• বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭

  • || ১২ শাওয়াল ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
হলিক্রস-নটরডেমসহ চার কলেজে ভর্তি বন্ধ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৩৭ মৃত্যু, শনাক্ত আরও ২৬৯৫ আজ থেকে চলবে আরও ৯ জোড়া ট্রেন হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ: তথ্যমন্ত্রী যেকোনো প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারব: প্রধানমন্ত্রী সময় যত কঠিনই হোক দুর্নীতি ঘটলেই আইনি ব্যবস্থা: দুদক চেয়ারম্যান জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর করোনা বিশ্ব বদলে দিলেও বিএনপিকে বদলাতে পারেনি: কাদের করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯১১ সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়াতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী সারা দেশকে লাল, সবুজ ও হলুদ জোনে ভাগ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৩৮১ জনের করোনা শনাক্ত পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চলছে: রেলমন্ত্রী দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৪৫ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ৪০ জন বাস ভাড়া যৌক্তিক সমন্বয়, প্রজ্ঞাপন আজই: ওবায়দুল কাদের এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবো না: প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে এসএসসির ফল প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ১২টার পরিবর্তে ১১টায় প্রকাশ হবে এসএসসির ফল করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৭৬৪
৪০

দেশের প্রথম ৬ লেনের সেতু মধুমতি নদীতে

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২০  

 

প্রস্তাবিত কালনা সেতুমধুমতি নদীর ওপর বাংলাদেশের প্রথম ৬ লেন বিশিষ্ট সেতু নির্মাণ হচ্ছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ব্রিজের ৩০ভাগ কাজ শেষ করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। দেশের ভেতরে কালনার পাশাপাশি এই ব্রিজের স্টিল ফ্রেমের কাজ চলছে ভিয়েতনামে। তিন শতাধিক শ্রমিক প্রতিদিন এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের সেতু এটি, কালনা সেতু।

এই সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৯০ মিটার ও প্রস্থ ২৭ দশমিক ১ মিটার। এর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা।

জাইকার সহযোগিতায় ও দেশীয় অর্থে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

কালনা সেতু নির্মাণ কাজ চলছেকালনা ফেরি পার হওয়া ট্রাকচালক খোকন ফলিয়া বলেন, 'কালনা ঘাটে একটা ফেরি দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন পারাপার করায় সব সময় ভিড় লেগে থাকে। এতে আমাদের সময় অনেক ব্যয় হয়। ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। কাজটি যেন ঠিক সময়ে শেষ হয়, সেজন্য সরকারের দৃষ্টি কামনা করছি।'

কালনা ঘাট দিয়ে যাতায়াত করা লক্ষীপাশা গ্রামের শেফালী বেগম বলেন, 'কালনা ঘাটে এসে কখনও নৌকা আবার কখনও ফেরিতে পারাপার  হতে হয়। তাতে অনেক সময় লাগে। ব্রিজ হলে আমাদের ঘাটে এসে আর বসে থাকতে হবে না। আমরা চাই শিগগিরই ব্রিজটি তৈরি হোক। আমাদের কষ্টের কথা চিন্তা করে কালনায় ব্রিজ তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।'

এই ঘাট দিয়ে চলাচলকারী শংকরপাশা গ্রামের মো. খবির শেখ, আসাদ শেখ, রাতইল গ্রামের আক্কাস মুন্সী, খানজাহান আলী পরিবহনের চালক ইদ্রিস আলী, কাশিয়ানী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খোকন সিকদারসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, কালনা সেতু তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।

কালনা সেতু নির্মাণ কাজ চলছেরাতইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, 'সেতুটি নির্মাণ হলে গোপালগঞ্জ, নড়াইল, খুলনা ও যশোর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। এই রাস্তায় চলাচলকারী লাখ লাখ যাত্রীর জন্য ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। সেই সঙ্গে দীর্ঘ বছরের অসহনীয় দুঃখ দুর্দশা থেকে রেহাই পাবে এই ঘাট দিয়ে চলাচলকারীরা। তাদের আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি ঘাটে বসে থাকতে হবে না। শুধু তাই নয়, কালনা সেতু নির্মাণ হলে বেনাপোল-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব কমে আসবে। বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে আমদানি-রফতানি পণ্য সরাসরি পদ্মা সেতু হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবে ব্যবসায়ীরা।

কালনা ফেরি ঘাট ইজারাদার মঞ্জুর হাসান বলেন, 'আর বেশিদিন যাত্রী সাধারণকে ভোগান্তি পোহাতে হবে না। খুব তাড়াতাড়ি তারা এই সেতু পার হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে রাজধানীতে যেতে পারবেন।'

কালনা ফেরি ঘাটকালনা সেতুর সহকারী প্রকল্প পরিচালক ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন, ছয় লেনের এই সেতু হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। চারটি মূল লেনে দ্রুতগতির এবং দুটি লেনে কম গতির যানবাহন চলাচল করবে। উভয় পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক হবে ৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার। সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এই সেতু নির্মিত হচ্ছে। জাপানের টেককেন করপোরেশন, ওয়াইবিসি ও বাংলাদেশের আব্দুল মোনেম লিমিটেড যৌথভাবে এই সেতুর নির্মাণ কাজ করছে।

উন্নয়ন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর