সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩ ১৪২৬   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
হলি আর্টিসান মামলার রায় ২৭ নভেম্বর ‘সরকারি কাজে স্বচ্ছতার বিকল্প নেই’- স্পিকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো অভিযোগ নেই- গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতি : বিএনপি নেতা ফারুকসহ ৩জন কারাগারে বরিশালে প্রাথমিক সমাপনীতে বসেছে ১ লাখ ৮৮ হাজার শিক্ষার্থী ছয় দিনের রিমান্ডে সম্রাট প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু: প্রস্তুত ২৯ লাখ শিক্ষার্থী আজ মজলুম জননেতা হামিদ খান ভাসানীর প্রয়াণ দিবস আমিরাতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু আজ আমার বাসায় সমস্ত রান্না হয়েছে পেঁয়াজ ছাড়া- প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির টাকা দিয়ে ফুটানি চলবে না : প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল সম্পাদক বাবু বরিশালে হিজড়া জনগোষ্ঠীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে- শেখ হাসিনা পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে কাল-পরশু এলেই দাম কমবে- প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী দুবাই যাচ্ছেন আজ স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলন আজ মেসির জাদুতে ব্রাজিলকে হারাল আর্জেন্টিনা আয়কর দিলেন অর্থমন্ত্রী, রিটার্ন দাখিল প্রধানমন্ত্রীর
২১৯৪

মেয়েকে দেখতে এসে গুজবের নিষ্ঠুরতায় লাশ হলেন মা

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০১৯  

সাভারের তেঁতুলঝোড়া এলাকায় ‘ছেলেধরা’ গুজবে পিটিয়ে হত্যা করা নারীর পরিচয় মিলেছে। ঘটনার চারদিন পর নিহত নারীর নাম সালমা বেগম (৪০) বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

নিহত সালমা বেগম মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার মুসলিমাবাদ গ্রামের বিল্লাল বেপারীর মেয়ে। তিনি ‘ছেলেধরা’ ছিলেন না। সন্তানদের দেখতে এসে গুজবে লাশ হলেন। বুধবার সাভার ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এমারত হোসেন নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সালমা বেগমের চাচা কোহিনূর ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাতিজি সালমার সঙ্গে সাভারের ইমান্দিপুর এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুরের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। ১০-১২ বছর আগে মিজানুর ভাতিজিকে ডিভোর্স দিয়ে আবারও বিয়ে করে। সালমা ও মিজানুরের ঘরে তিন মেয়ে আছে। দ্বিতীয় বিয়ের পর তিন মেয়ে মিতা, মনিকা ও মিসকাতকে নিজের কাছেই রেখে দেয় মিজানুর। ডিভোর্সের পর থেকে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার মুসলিমাবাদ গ্রামে বাবার বাসায় থাকতো সালমা। মাঝে মধ্যে মেয়েদের দেখতে মিজানুরের বাড়ি যেত। সাভারে এলে ব্যাংক কলোনি এলাকায় আমার বাড়িতেও আসতো সালমা।

কোহিনূর ইসলাম বলেন, মেয়েদের দেখতে সাভারের ইমান্দিপুর এলাকায় গেলে সালমাকে মারধর করতো মিজানুরের দ্বিতীয় স্ত্রী ও স্বজনরা। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আগেও সাভার মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০-২৫ দিন আগে মিজানুর বিদেশ থেকে সাভারের ইমান্দিপুরের নিজ বাড়ি আসে। ২০ জুলাই (শনিবার) ভোরে বাবার বাড়ি থেকে ইমান্দিপুরে মিজানুরের বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয় সালমা। সোমবার বিকেলে সালমাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। এরই মধ্যে বিষয়টি পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি আমরা। মিজানুর ও তার স্বজনরা সালমাকে ‘ছেলেধরা’ গুজবে গণপিটুনি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এমারত হোসেন বলেন, তেঁতুলঝোড়া এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম সালমা বেগম। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার দুপুরে তেঁতুলঝোড়া এলাকায় বাসাভাড়া নিতে গিয়েছিলেন সালমা।

নিহত সালমা বেগমের চাচা কোহিনূর ইসলামের অভিযোগের বিষয়ে এমারত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের স্বামী মিজানুরের বাড়ির দূরত্ব অনেক বেশি। ফলে এ ঘটনায় স্বামীর সম্পৃক্ততা থাকার কথা নয়।

ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের দিন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এমারত হোসেন বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি ওই নারী বাসা খুঁজতে তেঁতুলঝোড়া এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে প্রথমে ফারুক নামের একজনের বাসায় যান ওই নারী। পরে ওই এলাকার সাবেক মেম্বার সোলায়মানের বাসায় যান তিনি। সেখান থেকে লোকজন তাকে ‘ছেলেধরা’ গুজবে আটক করে। পরে একই বাড়ির সামনের দোকানে ওই নারীকে গণপিটুনি দেয় উৎসুক জনতা।

খবর পেয়ে আমি তেঁতুলঝোড়া কলেজের পাশ থেকে গুরুতর অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। তবে পরবর্তীতে সোলায়মান মেম্বার ও ফারুকের বাসায় গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এফএম সায়েদ বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে। এটি ‘ছেলেধরা’ নয়, গুজবের কারণে ওই নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর