বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৭ ১৪২৬   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
এসক্যাপ অধিবেশনে যোগ দিতে শেখ হা‌সিনা‌কে আমন্ত্রণ কৃষি আধুনিক হলেই মাথাপিছু আয় বাড়বে: কৃষিমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস আজ মাওলানা ভাসানীর জন্মবার্ষিকী আজ ববি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন : সভাপতি আরিফ-সম্পাদক খোরশেদ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার কাল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বললেন ওবায়দুল কাদের ‘ফুড চেইনের মাধ্যমে প্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করছে’ বিশাল জয়ে শুরু কুমিল্লার বঙ্গবন্ধু বিপিএল মিশন টাইম ম্যাগাজিনের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ গ্রেটা থানবার্গ বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার দেবে এডিবি ‘বিদেশগামীদের জন্য চালু হচ্ছে প্রবাসী কর্মী বিমা’ বানারীপাড়ায় ট্রিপল মার্ডার: প্রবাসীর স্ত্রী কারাগারে প্রেষণে বদলি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ৯ জিএম জনতা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ: আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ মাদককে দেশ ছাড়া করবো: আইজিপি বিটিসিএলের সব স্কুলের প্রাথমিক শাখা হবে ডিজিটাল কাল থেকে শুরু এইচএসসির ফরম পূরণ টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে কুমিল্লা বিধ্বংসী ইমরুলে সিলেটকে হারিয়ে শুভসূচনা চট্টগ্রামের
৫৭

মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আসার রেকর্ড

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০১৯  

পণ্য খালাসে বিদেশি জাহাজ আসার রেকর্ড করেছে মোংলা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত অক্টোবর মাসেই এ বন্দরে ৯৩ টি জাহাজ ভিড়েছে। অতীতে একসাথে এত জাহাজ আর মোংলা বন্দরে ভিড়েনি বলে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম মোজাম্মেল হক নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মোংলা বন্দর এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এ বন্দরে নতুন নতুন জাহাজের আগমন ঘটেছে। গত মাসে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ এসেছে এ বন্দরে। ওই সব বিদেশি জাহাজ থেকে ১১ লক্ষ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডিলিং হয়েছে বলেও চেয়ারম্যন জানান। বিদেশ থেকে আমদানি করা এসব পণ্য থেকে বন্দরের ৩২ কোটি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে বলেও তিনি জানান। 

মোংলা বন্দর কর্তপক্ষ সুত্র জানায়, এক দশক আগেও ব্যয়ভার বহনে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হত মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে। ২০০৮ সাল থেকে এ বন্দরে গাড়ী, খাদ্যশস্য, সার ও ক্লিকার আমদানি এবং হিমায়িত পণ্য রফতানি হওয়ার কারণে লোকসান কাটিয়ে বর্তমানে বন্দরটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। 

এদিকে দিনে দিনে এ বন্দরে জাহাজ বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকদের কাজও বেড়েছে। মোংলা বন্দরের শ্রমিক সর্দার মোঃ ই¯্রাফিল হাওলাদার ও শাজাহান সিদ্দিকি বলেন, ২০০৮ সালের আগে এ বন্দর মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। দিনের পর দিন বন্দরের পশুর চ্যানেল জাহাজ শূণ্য থাকত। শ্রমিকরা এক সময়ে না খেয়ে দিন কাটাতে থাকত। অভাবেরর তাড়নায় অনেকে বাড়ী ঘর বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে এখন চিত্র ভিন্ন বলে জানান শ্রমিক সর্দাররা। তারা বলেন, এখন এ বন্দরে যে পরিমান জাহাজ আসছে, সে সব জাহাজে কাজ করাতে এখন শ্রমিক পাঠাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। 

অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং এ বন্দরকে ঘিরে সরকারের নানা পরিকল্পানার কারণে  জাহাজের আনাগোনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্দরের প্রধান অর্থ ও হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান, মোংলা বন্দর এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান। গত পাঁচ অর্থ বছরে বন্দরে জাহাজের আগমন ও আয় বেড়েছে। 

তিনি বলেন, গত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে জাহাজ এসেছে ৪১৬ টি। সেই অর্থ বছরে এ বন্দরে আয় হয়েছে ১’শ ৭০ কোটি ১৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। আর এই অর্থ বছরে বন্দরের ব্যয় হয়েছে ১’শ নয় কোটি ৪৭ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে জাহাজ এসেছে ৪৮২ টি। অর্থ বছরে আয় হয়েছে ১’শ ৯৬ কোটি ৬১ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা। এই অর্থ বছরে ১’ ৩১ কোটি ৮৮ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে জাহাজ এসেছে ৬২৩ টি। আর এই অর্থ বছরে আয় হয়েছে ২’শ ২৯ কোটি ৬৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ব্যয় হয়েছে ১’ শ ৫৬ কোটি ৪৩ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা। ২০১৭-১৮ বছরে জাহাজ এসেছে ৭৮৪ টি। আর অর্থ বছরে আয় হয়েছে ২’শ ৭৬ কোটি ১৪ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা। এই অর্থ বছরে ব্যয় হয়েছে ১’শ ৬৬ কোটি ৮১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা। 

সবশেষ ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে জাহাজ এসেছে ৯১২ টি। এই অর্থ বছরে আয় হয়েছে ৩’শ ২৯ কোটি ১২ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা। আর ব্যয় হয়েছে ১’শ ৯৬ কোটি ১১ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা। মোংলা বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা, নিজস্ব জাহাজের জ্বালানী খরচসহ পাঁচটি খাতে এই অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে জানা যায়। 

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম মোজাম্মেল হক জানান, সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং এ বন্দরকে ঘিরে সরকারের নানা রকম পরিকল্পানার কারনে এ বন্দরে জাহাজের আনাগোনা বেড়েছে। এ অবস্থার আরো উন্নত করতে এরই মধ্যে ব্যপক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তারা। 

তিনি বলেন আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এ বন্দরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বন্দরের চিত্রই পাল্টে ডাবে বলেও তিনি জানান।

এই বিভাগের আরো খবর