রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯   পৌষ ১ ১৪২৬   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপ-কমিটির সভা আজ হঠাৎ পড়ে গেলেন মোদী সিটি ভোটে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ইসির অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আওয়ামী লীগ এখন শক্তিশালী : ভূমিমন্ত্রী মেজাজ হারিয়ে দুই ঘণ্টায় ১২৩ টুইট করে ট্রাম্পের নতুন রেকর্ড! বিজয় দিবসে আসছে সাবিনা ইয়াসমিনের গান নারীর ক্ষমতায়নে বিস্ময়কর রেকর্ড হাত থেকে কোরআন পড়ে গেলে করণীয় সানিয়া মির্জার বোনের বিয়েতে বসেছিল চাঁদের হাট! বিএনপির ঘাড়ে ভর করেছে বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের প্রেতাত্মা ‘বোরকা পরে বাংলাদেশ থেকে এসেছি’ বিজেপি এমপির টুইটে ভারতে তোলপাড় বন্দে আলী মিয়ার জন্ম ‘২ ঘণ্টার মধ্যে উড়ে যাবে সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট!’ গরুর খামারে কম্বল দান করলেই মিলবে বন্দুকের লাইসেন্স! আজ প্রকাশ হবে রাজাকারদের তালিকা সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ খুঁজছেন ব্রিটেনের রানি শামীমের ৩৬৫ কোটি টাকা, খালেদের ৩৪, সম্রাটের ‘তেমন নেই’ মাকাসিদুশ শরিয়া তত্ত্বের প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ লড়েছেন মোসাদ্দেক, জিতেছে ঢাকা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে সচেতন থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
৮৫

‘কাশ্মীরি গার্ল’ খোঁজা ‘মানসিক অসুস্থতা’, নিন্দার ঝড়

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০১৯  

 

 

  

ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর অঞ্চলটির মেয়েদের বিয়ে করার জন্য বিজেপির এক উগ্র বিধায়কের আহ্বান এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে গুগলে ‘কাশ্মীরি গার্ল’ খোঁজার যে ট্রেন্ড দেখা গেছে, সেটাকে ‘ধর্ষকামী’ ও ‘মানসিক অসুস্থতা’র নজির বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, এটা নারী অবমাননার নির্লজ্জ উদাহরণ। এ নিয়ে নিন্দা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ভারতজুড়ে যৌন হয়রানির শিকার নারীদের মুখ খোলার টুইটারভিত্তিক প্লাটফর্ম ‘#ইন্ডিয়ামিটু’র সমন্বয়ক ও সাংবাদিক ঋতুপর্ণা চ্যাটার্জি বিষয়টিকে সরাসরি ‘ধর্ষকামী মানসিকতা’র প্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন। ক্ষুব্ধ ঋতুপর্ণা বলেন, ‘এটা একেবারে ধর্ষকামী! শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পুরুষের যুদ্ধক্ষেত্রে টার্গেট হয়েছে নারীদেহ। কাশ্মীরি মেয়েদের নিয়ে (বিজেপি বিধায়কের) সবশেষ মন্তব্য সেই বিষয়টির প্রমাণ।’

বিজেপি বিধায়কের আহ্বান এবং অনলাইনে ‘কাশ্মীরি গার্ল’ লিখে খোঁজার বিষয়টিকে সরাসরি ‘নারী অবমাননা’ বলছেন নয়াদিল্লির সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও নারী অধিকার নেত্রী মিহিরা সুদ। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরের নারীরা যুদ্ধের গণিমতের মাল নন। তারাও অন্যদের মতো মানুষ, মতামতের অধিকার তাদেরও আছে।’

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদায় সংবিধানে রাখা ৩৭০ অনুচ্ছেদ সম্প্রতি বাতিল করে দেয় নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে নাটকীয় কায়দায় অঞ্চলটিজুড়ে সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। বন্দি করা হয় সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ওমর আব্দুল্লাহসহ মূলধারা রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতাকে। ইন্টারনেট, ক্যাবল নেটওয়ার্কসহ যাবতীয় সব যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কারফিউ জারি করে রাস্তায় রাস্তায় সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয় সশস্ত্র বাহিনী।কাশ্মীরে ইন্টারনেট, ক্যাবল নেটওয়ার্কসহ যাবতীয় সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীতসংবাদমাধ্যম বলছে, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার সময় উপমহাদেশ ভাগ হয়ে গেলে তখন কাশ্মীরের শাসকরা বিশেষ শর্তে ভারতে যোগ দেন। সেই শর্তটিই ৩৭০ অনুচ্ছেদ আকারে সংবিধানে সংরক্ষিত ছিল। এই অনুচ্ছেদের আওতায় কাশ্মীর আলাদা সংবিধান ও পতাকার স্বাধীনতা ভোগ করতো। এমনকি সেখানে সরকারি চাকরি, জমি কেনা এবং ব্যবসা করার সুযোগটিও ছিল কেবল কাশ্মীরিদের জন্যই। 

তবে এ অনুচ্ছেদ বাতিল হওয়ায় বেশিরভাগ ভারতীয়র নজর যায় কাশ্মীরের মেয়েদের দিকে। বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত কাশ্মীরের মেয়েরা আগে রাজ্যের বাইরে বিয়ে করতে পারলেও বাবার বাড়ির সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন। সেজন্য নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও কাশ্মীরে বিয়ে করতে যেতেন না ভারতীয় ছেলেরা। কিন্তু এখন রাজ্যের বাইরে বিয়ে হলেও কাশ্মীরি মেয়েরা বাবার সূত্রে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন।

অনুচ্ছেদটি বাতিল হওয়ার পর উত্তর প্রদেশের মোজফফরনগরের বিজেপির বিধায়ক বিক্রম সাইনি বলেন, ‘এবার আমাদের দলের কর্মীরা সুন্দরী কাশ্মীরি নারীদের বিয়ে করতে পারবেন... যারা অবিবাহিত তারা এবার কাশ্মীরে বিয়ে করতে পারবেন।... ওখানকার মেয়েদের বিয়ে করুন। তিনি হিন্দু বা মুসলমান যেই হোন। এ নিয়ে সারাদেশের আনন্দ করা উচিত।’

বিজেপির এ উগ্র মানসিকতার বিধায়কের বক্তব্যর পরই ভারতজুড়ে যেন ‘কাশ্মীরি গার্ল’ খোঁজার ‘মানসিক রোগ’ ছড়িয়ে পড়ে। কাশ্মীরের মেয়েদের বিয়ে করার পরিকল্পনা, হানিমুন ও ভিডিওতে সয়লাব হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এমনিক গুগল ট্রেন্ডে দেখা যায়, সার্চে সবার ওপরে উঠে গেছে কাশ্মীরি মেয়ে। এরপরই দেখা গেছে ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ সার্চ করতে।

বিষয়টিতে চরম ক্ষুব্ধ অনেক নারী ও মানবাধিকার কর্মী বলেন, ‘স্মার্টফোন হাতে যারা এই ধরনের গুগল সার্চ করছেন, তারা আসলে হরিণের চামড়া গায়ে দেওয়া নেকড়ে।’

এই বিভাগের আরো খবর