শনিবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১২ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
বরিশালে নদীভাঙন রক্ষা বাঁধের বালু চুরির দায়ে গ্রেপ্তার ১ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন বিশ্ববাসীর কাছে বঙ্গবন্ধু টানেল একটি অনন্য দৃষ্টান্ত: স্পিকার বরিশালে স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত কোন সিপাহির বাঁশির হুইসেলে এদেশ স্বাধীন হয়নি - শ.ম রেজাউল করিম নাসিরুদ্দিন শাহ ও অনুপম খেরের বাকযুদ্ধ বরিশালে চারলেন সড়কের সঙ্গে হচ্ছে বাইপাস আকাশ থেকে মোবাইলে পদ্মাসেতুর ছবি তুললেন প্রধানমন্ত্রী চীনের রহস্যময় ভাইরাস বাদুড় ও সাপ হয়ে মানবদেহে! `শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি` এত গুণ পুদিনা পাতার? হাঁসের মাংসের কালিয়া দেশ গঠনে ক্যাডেটদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে-সেনাপ্রধান মুজিববর্ষ ঘিরে বিদেশিদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি মেলা শিগগিরই মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরকে পেছনে ফেলবো: অর্থমন্ত্রী শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য মানবসম্পদ তৈরি: শিক্ষা সচিব মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যেই আ’লীগ কাজ করে যাবে-শেখ হাসিনা আগৈলঝাড়ায় জি আর মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার বানারীপাড়ায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আইফোন উদ্ধার করলেন ওসি
১৯

রেকটাম ক্যান্সারের স্ট্র্যাপলিং চিকিৎসা

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

পরিপাকতন্ত্রের শেষ অংশটুকুকে আমরা বলি রেকটাম বা মলাশয় ও মলদ্বার। এখানে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয় ও এর উপসর্গগুলো প্রায় এক রকম। রোগীর কথা শোনে কখনও রোগ নির্ণয় করা যায় না।

যেমন- মলদ্বারে রক্ত যায় যেসব রোগে তার মধ্যে রয়েছে পাইলস, এনাল ফিশার, রেকটাম ক্যান্সার, ফিস্টুলা, পলিপ, আলসারেটিভ কোলাইটিস, ডাইভাটিকুলোসিস, কোলাইটিস, রক্ত আমাশয় ইত্যাদি। বিশেষ ধরনের অ্যান্ডোসকোপি পরীক্ষা ছাড়া কোনো ডাক্তারের পক্ষে এগুলো শনাক্ত করা সম্ভব নয়। রেকটাম ক্যান্সারের উপসর্গ হচ্ছে পায়খানায় রক্ত যাওয়া, মাঝে মাঝে ডায়রিয়া আবার কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, খুব সকালে মলত্যাগের বেগ হয়, পেটে ব্যথা হয় এবং পেট ফাঁপা দিয়ে ফুলে উঠতে পারে।

দীর্ঘদিন থাকলে মলদ্বারে ব্যথা এবং প্রস্রাবে অসুবিধা হতে পারে। মলের সঙ্গে আম বা মিউকাস যায় কোনো কোনো সময়। এ ক্যান্সার চিকিৎসার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হল এটিকে পাইলস বা আমাশয় মনে করা, গ্রাম্য ডাক্তার, কবিরাজ ও হোমিও চিকিৎসায় গ্যারান্টি সহকারে ক্যান্সার নির্মূলের আশ্বাস, মহিলারা এ জাতীয় সমস্যা কাউকে বলতে বিব্রতবোধ করেন, অপারেশন ভীতি এবং পেটে কলোস্টমি করে ব্যাগ লাগাতে হবে এ ভয়ে।

রেকটাম ক্যান্সার রোগীদের জন্য সুখবর এবং আশার কথা এই যে, যে কারণে আগে রোগীরা অপারেশন করতে রাজি হতেন না তা হল পেটে স্থায়ী কলোস্টমি করা।

ইতিমধ্যেই দেশে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে কলোস্টমি ছাড়া এ অপারেশন সফলভাবে সম্পাদন করা হচ্ছে। এ প্রযুক্তিতে দুটি যন্ত্র ব্যবহার করতে হয় যা কিছুটা ব্যয়বহুল এবং একবার ব্যবহার করে ফেলে দিতে হয়। এ যন্ত্র ব্যবহারের ফলে এখন ৭০-৮০ শতাংশ রেকটাম ক্যান্সার রোগী উপকৃত হচ্ছেন। রোগীরা যদি সচেতন হন এবং খুব আগেভাগে আসেন তাহলে খুবই কমসংখ্যক রোগীর কলোস্টমি করতে হবে। ইতিমধ্যে বহু ক্যান্সার রোগী দেখেছি যারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছেন।

