বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
রাজধানীতে `ফইন্নী গ্রুপের` ৬ সদস্য আটক স্পিকারের সঙ্গে সার্বিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ক্লাসিকোর ভেন্যু পাল্টানোর অনুরোধ লা লিগার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৮ কাউন্সিলর নজরদারিতে যেমন ছিল নবিজির জীবনের শেষ মুহূর্তটি দলের নাম ভাঙিয়ে অন্যায় করতে দেবেন না মেয়র সাদিক কমছে রাতের তাপমাত্রা, প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা এসআই আকরামসহ ১১ জন জেলহাজতে মানবতাবাদী নাট্যকার আর্থার মিলারের জন্ম মুখের কথায় চলে সাইদের ‘আশ্চর্য মোটরসাইকেল’ বরিশালে জাল-ইলিশসহ ২২জেলে আটক নীলনদের তীরে মিললো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ প্রাচীন কফিন পর্দা নামলো ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড এক্সপোর কুষ্টিয়ায় শুরু হলো তিনদিন ব্যাপী লালনমেলা বাংলাদেশই বিশ্বসেরা, প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৮ শতাংশ হাজার কোটি টাকার চেকের কপি প্রতারক চক্রের বাসায়! ৯ কর্মীকে তলব, একজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ইন্দোনেশিয়া থেকে সরাসরি পণ্য আমদানির সুযোগ চায় বাংলাদেশ পার্বত্য জেলায় সন্ত্রাস-মাদক নির্মূল করা হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৩৮

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স :সারাদেশেই চলবে অভিযান

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ঢাকায় ক্লাবভিত্তিক ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর বন্ধের পর এবার দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে এই অভিযান। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারাদেশে জুয়া আর জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এসপিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহানগর, জেলা ও উপজেলা থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত জুয়ার গডফাদার, জুয়া বোর্ড পরিচালনায় জড়িত এবং জুয়াড়িদের এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরিও শুরু হয়েছে। সংশ্নিষ্ট পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য মিলেছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, ঢাকায় স্পোর্টিং ক্লাবগুলো ছাড়াও অভিজাত এলাকার ফ্ল্যাটে ক্যাসিনো ও মদের বার গড়ে উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে গড়ে ওঠা ক্লাবেও হচ্ছে নানা ধরনের জুয়া। এসব জুয়ার আসর চিহ্নিত করে অভিযান শুরু হবে। ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম বিভাগগুলোর  ডিসিদের এসব জুয়ার আসর ভেঙে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই বার্তা গেছে দেশের প্রত্যেক মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের কাছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ঢাকার আশপাশের কয়েকটি জেলায় ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানবাড়িতেও রাতভর চলে জুয়া ও মাদকের আড্ডা। গ্রাম পর্যায়েও বিভিন্ন হাট-বাজার ও বিভিন্ন মেলাকেন্দ্রিক ছোট ছোট জুয়ার আসর বসে। এসব আসরে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব জুয়ার আসর চলায় স্থানীয় প্রশাসনও নিশ্চুপ থাকে। তবে কেন্দ্র থেকে অভিযান শুরু হওয়ায় এখন থেকে তৃণমূলের সর্বত্রই অভিযান চালানো হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধেই পুলিশ কাজ করে থাকে। ঢাকঢোল না পেটালেও বিভিন্ন সময়ে জুয়াবিরোধী অভিযানও হয়েছে। তবে এখন এই অভিযান আরও জোরালো করতে সারাদেশে মাঠ পর্যায়ে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, জুয়ার পাশাপাশি আসরে থাকে মাদকও। এই মাদকের কারণেই সমাজে নানা অপরাধ সংঘটিত হয়। এজন্য যারাই মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

জুয়াসহ নানা অপকর্ম এবং এই অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে অভিযান শুরু হবে, তা সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের কথাতেও উঠে এসেছে। গতকাল শনিবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কারও বিরুদ্ধে অন্যায়, অপরাধ, দুর্নীতির অভিযোগ পেলে প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধি হোক আর প্রশাসনের লোক হোক ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে গতকাল কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বলেছেন, 'দখল-তদবির সহ্য করা হবে না। অন্যায়কারীদের সঙ্গে সরকারের আপসের সুযোগ নেই।'

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুব রহমান বলেন, চট্টগ্রামে যেসব ক্লাবে জুয়ার আসর বসত তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ যদি জুয়ার আসর বসায় তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা জেলার এসপি মারুফ হোসেন সরদারও বলেন, জুয়ার আসর আর বসতে দেওয়া হবে না।

পুলিশ সূত্র জানায়, ক্যাসিনো, জুয়া বা মাদকের আসরগুলোতে পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে আসছিল। তবে নানা কারণেই সেটা জোরালো ছিল না। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কঠোর মনোভাব বোঝার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও নড়েচড়ে বসেছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পুলিশ প্রশাসনের কেউ যদি এসব অপরাধে জড়িত থাকেন, এ ধরনের অপরাধ করার সুযোগ করে দিয়ে থাকেন প্রমাণ মিললে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এবার এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেছেন, দেশে এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গি-সন্ত্রাসীদেরও নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। সার্বিকভাবে দেশে এখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। এজন্য পুলিশের হাতেও পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। তাই এবার জুয়ার মতো সামাজিক অপরাধ দমনে সারাদেশে অভিযান চলবে। এসব অপরাধের নেপথ্য নায়কদের ধরতে সরকারেরও গ্রিন সিগন্যাল রয়েছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় ফোরামে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কতিপয় নেতার নানা অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী নিজেদের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপরই গত বুধবার র‌্যাব সদস্যরা রাজধানীর গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে। একই সময়ে ফকিরাপুল এলাকায় তার পরিচালিত ক্যাসিনোতে হানা দিয়ে তা তছনছ করা হয়। একই রাতে মতিঝিল, বনানী ও গুলিস্তান এলাকায় আরও কয়েকটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেয় র‌্যাব।

বুধবার রাতের ওই অভিযানের পর তা আরও জোরালো হয়। গত শুক্রবার গুলশানের নিকেতন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় যুবলীগের সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ও বহুল আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমকে। তবে যুবলীগ থেকে বলা হয়েছে, ওই ঠিকাদার যুবলীগের কোনো পদে নেই। একই রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি সফিকুল আলম ফিরোজকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, এই অভিযান আরও জোরালো করা হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর