সোমবার   ২০ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৭ ১৪২৬   ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
দেশে মুক্তিযুদ্ধের পতাকাবাহী সরকার প্রতিষ্ঠিত: রাষ্ট্রপ‌তি সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন আইসিসির সিইও সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এমপি মান্নানের প্রথম জানাজা সম্পন্ন সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা : ১০ জঙ্গির ফাঁসি এমপি মান্নানের মরদেহে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা আদালতে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা মামলার ৪ আসামি চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প শহীদ আসাদ দিবস আজ বৈষম্য বিলোপ আইনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে: আইনমন্ত্রী মানবতার কল্যাণ কামনায় শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে লাখো মুসল্লি তুরাগতীরে পুরো পরীক্ষাই পেছাবে, নতুন সূচি আজ : শিক্ষামন্ত্রী ফাইভজির স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবে শিগগির: অর্থমন্ত্রী ঢাকা সিটি ভোট পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি করার সিদ্ধান্ত ইসির এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পিছিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সোমবার মান্নানের জানাজা এমপি আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে গভীর শোক রাষ্ট্রপতির পদ্মা সেতুর ২২তম স্প্যান বসছে এ মাসেই আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে ওবায়দুল কাদেরের শোক এমপি মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
৪৮

রোহিঙ্গা গণহত্যা: শীঘ্রই হবে এ মামলার রায়

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  

জাতিসংঘের সবোচ্চ আদালতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি শেষ হয়েছে। নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত এ আদালতে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ শুনানি শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার। এখন শুধু রায়ের পালা।

তিন দিনের শুনানির পর যত দ্রুত সম্ভব এ মামলার রায় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন বিচারকরা। শুনানি শেষ হওয়া মাত্র বিশ্বব্যাপী জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে কী থাকবে আদালতের রায়ে।

তবে সেজন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখের কথা জানাননি আইসিজের বিচারক প্যানেলের প্রধান আবদুলকোই আহমদ ইউসুফ। সাধারণত চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে রায় দেওয়ার একটি রীতি আছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাঁধাধরা কোনো নিয়ম নেই।

ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের (আইসিজে) ১৫ বিচারকের সঙ্গে প্যানেলে আছেন গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের মনোনীত দুই বিচারক। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত দেবেন।

তবে যে রায় আসুক না কেন মিয়ানমার এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি গণহত্যায় অভিযুক্ত দেশ বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

এরপর বুধবার মিয়ানমারের পক্ষে বক্তব্য দিতে এসে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর সু চি গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, রাখাইনের পরিস্থিতি সম্পর্কে গাম্বিয়া যে চিত্র এ আদালতে উপস্থাপন করেছে তা ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’। তৃতীয় ও শেষ দিনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনেন আইসিজের ১৭ সদস্যের বিচারক প্যানেল।

আদালত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইসিজের মামলাটি করা হয়েছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে, সু চির বিরুদ্ধে নয়। আইসিজে কোনো ব্যক্তিবিশেষকে সাজা দিতে পারে না, যেমনটি পারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। আইসিসি আলাদাভাবে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি তদন্ত করছে। আইসিজের বিধি অনুসারে, জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত এক দেশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের অভিযোগ তুলতে পারে। গাম্বিয়ার করা এ মামলায় গণহত্যা প্রতিরোধ ও এর শাস্তিবিধানে ১৯৮৪ সালে স্বাক্ষরিত কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে।

১৯৫৬ সালে ওই ‘জেনোসাইড কনভেনশনে’ সই করেছিল মিয়ানমার। গাম্বিয়াও এ কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। এ কনভেনশনের আওতায় দেশগুলো শুধু গণহত্যা থেকে বিরত থাকাই নয়, বরং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা এবং এমন অপরাধের জন্য শাস্তিবিধানেও বাধ্য।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এই আদালতের সিদ্ধান্ত মানার আইনি বাধ্যবাধকতা আছে এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ নেই। যদিও সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য করার কোনো ক্ষমতা নেই এ আদালতের এবং সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করার বহু উদাহরণ রয়েছে। গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে শুনানিতে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে কিছু অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নেওয়ার আরজি জানানো হয়। রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা এবং গণহত্যার আলামত সংরক্ষণের আদেশ চাওয়া হয় আইসিজের কাছে। মিয়ানমার গণহত্যা চালিয়েছে কিনা সে বিষয়ে রায় দিতে হলে আদালতে এটা প্রমাণ হতে হবে যে, রাষ্ট্রটি রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে আংশিক কিংবা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ করেছে। তবে সেটা যদি প্রমাণও হয় তবু অং সান সু চি কিংবা মিয়ানমারের জেনারেলদের গ্রেফতার করা কিংবা তাদেরকে বিচার করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারবে না আইসিজে। তবে মিয়ানমারকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত রায় দিলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো পদক্ষেপ আসতে পারে। এতে মিয়ানমার বিশ্বে ভাবমূর্তি হারানো এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯৮৪ সালে স্বাক্ষরিত কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে গণহত্যা প্রতিরোধ ও এর শাস্তি বিধানে আন্তর্জাতিক এ আদালতে মামলা করেছে গাম্বিয়া। ১৯৫৬ সালে ঐ ‘জেনোসাইড কনভেনশনে’স্বাক্ষর করেছিল মিয়ানমার। গাম্বিয়াও এ কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। এই কনভেনশনের আওতায় দেশগুলো শুধু গণহত্যা থেকে বিরত থাকাই নয় বরং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা এবং এমন অপরাধের জন্য শাস্তি বিধানেও বাধ্য।

এই বিভাগের আরো খবর