একজন রোগীর বয়স ৫৫ বছর। বাড়ি নওগাঁ। ক্যান্সার বেড়ে গিয়ে মলদ্বারে বড় বড় গোটা হয়েছে। রক্ত মাত্র ২৮ শতাংশ। তার স্ত্রী জানালেন, বিগত তিন বছর ধরে বসে ভাত খেতে পারেন না। তারপরও কত বললাম অপারেশন করতে; কিন্তু তিনি ভয়ে রাজি না। বলেন, কবিরাজ বলেছে ভালো হয়ে যাবে। যা হোক, অপারেশনের পর এখন তিনি বসে ভাত খেতে পারছেন। হয়েছেন সম্পূর্ণ সুস্থ।

অন্য একজন অল্পবয়সী রোগী এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে,আত্মীয়-স্বজন তাকে কাঁধে করে নিয়ে এসেছেন। গায়ে রক্ত নেই, অসম্ভব শুকিয়ে গেছে, সারা শরীরে হাড্ডি ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। কিছুদিন আগে শুধু কলোস্টমি করা হয়েছে। আসলে ক্যান্সার রয়ে গেছে। মলদ্বারে তিনটি ফিস্টুলা দিয়ে অনবরত ময়লা পড়ছে। কলোস্টমির মুখটি বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু মুখে দিলেই পেট ফুলে যায়। অপারেশন করতে অনুরোধ করলেন। বিভিন্ন পরীক্ষা করে দেখলাম, অপারেশনের সম্পূর্ণ অযোগ্য।

অতঃপর বিভিন্ন ধরনের ব্যয়বহুল চিকিৎসা করে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে রোগীর বিশেষ অনুরোধে অপারেশন করে ক্যান্সারটি অপসারণ করি। এক্ষেত্রে তাকে অজ্ঞান না করেই অপারেশন করি, তবে পেট ও নিচের অংশ অবশ করা হয়। অপারেশনের পর রোগী ভালোভাবে খেতে পারছেন। ক্যান্সারটি অপসারণ করায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং রোগী বেশ খুশি হন। পুরনো ক্যান্সারে রোগী সাধারণত কয়েক বছরের বেশি বাঁচেন না। কিন্তু অপারেশনের পর যতদিন বাঁচেন ততদিন অনেকটা আরামে থাকেন।

অপারেশন করে ক্যান্সারটি অপসারণ না করলে রোগী বিভিন্ন জটিলতায় ভোগেন, যেমন গভীর রক্ত শূন্যতা এমনকি হঠাৎ বেশি রক্তক্ষরণ হয়ে মারা যেতে পারেন।

মলদ্বার, কোমর পায়ে অনবরত ব্যথা, প্রস্রাবের অসুবিধা, মহিলাদের যোনিপথ দিয়ে রক্ত ও মল বের হওয়া, খেতে না পেরে শুকিয়ে হাড্ডিসার হয়ে যাওয়া, পেট ফুলে উঠা, পায়খানা করতে না পারা, কিডনি অকেজো হওয়া, লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া ইত্যাদি। রেকটাম ও মলদ্বারের বিশেষজ্ঞদের মতে, রেকটাম ক্যান্সার যত পুরাতনই হোক অপারেশন করতে হবে।

এমনকি যদি ক্যান্সার লিভারে ছড়িয়ে গিয়ে থাকে অথবা যদি এমন মনে হয় যে, রোগী কয়েক মাসের বেশি বাঁচবেন না তবুও অপারেশন করতে হবে। তাতে রোগী যতদিন বেঁচে থাকেন আরামে থাকবেন এবং বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি পাবেন। অপারেশনের পরে রোগী কতদিন বেঁচে থাকবেন এ ব্যাপারটি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেয়াই ভালো।

তবে ক্যান্সার লিভারে ছড়িয়ে গেলে তারপর অপারেশন করলেও অনেক রোগী ৩-৪ বছর বেঁচে থাকেন। অন্যদিকে যখন ক্যান্সার শুধু রেকটামে সীমাবদ্ধ থাকে তখন অপারেশন করলে ৯৩ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যান।

রেকটাম ক্যান্সার শুরুতে ধরা পড়লে অপারেশনের ফলাফল খুবই ভালো। দেরিতে ধরা পড়লে অপারেশনের পর ক্ষেত্রভেদে রেডিও থেরাপি বা কেমোথেরাপি দেয়া যায়। আমি রোগীদের অনুরোধ করতে চাই, সবকিছুকে পাইলস মনে করে বসে থাকবেন না।

এই বিভাগের আরো খবর