• বুধবার   ০৩ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭

  • || ১৯ রজব ১৪৪২

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
১০ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী মানুষকে খাদ্য সরবরাহ-সময়মতো ভ্যাকসিন দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৭, শনাক্ত ৫১৫ মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করেছে বিএনপি: সেতুমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর নীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: ড. মোমেন প্রেস ক্লাবের সংঘর্ষে ছাত্রদলের ১৩ জন রিমান্ডে ঢাবির ১২ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার দেশবিরোধী একটি মহল সরকার হটানোর ষড়যন্ত্র করছে: কাদের করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৮, শনাক্ত ৫৮৫ মুশতাকের মৃত্যুর কারণ তদন্তে বেরিয়ে আসবে: তথ্যমন্ত্রী আজ থেকে ২ মাস ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ দেশে কোনো গরিব মানুষ থাকবে না : তথ্যমন্ত্রী বেসরকারি চিকিৎসা সেবা ব্যয় নির্ধারণ শিগগিরই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাটকা সংরক্ষণে কাল থেকে ৬ জেলায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৮, শনাক্ত ৩৮৫ আমরা শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ৬০ কর্মদিবস পর পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী এ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের কৃতিত্ব নতুন প্রজন্মের : প্রধানমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৫, শনাক্ত ৪০৭

দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান সূর্য বাংলাদেশ

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২১  

পাঁচ দশকে বিদেশি রাষ্ট্রের শোষণমুক্ত বাংলাদেশ এখন অর্থনীতিতে বেশ পুষ্ট। কেবল পাকিস্তানকেই নয়, অর্থনীতি ও সামাজিক নানা সূচকে ভারতের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৪ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার অর্থনীতি নিয়ে ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করা যুদ্ধবিধ্বস্ত, অভাব-অনটনে জর্জরিত সাড়ে ৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশের এখনকার অর্থনীতির আকার ১১ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া বাংলাদেশ ৫০ বছরের দ্বারপ্রান্তে এসে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকার বাজেট দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। শূন্যের ঘরে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। একসময় ১২৯ মার্কিন ডলার আয় করা বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৬৪ ডলার। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সূত্র জানিয়েছে, পাঁচ দশকে দেশে শিল্প কারখানা হয়েছে। কর্মসংস্থান বেড়েছে। তিল তিল করে গড়ে ওঠা অর্থনীতিতেই এখন নিজের পদ্মা সেতুর কাজ প্রায় শেষের দিকে। পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন, কর্নফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল, গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পও বাস্তবায়ন হয়েছে ও হচ্ছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে এ অর্থনীতি আরও এগোবে। এমন সব তথ্য জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।  

জানা গেছে, ১২ বছর পর ২০৩২ সালে বিশ্বের বড় ২৫টি অর্থনীতির দেশের একটি হবে বাংলাদেশ। এখন ৪১তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ হবে ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। সব ঠিকঠাক থাকলে ২০৩৩ সালে অর্থনীতির দিক থেকে মালয়েশিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশকে অতিক্রম করবে বাংলাদেশ। ১৫ বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি গড়ে ৭ শতাংশ থাকবে। ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সিইবিআর বলেছে, আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি আড়াইগুণেরও বেশি বাড়বে। ২০১৯ সালে স্থিরমূল্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ১১ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০৩৩ সালে গিয়ে জিডিপির আকার দাঁড়াবে ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকায়।

১৯৭২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা হয়েছে। ১৯৭২ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৮৮ শতাংশ। ২০১৯ সাল শেষে ১৯ শতাংশে নেমেছিল। ২০১৯ সালের জুনে দারিদ্র্য হার সাড়ে ২০ শতাংশে নেমেছিল। ২০১৮ সালের জুনে ছিল ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। এ দিকে গত জুন শেষে অতি দারিদ্র্যের হার নেমেছে সাড়ে ১০ শতাংশে। এক বছর আগে ছিল ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যা ব্যুরো (বিবিএস) ২০১৬ সালের ব্যয় ও আয় জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এই অনুমিত হিসাব করেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দিনে ১ ডলার ৯০ সেন্ট আয় করতে পারলে ওই ব্যক্তিকে দরিদ্র ধরা হয় না। বিবিএস সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে দেশে হতদরিদ্র ছিল ২ কোটি ৫৮ লাখ জন। ২০১৯ সালের জুন শেষে অতি গরিবের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখের কিছু বেশিতে। বিবিএসের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। এর মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে আছে সোয়া তিন কোটি মানুষ। স্বাধীনতার পরপর ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে হতদরিদ্রের হার ছিল ৪৮ শতাংশ। দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত সাড়ে ৮২ শতাংশ মানুষ।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত প্রথম তিন বছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশের বেশি। ওই সময় দারিদ্র্যের হার ছিল মোট জনসংখ্যার ৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ সাড়ে ৭ কোটি মানুষের সিংহভাগই ছিল দরিদ্র। এখন তা কমে অর্ধেকে নেমেছে। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ। জনসংখ্যার হিসাবে এই হার বেড়েছে। তবে অতিদরিদ্রের সংখ্যা কমেছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বাধীনতা-পরবর্তী তিন বছরে পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়ায় মূল্যস্ফীতির গড় হার ছিল ৪৭ শতাংশ। এখন তা নেমে সাড়ে ৬ শতাংশে অবস্থান করছে।

১৯৭২-৭৩ থেকে ১৯৭৯-৮০ অর্থবছর পর্যন্ত মাথাপিছু জাতীয় সঞ্চয় ছিল জিডিপির ২ শতাংশ। এখন তা বেড়ে ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭২ সালে দেশের ৭ কোটি মানুষের জন্য দেওয়া বাজেটে জনপ্রতি বরাদ্দ ছিল মাত্র ১১২ টাকা, অথচ বর্তমানে বাংলাদেশের মোট সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের জন্য দেওয়া বাজেটে মাথাপিছু বরাদ্দ প্রায় ২০ হাজার টাকা।

তবে ৫০ বছরে বেড়েছে দেশের ঋণ। যার বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণ উৎস্য থেকে নেওয়া। অর্থমন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে গতবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ ৯ লাখ ৭০ হাজার ৩৪৮ কোটি এবং সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত মিলিয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। এ ছাড়াও এ ঋণ জিডিপির ৩৫ শতাংশের বেশি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের নাগরিকের মাথাপিছু ঋণ এখন ৬৭ হাজার টাকা। একবছর আগে ছিল ৬০ হাজার টাকা। ২০২০ সালে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার ২১২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রের ২৭ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঋণের স্থিতি আরও ৮ হাজার ৫৪৭ টাকা বাড়বে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার প্রায় পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় ছিল ১২৯ ডলার। এখন তা দুই হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। গত ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে মাথাপিছু গড় আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪ ডলারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও মাথাপিছু আয়ের সাময়িক হিসাবে এই চিত্র উঠে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানান, অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে অর্থনীতি আরও এগোতে পারতো। ১৯৮০ সালে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যা ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা এখনও ৬ শতাংশের বেশি। বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের অর্থনীতি ভালোভাবেই এগোচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ঠিক জায়গায় রয়েছে। ২০২৫ সালের আগেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করবে। অর্থনীতির সব সূচকেই এগোবে বাংলাদেশ। এখন উন্নত দেশের তালিকায় নাম লেখানোর দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশ এখন আর ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ নয়। দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান সূর্য আমরা।