• মঙ্গলবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৫ ১৪২৭

  • || ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৬, শনাক্ত ৬৯৭ কাউন্সিলর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে: কাদের হাতিয়ায় বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও: ৫ জন গ্রেফতার ২৬ জানুয়ারির মধ্যে সেরামের টিকা আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পরিবার নিয়ে দেখা যায় এমন সিনেমা তৈরি করুন: প্রধানমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২১, শনাক্ত ৫৭৮ ২২ সালের মধ্যে ঢাকা-কক্সবাজার রেল চালু হবে: রেলমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৬ জনের মৃত্যু ৬২ সহযোগীর মাধ্যমে অর্থপাচার, পিকে হালদারের হাজার কোটি টাকা ফ্রিজ কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হবে না : উশৈসিং বাংলাদেশে বিশ্বের সেরা মানের পাট উৎপাদিত হয়: পাটমন্ত্রী পিকে হালদারের বান্ধবী গ্রেফতার করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৬, শনাক্ত ৭১৮ আওয়ামী লীগ সরকারে আছে বলেই দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠছে: প্রধানমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২২, শনাক্ত ৮৪৯ ভাসানচর নিয়ে আন্তর্জাতিক এজেন্সির সাপোর্ট পাচ্ছি: মোমেন এইচএসসির ফল ২৮ জানুয়ারির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জা রওশন আরা ওয়াহেদ আর নেই সংগঠন গড়ার জন্য বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন: শেখ হাসিনা

জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর বাণীর জবাবে ইন্দিরা

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর ২০২০  

১৯৭২ সালের ২ ডিসেম্বরের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মনে করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব আদর্শ হয়ে থাকবে। গত ১৯ নভেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, তার জবাবে শ্রীমতি গান্ধী আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে এবং সমগ্র বিশ্বের কাছে তা প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদর্শ হয়ে থাকবে।

শ্রীমতি গান্ধী আরও আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ পুনর্গঠনের সব বাধা অতিক্রম করে নিরাপত্তার সঙ্গে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক দীর্ঘতর হওয়ার কামনা করেন তিনি। এর আগে ১৯ নভেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তার কাছে একটি বাণী পাঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাসসের খবরে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব গাঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। বাণীতে লেখা— ‘আপনার শুভ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমি আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনার গতিশীল ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বাধীন ভারতের শান্তি ও উন্নয়নের পথে দীর্ঘ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোনও চিত্র রচনায় আপনার ব্যক্তিগত ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে। এ বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী হোক।’

দৈনিক বাংলা, ২ ডিসেম্বর ১৯৭২

এদিকে পত্রিকায় জানানো হয়, ১৯৭২ সালে প্রথম  বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর সাধারণ ছুটি। সরকার বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বরকে সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করে। সরকার আরও সিদ্ধান্ত নেয় যে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর নবান্ন উপলক্ষে ছুটি থাকবে না।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি প্রশ্নে কোনও পূর্ব শর্ত নেই

সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের ওপর গৃহীত প্রস্তাব দুটি পরস্পর নির্ভরশীল কিনা, তা নিয়ে পরিষদে নানা রকম ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ পরিষদের সভাপতির বক্তব্যে শুধু মতামতের পরস্পর নির্ভরশীলতার কথাই বলেছেন, ‘প্রস্তাবের’ নয়। এই দিকটি ছিল একটি আলোচনার বিষয়বস্তু। সাধারণ পরিষদের বিতর্কের আগে তা আলোচিত হয়। যুগোস্লাভিয়া অন্তর্ভুক্তি প্রস্তাবটির প্রস্তুতির মধ্যে কোনও যোগসূত্র রাখতে চায়নি। তারা মূল প্রস্তাবটিকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য শর্ত আরোপ করার পাকিস্তানি প্রচেষ্টাকে সাফল্যজনকভাবে প্রতিহত করে।

দৈনিক বাংলা, ২ ডিসেম্বর ১৯৭২

সভাপতির বক্তব্যে এই ভাষাকে নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছিল। পাকিস্তান চেয়েছিল, সভাপতিকে এই পয়েন্টে একটি সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রাখতে হবে যে, প্রস্তাব দুটি পরস্পর নির্ভরশীল—একটি অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত ও অপরটি বন্দিমুক্তি সংক্রান্ত।

ভারতের খোলা বাজারে বাংলাদেশের রিলিফ

বাংলাদেশের ত্রাণসামগ্রী খোলাবাজারে বিক্রির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রাজ্যসভায় অনেক সদস্য সরকারের সমালোচনা করেন। পুনর্বাসন দফতর ও ভারতের রেডক্রস সোসাইটির দেওয়া বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য ত্রাণসামগ্রী খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এই মর্মে কিছু কিছু সংবাদ আসতে থাকে। সে সময় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। তবে এ ধরনের আরও কিছু অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানান ত্রাণসামগ্রী।

উপকূলে বঙ্গবন্ধু  

সার্বিক পরিস্থিতি নিজের নখদর্পণে রাখতে বঙ্গবন্ধু উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্প ও বনাঞ্চল সংরক্ষণের ব্যবস্থা পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের দ্বিতীয় দিনে পাইকগাছা থেকে বঙ্গবন্ধু সুন্দরবনে পৌঁছান। তাঁর এই সফর নিয়ে বিরোধীপক্ষ নানা প্রপাগান্ডা তৈরির চেষ্টা করলেও তিনি এই পুরো সময়টা আক্ষরিক অর্থে উপকূলে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ, মৎস্য ও পশু পালন মন্ত্রী সোহরাব হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ তার সঙ্গে ছিলেন। এদিন রাত আটটায় বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী জলযানটি সুন্দরবনের নিকটবর্তী নদীতে দেখা যায়। পত্রিকার খবরে বলা হয়, সেখানেই বঙ্গবন্ধুর রাত যাপন করার কথা।