• রোববার   ০৭ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪২৭

  • || ১৫ শাওয়াল ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে সংগ্রহ হবে করোনার নমুনা করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৪৩ বিভেদের ভাইরাসে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না: কাদের হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরত দেওয়া মানবতাবিরোধী কাজ: তথ্যমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৬৩৫ ৩ হাজার মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নিয়োগে অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী মানুষকে সুরক্ষিত করতে প্রাণপণে চেষ্টা করছি: প্রধানমন্ত্রী করোনায় মৃত্যুর মিছিলে আরও ৩৫ জন, নতুন শনাক্ত ২৪২৩ হলিক্রস-নটরডেমসহ চার কলেজে ভর্তি বন্ধ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৩৭ মৃত্যু, শনাক্ত আরও ২৬৯৫ আজ থেকে চলবে আরও ৯ জোড়া ট্রেন হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ: তথ্যমন্ত্রী যেকোনো প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারব: প্রধানমন্ত্রী সময় যত কঠিনই হোক দুর্নীতি ঘটলেই আইনি ব্যবস্থা: দুদক চেয়ারম্যান জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর করোনা বিশ্ব বদলে দিলেও বিএনপিকে বদলাতে পারেনি: কাদের করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯১১ সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়াতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী সারা দেশকে লাল, সবুজ ও হলুদ জোনে ভাগ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
১৬২

করোনা টেস্ট কিট নিয়ে জাফরুল্লাহর নতুন স্ট্যান্টবাজি!

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২০  

করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট উদ্ভাবন করার ঘোষণা দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সংকট সময়ে যেকোনো ধরনের উদ্ভাবনই উৎসাহজনক। বর্তমান সরকারও করোনার কিট উদ্ভাবন ও প্রস্তুতের বিষয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। খোদ জাফরুল্লাহ চৌধুরী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কিট হস্তান্তর নিয়ে তিনি যেভাবে সরকারকে দোষারোপ করলেন সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।

জানা গেছে, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর টেস্ট কিট নিয়ে যেসব কথাবার্তা বলেছেন তা স্ট্যান্টবাজির অংশ । শনিবার (২৫ এপ্রিল) তথাকথিত কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তা আরও স্পষ্ট হলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারকে দোষারোপ করতেই কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি নানা মিথ্যাচার ও গুজব ছড়িয়েছেন।

তথ্যসূত্র বলছে, ডা. জাফরুল্লাহ দাবি করেছেন-আমন্ত্রণ করা সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে কেউ যাননি এই অনুষ্ঠানে। সত্য হচ্ছে, এই পর্যায়ে সরকারের কেউ যেতেই পারেন না এই ধরনের কোনো অনুষ্ঠানে। টেস্ট কিটের কাজ এখন যেই পর্যায়ে সেখান থেকে প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাদের ক্লিনিকাল ট্রায়াল করার কথা। যা হতে হয় একটি থার্ড পার্টির মাধ্যমে। বাংলাদেশে আইসিডিডিআর,বি, আইইডিসিআর সহ মোট নয়টি এমন থার্ড পার্টি প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে এই পরীক্ষা করানো যায়। এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল মানেও কিন্তু অনুমোদন না। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করে তথ্য উপাত্ত পাঠাতে হয় বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের ন্যাশনাল রিসার্চ এথিকস কমিটিতে।

সেখান থেকে টেস্ট কিট যাবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ন্যাশনাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস অ্যাডভাইসারি কমিটিতে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সকল ধাপ সম্পন্ন হলেই কেবল চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে। তারপর সফলতা সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন আসে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি থেকে। অর্থাৎ, একাধিক ধাপ বাকি থাকতেই ডা. জাফরুল্লাহ মিডিয়া ডেকে তামাশা করেছেন হস্তান্তরের নামে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে সকল সহায়তা পাওয়ার পরও আজকের কথাবার্তায় বুঝা যায় উনি মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। নিজেরা কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সরকারের উপর অন্যায়ভাবে দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছেন।

ডা. জাফরুল্লাহ দাবি করেছেন, গণস্বাস্থ্য নাকি বিদেশ থেকে সংক্রমিত স্যাম্পল এনে তা পরীক্ষা করেছে। সরকার থেকে এধরনের কোনো অনুমতি তারা নেননি। যে কাজটা ওনারা করেছেন, অর্থাৎ অনুমোদনহীনভাবে দেশের বাইরে থেকে সংক্রামক রোগের স্যাম্পল নিয়ে আসা, তা কিন্তু সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ২৪ ধারা মোতাবেক আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো রকম অনুমোদন ছাড়া টেস্ট কিটের প্যাকেজিংও করেছেন, যা ঔষধ নীতির পরিপন্থী।

তবে সূত্র বলছে, ডা. জাফরুল্লাহ যে টেস্টিং পদ্ধতির কথা বলছেন, তার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন আছে শুরু থেকেই। তারপরেও জনস্বাস্থ্য প্রশ্ন জড়িত দেখে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তারা সর্বোচ্চ সহায়তা পেয়েছেন। সংক্রামক রোগের পরীক্ষা বা ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ কিন্তু সাধারণ না, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তাড়াহুড়ো করে করার মতো কাজ তো অবশ্যই না। যে প্রক্রিয়াগুলো জাফরুল্লাহ ও তার দল অনুসরণ করতে চাচ্ছেন না, তা কিন্তু জনস্বার্থেই করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের কথা বলে উনারা জনস্বার্থ কেন হুমকিতে ফেলতে চাচ্ছেন তা অনেকেরই বোধগম্য নয়।

প্রক্রিয়া অনুসরণ করে টেস্ট কিট তৈরি করা হলে ও সফলতা প্রমাণ হলে অবশ্যই সরকার তা লুফে নেবে। তার জন্য কাজ করতে হবে, অপরিপূর্ণ উদ্ভাবন নিয়ে স্ট্যান্টবাজি করে সাময়িক রাজনৈতিক ফায়দা হয়তো হাসিল হবে, জনগণের কোনো কাজে আসবে না।

রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর