মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
হাসানাত আবদুল্লাহ নির্দেশে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জেনারেটর জনসভায় কথা বলার ভয় কাটিয়ে ওঠার উপায় নৌ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে ভারত: রীভা গাঙ্গুলি নাসের আল-খেলাইফি: জেলে থেকে ফরাসি ফুটবলের ‘সম্রাট’ এজেন্টদের টাকা দিয়ে মালয়েশিয়া গেলে পুনঃনিয়োগের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করলে ক্ষমা করা হবে না: কাদের র‌্যাব-৮ এর অভিযানে ১১,৫০০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার ট্রেন দুর্ঘটনা : তূর্ণা নিশীথার মাস্টার-সহকারী মাস্টার বরখাস্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিতে প্রতারণা : রাজস্ব কর্মকর্তার কারাদণ্ড ঘূর্ণিঝড় বুলবুল : কৃষি ফসলের ক্ষতি ২৬৩ কোটি টাকা চার দিনের সফরে আজ নেপাল গেলেন রাষ্ট্রপতি ট্রেন দুর্ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক শুধু কৃষিতে নির্ভর না করে শিল্প উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী রেল দুর্ঘটনা: সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ ৬ ঘণ্টা পর চালু হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ১ লাখ,আহতদের ১০ হাজার দেয়ার ঘোষণা নুসরাত হত্যা:ফাঁসির আসামিদের পাঠানো হলো কুমিল্লা কারাগারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুর্ঘটনাস্থলে রেলমন্ত্রী দুই ট্রাভেল এজেন্সিতে র‌্যাবের অভিযান, ১০৫০ পাসপোর্ট জব্দ কসবায় ট্রেন সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
৪০

নেপাল ভ্রমণের খুঁটিনাটি ভ্রমণ

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০১৯  

 

 

তিন-চার দিনে অল্প টাকায় চমৎকার কোনো দেশে ঘুরতে যাওয়ার কথা বললেই প্রথমে আসবে নেপালের নাম। বাংলাদেশিদের জন্য আগে থেকে ভিসা নেয়ারও কোনো ঝক্কি-ঝামেলা নেই। বিমানের টিকিট বুকিং করেই পাড়ি জমাতে পারেন সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের দেশে।

ঢাকা থেকে বিমানে কাঠমুন্ডু পৌঁছাতে প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় লাগে। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু এবং কাঠমান্ডু থেকে ঢাকা প্রতিদিন চলাচল করে। বোর্ডিং কার্ড নেয়ার সময় বাঁ দিকে আসন নেয়ার চেষ্টা করবেন, তাহলে ল্যান্ডিংয়ের আগে একনজর হিমালয় দেখার সুযোগ পাবেন। এয়ারপোর্টে পৌঁছে প্রথমেই বিনা খরচে অন অ্যারাইভাল ভিসা করে নিন। ইমিগ্রেশন শেষ করেই নেপাল ট্যুরিজমের একটা ফ্রি ম্যাপ নিয়ে নিন, কাজে লাগতেও পারে। এয়ারপোর্টেই মানি এক্সচেঞ্জ সুবিধা আছে। যদিও ডলার রেট হিসেবে পাবেন অনেক কম।

ভ্রমণ শুরু করতে পারেন কাঠমান্ডু দিয়ে। এই শহরের পর্যটন এলাকার নাম থামেল। এটি কাঠমান্ডুর পুরোনো এলাকার দিকে অবস্থিত। প্রতিটি গলিতে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং কেনাকাটার প্রচুর দোকান আছে। বেশিরভাগ পর্যটক থামেলেই থাকেন। শহরের মন্দিরগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য টিকেটের দাম অনেক কম। বসন্তপুর দুর্বার স্কয়ার, গার্ডেন অব ড্রিমস, লিম্বিনি, কোপান, সেনচেন মনাস্ট্রির মতো প্রচুর দর্শনীয় স্থান ঘুরতে পারবেন সেখানে।

