• শনিবার   ১১ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৭ ১৪২৬

  • || ১৭ শা'বান ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ নিয়োগ পেলেন নতুন আইজিপি বেনজীর, র‌্যাব মহাপরিচালক মামুন মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি যারা সাহায্য চাইতে পারবে না তাদের তালিকা করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী দেশে করোনায় আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত বেড়ে ১৬৪ কারাগারে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যা: আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ গ্রেফতার চিকিৎসকরা কেন চিকিৎসা দেবে না, এটা খুব দুঃখজনক : প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন জেলখাটা আসামিদের মুক্তির নীতিমালা করার নির্দেশ রমজানে সরকারি অফিস ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে: অর্থমন্ত্রী করোনা: ৭৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা না দিলেই ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতি উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আজ থেকে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সেনাবাহিনী মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে সমালোচনা করছে বিএনপি : কাদের দেশে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৬ জন সুস্থ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে সরকার বিবেচনা করবে: সেনাপ্রধান ঘরে বসে পড়াশোনা করতে হবে, শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী
৪০

বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে গোপন প্রতিবেদন লেখা শুরু হয় যে কারণে

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দারা গোপন প্রতিবেদন লেখা শুরু করে ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে। বিষয়টির কারণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৪৭ সালে করাচিতে শিক্ষা সম্মেলন হয়, সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। তখন থেকেই কিন্তু আন্দোলনের সূত্রপাত। তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিনের বাসায় মিছিল নিয়ে যায় ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসে। এরপর ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগ নামে একটি ছাত্র সংগঠন করেন। এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আন্দোলন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে এই সংগ্রাম পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরপর থেকেই গোয়েন্দারা তার নামে গোপন প্রতিবেদন লিখতে শুরু করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকেই জাতির পিতা ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তবে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, একসময় তার নাম ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস ইতিহাসই, তা কেউ মুছে ফেলতে পারে না। বাস্তবতা হলো, ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু যখন ভাষা আন্দোলন শুরু করেন, তখন থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী তার ওপর নজরদারি ও তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লিখতে শুরু করে।
বৃহস্পতিবার একুশে পদক ২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। স্বাগত বক্তব্য দেন, সংস্কৃতি সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আনোয়ারুল ইসলাম। এবার ২০ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পৃথিবীর কোনও দেশেই কোনও নেতার বিরুদ্ধে লেখা গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। আমি এটা করেছি। কারণ, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, সবকিছু থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার একটা চেষ্টা করা হয়েছে দীর্ঘ ২১ বছর। তাই আমি চেয়েছি, সত্যটা মানুষের জানা উচিত। এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের চার খণ্ড বই আকারে প্রকাশ হয়েছে। পঞ্চম খণ্ড প্রকাশ হচ্ছে। মোট চৌদ্দ খণ্ড প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশের যে ইতিহাস, তার বিরাট অংশ এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পাওয়া যাবে।’

কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মধুসূদন দত্ত ইংরেজিতে সাহিত্য চর্চা করেছিলেন, সাহেব হয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আবার নিজের ভাষায় সাহিত্য চর্চা করেছেন, ফিরে এসেছেন। নিজের ভাষা ছাড়া যে তৃপ্তি পাওয়া যায় না, তাই তিনি আবার ফিরে এসেছিলেন।

নিজেদের পরিচয় নিয়ে গর্বের সঙ্গে চলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়েছে, এই অগ্রযাত্রা যেন অপ্রতিরোধ্যভাবে অব্যাহত থাকে, আমরা সেটাই চাই। সেইসঙ্গে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা ও আন্তর্জাতিকভাবে বিস্তৃতি লাভের ব্যাপারেও সক্রিয় থাকতে হবে। আমরা বাঙালি, বাঙালি হিসেবেই বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলব।


তিনি বলেন, এই দেশকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে চাই। আগামী ১৭ মার্চ আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করবে। ২১ সালের ২৬ মার্চ পালন করব স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এর মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলব।

‘যারা নিজের রক্তের অক্ষরে মায়ের ভাষা লিখে গেছেন, ভাষা আন্দোলন করেছেন, জীবন দিয়েছেন তারা শ্রদ্ধার পাত্র। তারা শিখিয়েছেন মাথা নত না করা। এই একুশের রক্তের অক্ষরে লেখা ছিল আগামীর স্বাধীনতা। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের, অহংকারের’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর