• শনিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৭

  • || ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

বরিশাল প্রতিবেদন
ব্রেকিং:
জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা তৈরি করা হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ১০ জেলায় করোনার অ্যান্টিজেন টেস্ট উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: তথ্যমন্ত্রী এমসি কলেজে গণধর্ষণ : ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৩১৬ বিদ্রোহী প্রার্থীদের পরবর্তীতে আর মনোনয়ন নয়: ওবায়দুল কাদের ঢাবি শিক্ষার্থী ধর্ষণ: ছাত্র অধিকার পরিষদের তিন নেতা রিমান্ডে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২১৯৮ বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিক হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ফাইজারের ভ্যাকসিন অনুমোদন দিলো যুক্তরাজ্য করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩১, শনাক্ত ২২৯৩ ঘরোয়া অনুষ্ঠানের কথাও পুলিশকে জানাতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ জানুয়ারি ভাস্কর্য নিয়ে উস্কানি ছড়ালে সরকার বসে থাকবে না: তথ্যমন্ত্রী চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, ২৮ প্রতারক আটক করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৯, শনাক্ত ১৭৮৮ মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বিএনপির গণতন্ত্র হচ্ছে ‘মুখে শেখ ফরিদ আর বগলে ইট’: কাদের ঢাকা থেকে পায়রাবন্দর পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে যাব: প্রধানমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন খান আর নেই

এক ভাস্কর্যে চারশ বছরের ঢাকা

বরিশাল প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০১৯  

মিরপুর শহীদবাগ এমন একটি জায়গা যেখানে গেলেই দেখবেন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সব নিদর্শন- আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, জাতীয় জাদুঘর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবনসহ নানা স্থাপত্য। ভাবছেন এ কি করে সম্ভব? এটি সম্ভব হয়েছে একটি ভাস্কর্যের কারণে।

জায়গাটি ঢাকা সেনানিবাসের সন্নিকটে। বর্তমানে ‘সাগুফতা’ নামে পরিচিত। কোলাহলমুক্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভাস্কার্যটির কারণে ইতোমধ্যেই জায়গাটি নগরবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে। ভাস্কর্যের নাম ‘শতবর্ষের ঢাকা’। সেখানে ফুটে উঠেছে ঢাকার চারশ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক নির্দশন। শুধু তাই নয়, সময়ের পরিক্রমায় জীবনাচারের পরিবর্তিত রূপও তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। এমনকি আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের যান্ত্রিক মানুষে পরিণত করেছে দেখা যাবে তার খোদাই করা ছবি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেয়াল আকৃতির উর্ধ্বমুখী অর্ধ গোলাকার ভাস্কর্যের দুই পাশে খোদাই করে এগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেখানে রয়েছে ঢাকার বিভিন্ন সময়ের যাতায়াত ব্যবস্থার চিত্র। যেমন ঐতিহ্যবাহী ঢাকার চিরপরিচিত বাহন ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা প্রভৃতি। মানে এক ভাস্কর্যের ভেতরেই অনেক কিছু।  যানজট কিংবা সময় স্বল্পতার কারণে যাদের ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো দেখার ফুরসত মেলে না, তারা এই ভাস্কর্যের মাধ্যমেই সেগুলোর ধারণা পাবেন।

ঢাকা বাংলাদেশের প্রাণ। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে চারশ বছরের পুরনো এই শহরটি আরো দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করেছে। অনেকেই ঢাকাকে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য যেকোনো কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করেন। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, ঢাকা নগরী বিশ্বের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি। শহরটিতে অসামান্য সুন্দর কিছু শৈল্পিক নিদর্শন রয়েছে। আছে এর ঐশ্বর্যমণ্ডিত ইতিহাস। এই শহরটি প্রতিষ্ঠা পাবার প্রায় শুরু থেকেই বঙ্গের রাজধানী ছিল। শহরের অনেক অলি-গলিতে এখনো অনেক নিদর্শন চোখে পড়ে।

‘পুরান ঢাকা’ নামে পরিচিত ঢাকার পুরোনো একটি স্থান যা অষ্টাদশ এবং ঊনবিংশ শতাব্দির ঐতিহ্য এবং নিদর্শন বহন করছে। লালবাগ কেল্লা যথারীতি পুরান ঢাকায় অবস্থিত। সপ্তদশ শতাব্দিতে বাংলার সুবেদার মুহাম্মদ আজম শাহ্ এটি নির্মাণ করেছিলেন। তিনশ বছরেরও বেশি সময় পার করে আজও এটি স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। সেটিও স্থান করে নিয়েছে এই ভাস্কর্যে। মাতৃভাষার জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছিলেন তাদের সম্মানার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন শহরের অনিন্দ্য সুন্দর একটি দর্শনীয় স্থান- সেটিও শোভা পাচ্ছে ভাস্কর্যে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকার সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে ২০০৬ সালের ১৮ জুন ভাস্কর্যটি তৈরির কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (১৬ ইসিবি)। কাজ শেষ হয় ২০১২ সালে। স্থাপনার কাছেই দেখা মেলে পাথরে খোদাই করা এক সাইনবোর্ড। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সড়কের সৌন্দর্য বর্ধন ও ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরতেই ‘শতবর্ষের ঢাকা’ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে ভাস্কর্যটি। এক মুহূর্তে ঢাকা দর্শনের পাশাপাশি ভাস্কর্যটির চারপাশের দৃশ্যও মনোরম। ব্যাংকার ফাহিম সিদ্দীক জানালেন, চারশ বছর ধরে ঢাকা শুধু এক জায়গায় থেমে নেই। বদলে গেছে নগর ঢাকা, বদলে গেছে তার নাগরিক জীবনধারা। মোটকথা, অসংখ্য ঐতিহ্যের সম্মিলন ঘটেছে ইট-পাথর আর সিমেন্টের তৈরি ওই নির্দশনে। তিনি আরো বলেন, আমি অভিভূত একপলকে ঢাকার পুরো স্থাপনা, ঐতিহ্য ও জীবনধারার পরিচয় পেয়ে।  শুধু ফাহিম নন, অনেকেই আসেন পরিবার নিয়ে শহীদবাগ চত্বরে। বাড্ডা থেকে আসা দর্শনার্থী আবু তালেব বলেন, আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারি ভাস্কর্যটির কথা। এদিকে কাজে এসেছিলাম। দেখে গেলাম। যাঁরা এটি তৈরি করেছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যাঁরা ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনও দেখেননি, তারা এখান থেকে ধারণা পাবেন।

ভাস্কর্যের পাশেই ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে ডাব বিক্রি করছিলেন বরিশালের আনিসুর রহমান। তার ভাষ্যমতে, বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে।  এই ভাস্কর্যের মাধ্যমে এলাকার সৌন্দর্যও বেড়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন স্থানীয় প্রবীন সাকের চৌধুরী। তিনি বলেন, এই নানন্দিক স্থাপনাটির পরিচর্যা দরকার। প্রয়োজনে এটি দেখভাল করার জন্য সার্বক্ষণিক কাউকে নিয়োজিত রাখতে হবে। না হলে এর সৌন্দর্যহানি ঘটবে।