কাঠমান্ডু ঘুরে চলে যান বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম নাগরকোটে; দূরত্ব মাত্র ৩২ কিলোমিটার। এই গ্রামটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২১৭৫ মিটার উঁচুতে। দিনের বেলা কোনো দুর্বলচিত্তের মানুষ যাতায়াত করলে নিশ্চিত ভয় পাওয়ার কথা। তবে সেখানের মনোরম প্রকৃতি চুম্বকের মতো আপনাকে টানবে, তা বাজি ধরেই বলা যায়। নাগরকোটে হোটেলে এক রাত থেকে ভোর বেলায় সূর্যোদয়ের সময় ব্যালকনি থেকে এভারেস্ট শৃঙ্গ দেখা যেতে পারে। ভোরে সূর্যের আলো শুভ্র তুষারবেষ্টিত এভারেস্ট শৃঙ্গে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের সবকিছু মায়াবি রূপ ধারণ করে। এতটাই অদ্ভূত সুন্দর দৃশ্য প্রতিদিনের পৃথিবীতে খুব কমই দেখতে পাবেন।

 

ফেওয়া হ্রদ

ফেওয়া হ্রদ

নাগরকোটে সূর্যোদয় দেখে বাসেই রওনা দিন পোখরার উদ্দেশ্যে। এই ২২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায় সাত ঘণ্টা সময় লাগবে। হাতে কম সময় থাকলে কাঠমান্ডু গিয়ে বিমানেও যেতে পারেন। আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি রাস্তা ঘুরে বাসযাত্রায় বেশ আনন্দ পাবেন। পোখারা শহর অনেক গুছানো। সেখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য মুগ্ধ করবে আপনাকে। পোখারার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আছে ফেওয়া হ্রদ ও তার আশপাশের এলাকা, ওয়ার্ল্ড পিস প্যাগোডা, ডেভি’স ফলস, ভারাহি মন্দির ও বেশ কিছু জাদুঘর।

যদি আপনি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা চান, তাহলে হোটেলে গিয়েই বুকিং করে ফেলুন ‘দা লাস্ট রিসোর্টে’ এক দিনের ট্রিপ। থামেলেই আছে এদের অফিস। ভোর ছয়টায় ওদের শাটল-বাসে করে রওনা হয়ে চার ঘণ্টা মধ্যে পৌঁছে যাবেন রিসোর্টে। সেখানে আছে বাঞ্জি জাম্প, সুইং জাম্প, রিভার র‍্যাফটিংসহ নানা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ। কেউ রাতে থাকতে চাইলে ক্যাম্পিংয়ে সুযোগও আছে। বিভিন্ন প্যাকেজ থেকে আপনার পছন্দের প্যাকেজ বেছে নিতে হবে বাজেট অনুযায়ী।

পোখারায় সারাংকোট নামের একটা জায়গা আছে। মূল পোখারা থেকে ৪৫ মিনিট দুরত্বে জায়গাটা পাহাড়ের অনেক উঁচুতে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০০ মিটার। ট্রেকিং ছাড়া পোখারা শহর থেকে এভারেস্ট দেখার জন্যে সবচেয়ে সুন্দর জায়গা এটি। বলা যায় প্রকৃতি তার রূপ, রঙ সব মেলে ধরেছে ওই এলাকায়। এখানে বিভিন্ন উচ্চতায় কিছু স্টেশন রয়েছে। দলবেঁধে সেখানে ঘোরার মজাই অন্যরকম।

পোখারা থেকে কাঠমান্ডু ফিরবেন বাসে করে। বিকেল ও সন্ধ্যাটা ঘুরে-ফিরে, কিছু শপিং করে চলে যাবে। পরদিন ফিরতি ফ্লাইট। একটু সময় নিয়ে চলে যান এয়ারপোর্টে। এবার বাঁ দিকে আসন নেয়ার চেষ্টা করুন। তাহলে ফিরতি পথেও দেখা হয়ে যাবে হিমালয়!

এই বিভাগের আরো খবর