• মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ সফর ১৪৪২

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
অস্ত্র মামলায় সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই দূরদর্শী নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন এমসি কলেজে ধর্ষণের ঘটনায় কাউকে ছাড় নয়: কাদের করোনায় আরও ২৮ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৫৪০ মেহেরপুরে ‘আল্লাহর দল’র সক্রিয় সদস্য আটক করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৬৬ করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৮, শনাক্ত ১৫৫৭ মসজিদে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ ধর্ষণ মামলায় ভিপি নুর গ্রেফতার আইসিটি মামলায় আলাউদ্দিন জিহাদী এক দিনের রিমান্ডে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪০, শনাক্ত ১৭০৫ গাড়িচালক মালেক ১৪ দিনের রিমান্ডে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৬, শনাক্ত ১৫৪৪ গভীর সমুদ্র থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৭ ব্যাংকটা যেন ভালোভাবে চলে সেদিকে দৃষ্টি দিবেন: প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণে মৃত্যু বেড়ে ৩৩ আহমদ শফী কওমি শিক্ষার আধুনিকায়নে ভূমিকা রেখেছেন: প্রধানমন্ত্রী না.গঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২
১০৮

পিতার মতোই সাহসী ও আপোষহীন ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২০  

পিতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর মতোই সাহসী ও আপোষহীন ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় চার নেতার অন্যতম বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন শহীদ এম মনসুর আলীর যেমন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে আপোষহীন, তেমনি মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোষহীন। বার বার অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। মাঠের রাজনীতিতে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

১৯৮১ সালে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুব সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই দ্যুতি ছড়িয়েছেন মোহাম্মদ নাসিম। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল হওয়ার কারণে কারাগারে ঘাতকের বুলেটে প্রাণ দিতে হয়েছিল বাবা মনসুর আলীর। তেমনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার আস্থা ভাজন হিসেবে রাজনীতি করার কারণে ১/১১ সরকারের সময়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। সে সময়ে বড় ধরনের স্ট্রোক করেন মোহাম্মদ নাসিম। নির্যাতনের শিকার হয়ে দলের অনেক নেতা সে সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যার বিরুদ্ধে নানা কথা বললেও নাসিমের মুখ থেকে কোন কথা বের করতে পারেনি সে সময়ের সরকার।

ছাত্রজীবন থেকে গণমানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন মোহাম্মদ নাসিম। ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি করলেও পরে ছাত্রলীগ, যুবলীগের রাজনীতির পাঠ চুকিয়ে ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পা রাখেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে নাসিম। প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের যুব সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৭ সালের সম্মেলনে তিনি দলের প্রচার সম্পাদক মনোনীত হন।

২০০২ সালের সম্মেলনের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছিলো একটি। আর ওই সম্মেলনে বিভাগওয়ারী সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগে ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিমকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পালনে তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন। এছাড়াও জাতীয় সংসদে হুইপ, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ নাসিম। ২০০২ ও ২০১২ সাল দলের কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য পদে রাখা হয়। এরপর ২০১২ সালের সম্মেলনে তাকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর টানা তিন মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে রাজপথে আন্দোলনে প্রথম সারির নেতা ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। পুলিশের নির্যাতন সত্ত্বেও রাজপথ ছেড়ে যাননি।  ২০০৪ সালের ৩ মার্চ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশি অত্যাচার থেকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুব মহিলা লীগের নেত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে তিনিই পুলিশের লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছিলেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কর্মসূচি চলাকালে মোহাম্মদ নাসিমের ধানমন্ডির বাসায় দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য রান্না করা হতো।

রাজনৈতিক মাঠে সুবক্তা হিসাবে পরিচিত মোহাম্মদ নাসিম ভোটের রাজনীতিতেও সফল হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। সিরাজগঞ্জ- ১ সংসদীয় আসন (কাজীপুর) থেকে পাঁচবার বিজয়ী হয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ১/১১ সরকারের দেয়া মামলার কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ওই নির্বাচনে তার সন্তান তানভীর শাকিল জয়কে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিমকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। বিজয়ী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে।

রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে গত ১ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। ওই দিনই তাঁর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ৪ জুন তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ৫ জুন ভোরে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। এরপর দুই দফায় ৭২ ঘণ্টায় করে পর্যবেক্ষণে রাখে মেডিকেল বোর্ড। এর মধ্যেই পরপর তিনবার নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি তাঁর শরীরে। কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকলেও গত বৃহস্পতিবার রক্তচাপ অস্বাভাবিক ওঠানামা করতে থাকে নাসিমের। এরপর গতকাল শুক্রবার পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে। হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা দেখা দেয়।

মৃত্যুকালে মোহাম্মদ নাসিমের বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর