংকটা যেন ভালোভাবে চলে সেদিকে দৃষ্টি দিবেন: প্রধানমন্ত্রী
৬১

লকডাউনে সন্তান অশান্ত? কীভাবে সামলাবেন

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২০  

সাধারণ অবস্থায় সকলেই তার নিজস্ব কাজকর্মে ব্যস্ত থাকেন। সন্তানরা যেমন তার স্কুল, খেলার মাঠ, কোচিং ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এর বাইরের সময়টাই সন্তানের সঙ্গে ভালো মতো দেখাসাক্ষাৎ হয়। সময়টুকু আদরে-শাসনে কেটে যায়। যতটুকু সময়ই সন্তানের সঙ্গে কাটানো হোক না কেন, মন বলে কম সময় দেওয়া হলো, যদি কখনো লম্বা ছুটি পাওয়া যেতো, তাহলে সন্তানকে ভালো মতো সময় দেওয়া যেতো। লকডাউনের সময় তা সুদে-আসলে উসুল করার চেষ্টা করছেন অনেকে। কিন্তু সন্তান খুশি হওয়ার বদলে বিরক্ত হচ্ছে সন্তান। রাগারাগি করছে।

অখুশি সন্তান
সন্তান ঘরে বন্দি, মাঠে খেলাধুলা বন্ধ, স্কুল কিংবা পাশের বাসার বাচ্চাদের সঙ্গে হইহুল্লোড় বন্ধ করে বাড়িতে বাবা-মায়ের চোখের সামনে বসে থাকতে হচ্ছে দিনরাত, তার উপর অনেকেই আছে অনলাইন ক্লাস ও টাস্কের চাপ। সেখানেও একটু এ দিক থেকে সে দিক হলে বাবা-মায়ের চোখরাঙানি।

এ দিকে নিজের মতো করে সময় কাটানোর কোনও সুযোগ নেই। সময়ে স্নান করতে ও খেতে হবে, ঘুমোতে হবে সময়ে, ফোনে বেশি ক্ষণ গল্প করা যাবে না, এমনকি বসে খেলতেও হবে নিয়ম মেনে। তার উপর আগে যতটুকু ভালমন্দ খাওয়া হত— সে রেস্তরাঁয় গিয়ে হোক বা বন্ধুদের টিফিনের ভাগ থেকে— এখন সে সবও বন্ধ। চার বেলা ঘরে বানানো স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হচ্ছে। চিপস, কোল্ড ড্রিঙ্ক, পিৎজা যে আনানো যায় না তা নয়। কিন্তু রোগ ঠেকানোর খাতিরে সে সবও ব্রাত্য। অখাদ্য খাবার অপছন্দ হলেও খেতে হবে বাবা-মায়ের আদেশে। ফলে কথায় কথায় বিদ্রোহ করছে সন্তান।

তবে সন্তানকে একটু বুঝলে এই সব সমস্যার সমাধান একেবারেই অসম্ভব নয়।  প্রয়োজনে নিজের ব্যবহারে পরিবর্তন আনুন। যেমন—

সমাধান

• যা করবেন তার বেশ কিছুটা সন্তানের সঙ্গে আলোচনা করে করুন। তার মতামত অগ্রাহ্য করে নিজের মত চাপালে হবে না সব সময়।

• দু’জনে কথা বলে মোটামুটি একটা রুটিন ঠিক করে নিন। কত ক্ষণ সে পড়বে, কত ক্ষণ টিভি দেখবে, কত ক্ষণ গেম খেলবে আর কত ক্ষণই বা আপনার কাজে সাহায্য করবে। একই ভাবে ঘুমাতে যাওয়া, সকালে ওঠা, হালকা ব্যায়াম ও কোনও শখের চর্চা কখন কতক্ষণ ধরে করবে সে, তার একটা রূপরেখা ঠিক করে নিন। খেয়াল রাখুন সে রুটিন কতটা মানছে। অনিয়ম করলে দিনের শেষে মনে করান। এতে অশান্তি কমবে, সে নিজের দায়িত্বও নিতে শিখবে। শিখবে নিয়মানুবর্তিতা। সব সময় বকাবকি করলে যা হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। সন্তান নিয়ম মানলে তাকে আনন্দ দেয় এমন কিছু উপহার দিন বা রেঁধে খাওয়ান।

• রুটিনের ব্যাপারটা যদি নতুন হয় তা হলে প্রথমে উৎসাহ ভরে রাজি হলেও পরে ঢিলেমি করবে সন্তান। ধৈর্য ধরুন। বকাঝকা না করে নিয়মিত মনে করিয়ে যান। একটা সময় ধাতে চলে আসবে।

• যে দিন পুরো নিয়ম মানবে বা অনিয়ম কম করবে, সে দিন ওর পছন্দের কোনও খাবার বানিয়ে খাওয়াতে পারেন। বা পছন্দের কোনও গেম বা শো আধ ঘণ্টা বেশি খেলার বা দেখার সুযোগ দিতে পারেন। এটা যে তার নিয়ম মানার পুরষ্কার তা ভাল করে বুঝিয়ে দেবেন। অর্থাৎ সে যেন বোঝে নিয়ম মানলে পুরষ্কার ও না মানলে তিরষ্কার পাওয়াটাই নিয়ম।

• তার কোনও বিশেষ দাবিদাওয়া থাকলে আগেই তা নস্যাৎ করে না দিয়ে মন দিয়ে শুনুন সে কী বলতে চায়। ভেবে দেখুন, তাতে তার কোনও ক্ষতি হবে কি না। না হলে ১০টার মধ্যে ৫-৭টা মেনে নিন। তা হলে যেগুলি মানলেন না তা নিয়ে তার অভিযোগ থাকবে না।

• অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না। তারই কোনও বন্ধু বা পড়শি কত ভাল করে পড়ছে বা ঘরের কাজে সাহায্য করছে আর সে কিছু করছে না, এ সব বলে লাভ তো কিছু হবেই না, বরং অশান্তি বাড়বে।

শেষ কথা
আপনি হয়তো ভাবছেন, আপনি টেনশনে আছেন, আর আপনার সন্তানের আর টেনশন কিসের, ওর জন্য তো আপনি সবই করছেন, ওর যা চাহিদা সবই আছে। তা কিন্তু নয়। সেও নানা উদ্বেগে আছে। তার মাথায় ও অনেক চিন্তা ঘুরছে, কবে স্কুল খুলবে, কবে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা হবে, কবে বন্দি দশা ঘুচবে , কবে ফাস্ট ফুড খেতে যাবে ইত্যাদি নিয়ে তার মনেও খুব অশান্তি। কাজেই তার আচরনে ক্ষুদ্ধ হয়ে শাসন করে তার ঘরে থাকাটা অসহনীয় করে তুলবেন না। বাড়িতে সে যেন নিয়মও মানে আবার আনন্দেও থাকে সেই ভারসাম্য দু’জনকেই বজায় রেখে চলতে হবে।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর