রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২১ ১৪২৬   ১১ শা'বান ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা না দিলেই ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতি উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আজ থেকে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সেনাবাহিনী মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে সমালোচনা করছে বিএনপি : কাদের দেশে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৬ জন সুস্থ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে সরকার বিবেচনা করবে: সেনাপ্রধান ঘরে বসে পড়াশোনা করতে হবে, শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী করোনায় খাদ্য ঘাটতি হবে না : কৃষিমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখ‌ছেন প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে ৬৪ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কনফারেন্স পিপিই যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় সরকার জনগণের পাশে আছে -প্রধানমন্ত্রী ছুটিতে কর্মস্থল ছাড়া যাবে না : সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন করোনা সংকটকালে জনগণের পাশে থাকবে আ.লীগ: কাদের আমি করোনায় আক্রান্ত হইনি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত নেই : আইইডিসিআর পদ্মা সেতু‌তে বসলো ২৭তম স্প্যান, দৃশ্যমান হলো ৪ হাজার ৫০ মিটার করোনায় আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সব পোশাক কারখানা বন্ধের নির্দেশ পবিত্র শবে বরাত ৯ এপ্রিল
৪৮৫

মহাজোট সরকারের আমলে ইলিশের উৎপাদন দ্বিগুণ বেড়েছে

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০১৮  


সোহানুর রহমান :
মাছে-ভাতে বাঙালি- এটাই আমাদের সংস্কৃতি। আর মাছের রাজা ইলিশ। ইলিশ মাছ স্বাদ ও পুষ্টিগুণে অতুলনীয়। ইলিশের নাম শুনলেই যে কারো জিভে জল চলে আসে। মহাজোট সরকারের ফলপ্রসু উদ্যোগে মা ইলিশ রক্ষা, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ, ঝাটকা ইলিশ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা এবং অভয়ারণ্য সৃষ্টির কারণে বিগত এক দশকে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। 
পরিসংখ্যান বলছে, ২০০১-০২ অর্থবছর দেশে ইলিশ আহরণ ছিল মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার টন। ২০০৮-০৯ অর্থবছর তা ৩ লাখ টনে উন্নীত হয়। চার লাখ টনে উন্নীত হতে ২০১৫-১৬ অর্থবছর লেগে যায়। অর্থবছরটিতে দেশে ইলিশ আহরণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৯৪ হাজার টন। সেই ধারাবাহিকতায় গেল অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছুঁয়েছে প্রায় ৫ লাখ টনে।  আর চলতি অর্থবছর ৫ লাখ ৪০ হাজার টন ইলিশ আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 
মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ পর্যবেক্ষণ সেলের হিসেবে ১৫ বছর আগে দেশের ২৪ টি উপজেলার নদীতে ইলিশের বিচরণ থাকলেও এখন অন্তত ১২৫ টি উপজেলার নদীতে ইলিশের বিচরণের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া মহাজোট সরকারের আমলেই বিশ্বে প্রথম ইলিশ মাছের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশের মৎস্য বিজ্ঞানীরা।
বরিশালের ইলিশ একটি ব্রান্ডের নাম। পুষ্টি উপাদান বেশি থাকায় এ ইলিশের স্বাদও ভালো।   কোন অঞ্চলের ইলিশের পুষ্টি-গুণ কেমন, তা পরিমাপে একদল গবেষক দেশের ছয়টি অঞ্চলের প্রত্যেকটি থেকে ২০টি করে মাছের নমুনা সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরীক্ষাগারে মাছের পুষ্টি উপাদান পরীক্ষা করেছিলেন। পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বরিশালের ইলিশই বেশি পুষ্টি ধারণ করছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন জার্নাল অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সেসে প্রকাশিত হয়েছে। 
সরকারের গৃহীত ইলিশ রক্ষার সুফল পেয়েছেন বরিশাল বিভাগের প্রান্তিক জেলেরাও। ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে জেলেদের দেয়া হয়েছে সরকারী বিভিন্ন সহায়তা। এ বছর ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার দুই লাখ ২৭ হাজার ৯৪৩টি জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করেছে সরকার। ইলিশ রক্ষায় প্রধান প্রজনন মৌসুম ধরে ৭ থেকে ২৮ অক্টোবরে পর্যস্ত ২২দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় ইলিশ আহরণে বিরত থাকার সময় সরকারীভাবে বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার ৮৮ হাজার ১১১ জন, পটুয়াখালীর ৪৫ হাজার ৬৪২ জন, বরিশালের ৪৩ হাজার ৬৪৪ জন, বরগুনার ৩৪ হাজার ২১১ জন, পিরোজপুরের ১৪ হাজার ৮৭৫ জন ও ঝালকাঠি জেলার এক হাজার ৪৬০ জন জেলেকে চাল দেয়া হয়।
বরিশালের পাশাপাশি সব অঞ্চলেই ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের উগ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। এজন্য নদ-নদীর জাটকাপ্রধান অঞ্চলে প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। সরকার ইলিশের পাঁচটি অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার পর প্রতি বছর প্রজননের মৌসুমে মা-ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। নতুন অভয়াশ্রম ঘোষণার কাজও শেষের দিকে। আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে সচেতনতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে জেলেদের ক্ষতিপূরণ বিষয়ে আরো সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সরকারের এসব উদ্যোগের ফলেই দেশে ইলিশ আহরণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। 


 

এই বিভাগের আরো খবর