মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬   ১৫ সফর ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
স্বামী-স্ত্রীর পায়ে ১৮টি স্মার্টফোন ৬ দিনের অভিযানে বরিশাল বিভাগে ১৫৪ জেলের কারাদণ্ড অপমানে কাঁদলেন মৌসুমী সাগরে ফের ভারতীয় ১১ জেলে আটক বিয়ে-বিচ্ছেদের পর শরিয়তে সন্তান প্রতিপালনের অধিকার কার? মৃত্যুর আগে জাহ্নবীকে দেয়া মা শ্রীদেবীর দামি পরামর্শ যা ছিল বরিশাল স্টেডিয়ামে আসছে শ্রীলংকা যুদ্ধাপরাধ: আজ ৫ রাজাকারের রায় মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব স্পিকারের শাহজালালে বিপুল পরিমাণ ইউএস ডলার ও থাই বাথসহ আটক ১ বাবরি মসজিদের রায় ঘিরে অযোধ্যায় ১৪৪ ধারা বাংলাদেশের প্রথম হিজড়া ভাইস চেয়ারম্যান পিংকী হাইপ্রোফাইল দুর্নীতিবাজ: এবার বড় অভিযানে নামছে দুদক এক মঞ্চে ৯৩ বইয়ের মোরক উন্মচন করলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ১১১ ফুটের গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে! প্লে স্টোর থেকে আবারও ১৫ অ্যাপ বাতিল কেমন মানুষদের বুদ্ধি বেশি হয়? বিপিএলের চার স্পন্সর প্রস্তুত একসঙ্গে নোবেল জিতেছেন যে দম্পতিরা হাওরের জমি পাবে না রাঘব বোয়ালরা -রাষ্ট্রপতি
৪৯

নোবেল পুরস্কার পেয়েও যারা নেননি

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০১৯  

নোবেলকেই সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দিবেন- এমন ভাবা যায় না। বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হতে পারে কিন্তু এমন ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, পুরস্কার নিয়েছেন কিন্তু পুরস্কারের অর্থমূল্য নেননি এমন ঘটনাও বিরল নয়। অর্থাৎ নোবেল নিয়ে ঘটনার ঘনঘটা একেবারে কম নয়।

১৯৬৯-এর অক্টোবরের ২৩ তারিখ। আইরিশ লেখক স্যামুয়েল বেকেট ও তার স্ত্রী সুজান তিউনিসিয়ায় ছুটি কাটাতে গেলে হঠাৎ একদিন একটি টেলিগ্রাম পান। বেকেটের ফ্রেঞ্চ প্রকাশক টেলিগ্রামে লিখেছেন: ‘আপনি বাসায় লুকিয়ে থাকবেন, প্লিজ।’ বেকেট বাক্যটি পড়েই ঘাবড়ে যান। কারণ তিনি তো কোনো অপরাধ করেননি। লুকিয়ে থাকবেন কেন? কিন্তু আসল খবর বেশিক্ষণ চাপা থাকে না। মুহূর্তেই জানাজানি হয়ে যায় বেকেট সে-বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

এর পরেই ঘটে মজার ঘটনা। স্যামুয়েল প্রথমে পুরস্কার গ্রহণে অনীহা দেখান। কিন্তু  স্ত্রী তাকে বুঝাতে সক্ষম হন, আয়ারল্যান্ডের জন্য হলেও এই পুরস্কার তার গ্রহণ করা উচিত। কেননা এ তো দেশেরও সম্মান। স্ত্রীর কথা মেনে নিয়ে বেকেট পুরস্কার  গ্রহণ করেন ঠিকই কিন্তু প্রাপ্ত টাকা গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, অর্থ বৃদ্ধদের জন্য ব্যবহার করলে ভালো হবে; যাদের থাকার জায়গা নেই, খাবার খেতে পারে না- এই টাকা তাদের। 

এখন পর্যন্ত দুজন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন। একজন হলেন জাঁ পল সার্ত্রে। তিনি ১৯৬৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলে আনুষ্ঠানিক সম্মানের প্রতি অনীহা দেখিয়ে সে বছর তিনি নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেননি। জাঁ পল সার্ত্রে ছিলেন ফরাসি অস্তিত্ববাদী দার্শনিক, নাট্যকার, সাহিত্যিক ও সমালোচক। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী দার্শনিক ছিলেন। 

নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করা দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন ভিয়েতনামের লে ডাক থো। ১৯৭৪ সালে আমেরিকান কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জারের সাথে যৌথভাবে ভিয়েতনামে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্ততার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। যদিও শেষ পর্যন্ত তার দেশে শান্তি ফিরে না আসায় তিনি নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।

আবার উল্টো ঘটনাও ঘটেছে। ব্যক্তি আগ্রহী হয়েছেন কিন্তু দেশ বাদ সেধেছে। চারজন নোবেল লরিয়েটের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটেছে। যেমন হিটলার তিনজনকে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য করেছিলেন। তারা হলেন রিচার্ড কুন, এডলফ বুটেনান্ডট এবং গার্হাড ডোম্যাক। পরে এরা সবাই নোবেল প্রাইজ ডিপ্লোমা এবং মেডেল গ্রহণ করলেও পুরস্কারের টাকা পাননি।

বরিস পস্তেরনায়েক ১৯৪৬-৫০ সাল পর্যন্ত নোবেলের শর্ট লিস্টে থাকলেও একবারও ভাগ্য প্রসন্ন হয়নি। অবশেষে ১৯৫৮ সালে তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি এই পুরস্কার গ্রহণও করেন। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের চাপের ফলে পুরস্কার প্রত্যাখ্যানে বাধ্য হন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর