শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি : প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে সংযমের সঙ্গে চলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর সাথে যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি দলের সাক্ষাত অবৈধ জুয়ার আড্ডা বা ক্যাসিনো চলতে দেওয়া হবে না: ডিএমপি কমিশনার পটুয়াখালীতে ধর্ষণ মামলার বাদীকে পেটানো প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার-৪ শাহজালালে বিমানের জরুরি অবতরণ শুক্রবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ফকিরাপুলের ক্যাসিনো থেকে আটক ১৪২ জনের জেল রাজধানীর তিনটি ক্যাসিনোতে র‌্যাবের অভিযান জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ রিয়াদের ফিফটিতে টাইগাররা ১৭৬ রানের লক্ষ্য দিলো জিম্বাবুয়েকে টস হেরে ব্যাটিং এ বাংলাদেশ রিফাত হত্যা : পলাতক ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রোহিঙ্গা সংকট : ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ আমাদের কাজই হচ্ছে জনগণকে সেবা দেয়া : প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন বাংলাদেশের পক্ষে: মোমেন আজ গাজীপুর যাবেন প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ দূষণ: ৪ প্রতিষ্ঠানকে কোটি টাকা জরিমানা স্বর্ণজয়ী রোমান সানার মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী আরো দু’টি বোয়িং বিমান কেনার ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী
১৮৭

মাদকের তালিকায় সিসা, সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর

প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০১৯  

রাজধানীর বিভিন্ন সিসা লাউঞ্জে উঠতি বয়সীদের একটা অংশ সিসার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারত না মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে নতুন মাদকদ্রব্য আইনে সিসাকে মাদক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। আর এতে মাদক সম্পর্কিত অপরাধ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম এক বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও নগদ অর্থদণ্ড হতে পারে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ কার্যকর হয়েছে। এই আইনে কোনো ব্যক্তি সিসা গ্রহণ, সেবন, বহন, বিক্রি, সরবরাহ করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, যা আগে সম্ভব ছিল না। এর ফলে সিসা ব্যবহার ও বিক্রি অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন আইনে সিসাকে মাদকদ্রব্যের ‘খ’ শ্রেণির তালিকায় রেখে সিসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, সিসা অর্থ বিভিন্ন ধরনের ভেষজের নির্যাস সহযোগে ০.২ শতাংশে ঊর্ধ্বে নিকোটিন এবং এসেন্স ক্যারামেল মিশ্রিত ফ্রুট স্লাইস সহযোগে তৈরি যে কোনো পদার্থ।

নতুন মাদক আইনে সিসার পরিমাণের ওপর তিন ধরনের শাস্তির (ন্যূনতম এক বছরের দণ্ড থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর) বিধান রাখা হয়েছে। এরমধ্যে মাদকদ্রব্যের পরিমাণ এক কেজি অথবা লিটার বা তার কম হলে অনূর্ধ্ব ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড; মাদকদ্রব্যের পরিমাণ এক কেজি অথবা লিটারের বেশি এবং পাঁচ কেজি বা লিটারের কম হলে অনূর্ধ্ব ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং পরিমাণ পাঁচ কেজি বা লিটারের বেশি হলে অনূর্ধ্ব ৫ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বিধান রাখা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলেন, ‘যখন কোনো আইন হয় তখন সেটি নাগরিকের জন্য স্বস্তিদায়ক বিষয় এবং নিরাপত্তা জন্য নির্দেশক সহায়ক হয়। নতুন আইনকে আমরা অবশ্যই ইতিবাচকভাবে দেখি। আগে ১০-১৫ বছর আগে যারা অপরাধী শুধু তারা এই মাদক গ্রহণ ও ব্যবসা করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা দেখেছি এই মাদক বুদ্ধিদীপ্ত শ্রেণি থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি এটির সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। তবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে আইনকে ব্যবহার করতে না পারলে নতুন আইন করেও মাদক গ্রহণ বা বিক্রি ঠেকানো যাবে না।’

তৌহিদুল হক মনে করেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যারাই জড়িত হোক না তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে, কোনোভাবে ছাড় দেওয়া যাবে না। যদি সেই জায়গায় জিরো টলারেন্স তৈরি করা যায় তাহলে মাদক গ্রহণ ও বিক্রি কমে আসবে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে আইনের অ্যাকশন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলাও হয়েছে। আইনটি পাশ হওয়ার পর প্রতিটি বারে প্রথমে গিয়ে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও যারা বিক্রি চালু রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন আইনের কপি আমরা সবার কাছে পৌঁছে দিয়েছি।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান, শাহবাগ, মগবাজার, পরীবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুইশর বেশি সিসা লাউঞ্জ রয়েছে। রাজধানীর অনেক অভিজাত হোটেলেও মদের লাইসেন্সের আড়ালে অনেকে সিসার ব্যবসাও পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর এমনকি জেলা ও উপজেলা শহরেও সিসা লাউঞ্জ গড়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব সিসা লাউঞ্জের বেশির ভাগ গ্রাহক নামি-দামি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীরা। এ বিষয়ে যথাযথ আইন না থাকায় এত দিন সিসা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর জানায়, ডিজে পার্টি, পহেলা বৈশাখ, ইংরেজি নববর্ষ, ভালোবাসা দিবস, ঈদের রাতসহ বিশেষ দিনগুলোতে সিসার চাহিদা বেড়ে যায়। এত দিন মাঝে-মধ্যে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর অভিযান চালালেও তা রোধ করা সম্ভব হয়নি। নতুন আইনে সিসা গ্রহণ বা বিক্রিকে অপরাধ এবং এটিকে মাদকের তালিকায় যুক্ত করায় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আইনটি পাশ হওয়ার পর সিসা বিক্রি বন্ধের জন্য প্রতিটি সিসা লাউঞ্জকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হলেও সিসা বিক্রি বা এর ব্যবহার কমেনি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, ‘এতদিন সিসা মাদকের তালিকায় ছিল না। ফলে আমরা অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতাম না। এখন ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। সিসা মাদক জাতীয় দ্রব্য নয়, তবে এটির সাথে নেশাজাতীয় মাদক দ্রব্য মেশানো হলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে মর্মে কয়েক বছর আগে আদালত থেকে একটি  স্থগিতাদেশ ছিল। কিন্তু নতুন আইনে সেই জটিলতা আর থাকছে না। সেবনকারী ও ব্যবসায়ী সবার বিরুদ্ধেই এখন ব্যবস্থা নিতে পারব।’

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘এই আইনটির কপি এখনো আমাদের সবার কাছে পৌঁছায়নি। আগামী সপ্তাহে আমাদের একটি মিটিং আছে। সেখানে বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে থাকবে। আইনের কপিটা আমাদের থানায় দিতে হবে, তারপর আমরা অ্যাকশনে যাব। এ ব্যাপারে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমাদের কথা একটাই, যেহেতু আইন হয়েছে, অবশ্যই সেটি বাস্তবায়ন করা হবে। অভিযানের ব্যাপারে ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রতিটি থানায় বলা আছে (বিশেষ করে ধানমন্ডি, গুলশান ও বনানী এলাকা) এসব যেনে কেউ বিক্রি না করতে পারে।’

তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এমন কোনাে বার বা লাউঞ্জ থাকলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই সিসা বিক্রি বন্ধে ডিএমপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো ধরনের চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এই বিভাগের আরো খবর