মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
হাসানাত আবদুল্লাহ নির্দেশে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জেনারেটর জনসভায় কথা বলার ভয় কাটিয়ে ওঠার উপায় নৌ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে ভারত: রীভা গাঙ্গুলি নাসের আল-খেলাইফি: জেলে থেকে ফরাসি ফুটবলের ‘সম্রাট’ এজেন্টদের টাকা দিয়ে মালয়েশিয়া গেলে পুনঃনিয়োগের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করলে ক্ষমা করা হবে না: কাদের র‌্যাব-৮ এর অভিযানে ১১,৫০০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার ট্রেন দুর্ঘটনা : তূর্ণা নিশীথার মাস্টার-সহকারী মাস্টার বরখাস্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিতে প্রতারণা : রাজস্ব কর্মকর্তার কারাদণ্ড ঘূর্ণিঝড় বুলবুল : কৃষি ফসলের ক্ষতি ২৬৩ কোটি টাকা চার দিনের সফরে আজ নেপাল গেলেন রাষ্ট্রপতি ট্রেন দুর্ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক শুধু কৃষিতে নির্ভর না করে শিল্প উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী রেল দুর্ঘটনা: সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ ৬ ঘণ্টা পর চালু হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ১ লাখ,আহতদের ১০ হাজার দেয়ার ঘোষণা নুসরাত হত্যা:ফাঁসির আসামিদের পাঠানো হলো কুমিল্লা কারাগারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুর্ঘটনাস্থলে রেলমন্ত্রী দুই ট্রাভেল এজেন্সিতে র‌্যাবের অভিযান, ১০৫০ পাসপোর্ট জব্দ কসবায় ট্রেন সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
১১

‘প্রথমে বন্ধু, পরে শত্রু’ বৃক্ষের ফুল মেডুলা

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০১৯  

প্রতিটি চা বাগানে দুইবছরের অতিথি মেডুলা। সুযোগ নেই এর বেশি টিকে থাকার! এই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই গাছটিকে কেটে ফেলা হয়। অথবা, মাটি থেকে উপড়ে ফেলে দেওয়া হয়। তাতেই জমির মঙ্গল, তাতেই চায়ের ব্যাধিমুক্তি।
ব্যাপারটি যেন- ‘প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে দেওয়া’ প্রবাদ বাক্যটির বহিঃপ্রকাশ! যে গাছটি ভূমির নতুন আবাদের সূচনা থেকে দুই বছর পর্যন্ত মাটির উর্বরতা দান করলো তাকেই অবশেষে কেটে ফেলা হয়। অর্থাৎ উপকারী গাছটিকে প্রাণে বধ!
কিন্তু এ পদ্ধতি পালন না করেও উপায় নেই। চা বিশেষজ্ঞরা চায়ের নতুন আবাদের সময় এই গাছটিকে রোপণ করেন ঠিকই; কিন্তু চা গাছের সুরক্ষার স্বার্থেই আবার একটা সুনির্দিষ্ট সময়ের পরে অপসারণও করে ফেলতে নির্দেশ দেন।
‘প্রথমে বন্ধু’ এবং ‘পরে শত্রু’ বলে গণ্য করা চা বাগানের একটি বিশেষ গাছ মেডুলা। সম্প্রতি চা বাগানে ফুটেছে শ্বেতশুভ্র ‘মেডুলা ফুল’। এটি হেমন্তের ফুল। এর ইংরেজি নাম White Tephrosia.
দূর থেকে ফুলগুলো শিম অথবা বকফুলের মতো মনে হয়। ফুলের পাপড়ি দুধের মতো সাদা। পাপড়িগুলো পাঁচ থেকে দশ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে এবং প্রতিটি মেডুলা গাছের উচ্চতা দুই থেকে চার মিটার।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিজ্ঞ টি-প্লান্টার এবং বাংলাদেশ চা সংসদের (বিটিএ) সদস্য ইবাদুল হক  বলেন, গাছটি ‘মেডলা’ নামে অধিক পরিচিত হলেও এটি আসলে ‘মেডুলা’। একে স্থানীয় ভাষায় ‘বগা মেডলা’ বা ‘বগুই’ও বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Tephrosia candida. এটি গুল্ম শ্রেণির বৃক্ষ। চা আবাদের সময় মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য মেডুলা গাছ রোপণ করা হয়ে থাকে। তবে এই গাছ দুইবছরের বেশি রাখা যায় না; তখন গাছগুলো ক্ষতি করে।
মেডুলা ‘শিম’ জাতীয় গাছ। এটি লিগুমিনাস পরিবারের উদ্ভিদ। এ গাছের শিকড়ে এক ধরনের গোটা হয়। এটাকে বলে ‘নডিউল’। এ গাছ বাতাস থেকে নাইট্রোজেন নিয়ে মাটিতে তা ছড়িয়ে দিয়ে উর্বরতা দান করে। এছাড়াও মেডলা গাছ বাচ্চা চা গাছকে ছায়া দেয়। ঠিক দুই বছর পর এই গাছ ওই স্থান থেকে সরিয়ে ফেলা হয় বলে জানান তিনি।
মেডুলার ক্ষতি সম্পর্কে এ চা বিশেষজ্ঞ বলেন, চায়ের নতুন আবাদের স্থানে বেশিদিন মেডুলা গাছ থাকলে চা গাছের জন্য ক্ষতি করে। এই গাছের কাণ্ডে লাল-মরিচা (রেড-রাস্ট) শৈবাল নামক এক ধরনের রোগ তৈরি হয়ে চায়ের মারাত্মক ক্ষতি করে। রোগটি বাচ্চা চা গাছগুলোতে সংক্রমিত হয় এবং মারা যায়। তাই ঠিক দুই বছর পরে এই গাছটিকে চা গাছের উন্নত স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে কেটে ফেলে দেওয়া হয়।
এদিকে, এগুলো কাটলেও ওই এলাকার নতুন চা আবাদ এবং পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ মেডলার পাশাপাশি রোপণ করা ছায়াবৃক্ষগুলো ততদিনে বড় হয়ে বাচ্চা চা গাছগুলোকে বাঁচানো প্রক্রিয়া শুরু করে দেয় বলে জানান ইবাদুল হক।