বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৬ ১৪২৬   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
রিফাত হত্যায় পুলিশ প্রতিবেদন কাল শরীরে ট্যাটু আঁকায় ক্যানসারের ঝুঁকি বাকেরগঞ্জে একুশে আগস্ট উপলক্ষে শোক র‍্যালী বাবুগঞ্জে একুশে আগষ্ট স্মরনে র‌্যালী ও আলোচনা সভা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের ফাঁসির দাবিতে গৌরনদীতে শোকর‌্যালি বাকেরগঞ্জে ৮৯ শতাংশ সরকারি খাস জমির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল: আ ক ম মোজাম্মেল হক ২০২১ সাল থেকে কারিগরী শিক্ষা বাধ্যতামূলক হচ্ছে পেঁপেঁ পাতার রস খেয়ে ডেঙ্গু জ্বরে সুস্থ্য হয়েছেন সাত জন বানারীপাড়া ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্বরনে আলোচনা সভা ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে মেহেন্দিগঞ্জে আলোচনা সভা স্বাস্থ্যশিক্ষা তৃণমূলে নিতে মন্ত্রীকে দুদকের চিঠি ‘গার্লস প্রায়োরিটি’ গ্রুপের এডমিন তাসনুভা কারাগারে আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে টেলিফোন শিল্প সংস্থা-মোস্তফা জব্বার গ্রেনেড হামলার দায় খালেদা জিয়া এড়াতে পারেন না: প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক বিকাশে প্রধান বাধা দুর্নীতি: দুদক চেয়ারম্যান বাপ্পির ‘ডেঞ্জার জোন’ আসছে দুর্গাপূজায় গ্রেনেড হামলায় নিহত সেন্টুর কবর জিয়ারত ভবনে প্রবেশে বাধা: দণ্ডবিধির আইন প্রয়োগ করবে ডিএনসিসি সঙ্গী যখন হাত ধরে, বুঝে নিন সম্পর্কের গভীরতা
২৩

কবিগুরুর জীবনে শ্রাবণ

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০১৯  

ঠাকুরবাড়ি তখন জনারণ্য। কবিকে বেনারসি-জোড় পড়ানো হলো। কোঁচানো ধুতি, গরদের পাঞ্জাবি, চাদর, কপালে চন্দন, গলায় মালা দিয়ে সাজানো হলো। রানী চন্দ কবির বুকের ওপরে রাখা হাতে ধরিয়ে দিলেন পদ্মকোরক। কবি চললেন চিরবিদায়ের পথে। বাইশে শ্রাবণের কথাই বলছিলাম। শোকার্ত তারিখটা ছাড়াও রবি ঠাকুরের জীবনে ‘স্মরণীয় শ্রাবণ’ এসেছিল বহুবার। বলা যায়, অনেক সময় শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের জীবনে অন্য এক মাধুর্যে ধরা দিয়েছে যেন।

‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’

রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’। জানা যায়, ১৯০৫ সালের ৭ অগস্ট (সে-ও শ্রাবণ) কলকাতার টাউন হলের এক প্রতিবাদ সভায় ওই গান গাওয়া হয়েছিল। গানটির সঠিক রচনাকাল জানা যায়নি। তবে, এই গান যেভাবে বাংলা দেশের সমাজকে আলোড়িত করেছিল, তা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ঘটনা। স্বাধীনতার পর কবিগুরুর লেখা এই গানের প্রথম দশ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করে বাংলাদেশ।

বঙ্কিমের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ

রবীন্দ্রনাথ জীবনে বহুবার বলেছেন ও লিখেছেন এই ঘটনা। ১৮৮২ সালের শ্রাবণ মাসে রমেশচন্দ্র দত্তের কন্যার বিবাহসভায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বরি ঠাকুরের প্রথম দেখা হয়। দিনটিতে কে সবচেয়ে বেশি খুশি ছিলেন তা বলা মুশকিল। তবে বঙ্কিম রবীন্দ্রনাথের ‘সন্ধ্যাসংগীত’ কাব্যগ্রন্থের প্রশংসা করেন প্রাণ খুলে, তারপর নিজের গলা থেকে ফুলের মালা খুলে রবীন্দ্রনাথের গলায় পরিয়ে দেন।

ছিন্নপত্র

শিলাইদহে কবি। সালটি ছিল ১৮৯৪। তারিখ বাইশে শ্রাবণ। এদিন ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরাদেবীকে চিঠি লিখেছেন কবি—“... এখানকার প্রকৃতির সঙ্গে সেই আমার একটি মানসিক ঘরকন্নার সম্পর্ক। ...জীবনের যে গভীরতম অংশ সর্বদা মৌন এবং সর্বদা গুপ্ত, সেই অংশটি আস্তে আস্তে বের হয়ে এসে এখনকার অনাবৃত সন্ধ্যা এবং অনাবৃত মধ্যাহ্নের মধ্যে নীরবে এবং নির্ভয়ে সঞ্চরণ করে বেড়িয়েছে। এখনকার দিনগুলো তার সেই অনেক কালের পদচিহ্ন-দ্বারা যেন অঙ্কিত।” (ছিন্নপত্র)

‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ 

রবীন্দ্রনাথের জীবনে এক সুদূরপ্রভাবী ঘটনা ঘটে। ১৮৯৬ সালে ৮ অগস্ট পিতা দেবেন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথকে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দেন তাদের সম্পত্তির।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

‘ক্ষণিকা’ প্রকাশ

রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ‘ক্ষণিকা’ প্রকাশিত হয় শ্রাবণেই। এই কাব্যগ্রন্থে কবিতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন— ‘...মরার পরে চাইনি ওরে অমর হতে / অমর হব আখির তব সুধার স্রোতে।’

নয়টি নতুন গান

১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের ৯টি নতুন গান পরিবেশিত হয় শান্তিনিকেতনে অনুষ্ঠিত বর্ষামঙ্গলে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘ওই যে ঝড়ের মেঘের কোলে’, ‘আজ আকাশের মনের কথা ঝরো ঝরো বাজে’, ‘পুব সাগরের পার হতে কোন’, ‘একি গভীর বাণী এল ঘন মেঘের আড়াল ধরে’, ‘বৃষ্টি শেষের হাওয়া কিসের খোঁজে’ প্রভৃতি।

অক্সফোর্ড সম্মাননা

১৩৪৭-এর ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ ভাবে সম্মানিত করা হয় শান্তিনিকেতনে। বিদেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এসে কবিকে সম্মানিত করেন। এই বিশেষ দিনে রবীন্দ্রনাথের একটি নতুন গান গাওয়া হয়। গানটি হল ‘বিশ্ব বিদ্যা তীর্থ প্রাঙ্গণ কর মহোজ্জ্বল আজ হে’।

কবিগুরুর প্রয়াণ

বছর ঘুরেই তো বাইশে শ্রাবণ আসে। বিশ্বব্যাপী রবিভক্তদের কাছে বাইশে শ্রাবণ দিনটি শোকের, শূন্যতার। রবীন্দ্র কাব্যসাহিত্যের বিশাল একটি অংশে যে পরমার্থের সন্ধান করেছিলেন, সেই পরমার্থের সঙ্গে তিনি লীন হয়েছিলেন ১৯৪১ সালের এদিন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মৃত্যু নিয়ে বলেছেন— ‘...সংসারের বাহিরেতে কিছুই না থাকে যদি, আছে তবু দয়াময় মৃত্যু’ (বিসর্জন)।

এই বিভাগের আরো খবর