• শনিবার   ০৪ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ১৯ ১৪২৭

  • || ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৪০১৯, মৃত্যু ৩৮ চালের বাজার অস্থিতিশীল করলে কঠোর ব্যবস্থা : খাদ্যমন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৩৭৭৫, মৃত্যু ৪১ যত্রতত্র পশুরহাটের অনুমতি দেওয়া যাবে না- ওবায়দুল কাদের জঙ্গিবাদ দমনে সফলতা ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছি: র‌্যাব ডিজি ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৬৮৩ শিগগিরই আরও ৪ হাজার নার্স নিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৪০১৪ অর্ধশত যাত্রী নিয়ে বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি, উদ্ধার কাজ চলছে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৮০৯ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন পাচ্ছে ৪ বিদেশি এয়ারলাইন্স অপরাধী ক্ষমতাবান হলেও ছাড় দেয়া হবে না: কাদের গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩৫০৪ করোনা রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ৩৪ গণপরিবহনে বেশি ভাড়া নিলে কঠোর ব্যবস্থার হুমকি সেতুমন্ত্রীর করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৯৪৬ মানুষকে বাঁচানোই এখন একমাত্র রাজনীতি : কাদের ঢাকা-বেইজিং বাণিজ্য যোগাযোগ বাড়ানো হবে: চীনা রাষ্ট্রদূত করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৪৬২ উপযুক্ত পরিবেশ হলেই এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
১৮

এক রুবেলের বদলে আরেক রুবেল জেলে, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২০  

শুধু নামের মিল থাকায় এক রুবেলের অপরাধে আরেক রুবেলকে জেলে দেওয়ার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৩ জুন) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এক রুবেলের বদলে জেলে আরেক রুবেল শিরোনামে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পরে আদালত বিষয়টি দেখে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

পরে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, একটি দৈনিকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনি। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন।

পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কালুপুর সেতুর কাছ থেকে গাঁজা সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল পাঁকা ইউনিয়নের চরপাঁকা কদমতলা গ্রামের মন্টু আলীর ছেলে রুবেল আলী ওরফে রুবেল বাবুলকে (২৬)।

ওইদিনই এসআই আবদুস সালাম রুবেল বাবুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৬ ধারায় মামলা করেন (মামলা নং-১৫)। পরে তাকে জেলে পাঠানো হয়। ৫ দিন পর রুবেল মুক্তি পান। তিন দফা আদালতে হাজিরাও দেন। হঠাৎ তিনি উধাও হয়ে যান। ওই বছর ১০ জুলাই এসআই বাবুল ইসলাম আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুবেল বাবুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর পরোয়ানাটি দীর্ঘসময় পড়ে ছিল শিবগঞ্জ থানায়।

অবশেষে গত ১০ মার্চ রাতে ওই পরোয়ানামূলে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ পাশের জামাইপাড়া গ্রামের মো. মন্টুর ছেলে মো. রুবেলকে (২৩) গ্রেফতার করেন ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের গ্রামের বাড়ি থেকে। গ্রামের নাম আলাদা হলেও আসামি ও তার বাবার নামে মিল একজন নিরপরাধ অসুস্থ ব্যক্তিকে আড়াই মাস ধরে জেল খাটতে হচ্ছে।

নিরপরাধ রুবেলের বাবা মো. মন্টু ও এলাকাবাসী বলেছেন, কয়েক বছর আগে বন্দি রুবেল রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে দুই পা ভেঙে যায়। দুই বছর বিছানায়ই ছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা হাঁটতে পারলেও বাম পায়ে শক্তি নেই আজও।

অভাবের তাড়নায় সে জামাইপাড়ায় পাঁকা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের গ্রামের ফাঁকা বাড়িটিতে থেকে বাড়িটির দেখাশোনা করতেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। অপরদিকে মামলার মূল আসামি রুবেল আলী বছরখানেক আগে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। তার বাবা মন্টু আলী বলেন, ‘বছরখানেক আগে রুবেল গ্রাম ছাড়েন, ঠিক কোথায় গেছেন তা জানি না। তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই আমাদের।’

তবে অনেক চেষ্টার পর মূল আসামি রুবেল আলীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাকে কয়েক পুরিয়া গাঁজাসহ ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল ধরেছিল শিবগঞ্জ থানার এক কনস্টেবল। পরে এসআই আবদুস সালামের কাছে নিয়ে যায়। পরে মামলা হালকা করার জন্য সোনা মিয়া নামের একজন দালালের মাধ্যমে আমার কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা নেয় পুলিশ। পরে ওই সোনা মিয়াই উকিল ধরে আমার জামিন করান। আমাকে বলা হয়েছিল মামলাটি আর নেই। এরপর আর মামলার বিষয়ে খোজ-খবর নিইনি।’

জানতে চাইলে পাঁকা ইউপির ৯নং ওয়ার্ড সদস্য তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার হওয়া মো. রুবেল কিছুটা অসুস্থ ও স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারে না। তাকে গ্রেফতার করার দিন আমরা বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে জানাজানি হয় যে, এই রুবেল আসল রুবেল নয়। শুধু নিজের আর বাবার নামের মিল থাকায় পুলিশ নির্দোষ রুবেলকে গ্রেফতার করেছে। সঠিকভাবে যাচাই করলে এই ভুল হতো না।

এক রুবেলের বদলে আরেক রুবেলকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আলম শাহ বলেন, ‘মনে হচ্ছে গ্রেফতারের সময় তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। এখন নিশ্চিত হয়েছি আপনারা জানানোর পর। কীভাবে নির্দোষ রুবেলকে বের করা যায় আমরা সেটা ভেবে দেখছি।’

আদালত বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর